ফিল্মোত্সব শুরু হওয়ার এক মাস আগে থেকেই সময়সূচী নির্ধারণ করা হয়ে গেছিল. ৫ই থেকে ১১ই অগাস্ট তাতারস্তানের রাজধানীতে আয়োজিত হচ্ছে এই ফিল্মোত্সব. ৫৪টি দেশ থেকে পেশ করা ৪৫০টি ছবি থেকে প্রতিযোগিতার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে ২৫টি দেশের ৪৯টি ফিচার, অ্যানিমেশন ও ডকুমেন্টারি ফিল্ম. সেই সব দেশের মধ্যে আছে মিশর, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী. –

‘রেডিও রাশিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে ফিল্মোত্সবের মুখ্য তত্ত্বাবধায়ক ভ্লাদিমির বাত্রাকভ বলছেন – আমাদের প্রতিযোগিতায় নিয়মিত যোগদানকারী দেশ আছে, যেমন ইরান ও তুরস্ক. এই দেশ দুটি মুসলিম চলচ্চিত্র জগতে সবচেয়ে অগ্রবর্তী.

এবারে কাজান ফিল্মোত্সবে ইউরোপের প্রতিনিধিত্বও নজর কাড়ার মতো. জার্মানী, ইতালি, অস্ট্রিয়া, সার্বিয়া, গ্রেট ব্রিটেন এবার প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে. –

আমাদের সংবাদদাতার সাথে সাক্ষাত্কারে ফিল্মোত্সবের শিল্প-নির্দেশিকা আলবিনা নাফিগোভা বলছেন – এবারের ফিল্মোত্সবে আছে প্রতিযোগিতা বহির্ভুত সমান্তরাল সিনেমা. প্রথম এরকম বিভাগ – ফরাসি ফিল্ম. দ্বিতীয় এরকম বিভাগ – হাঙ্গেরিয়ান ফিল্ম, দর্শকরা দেখতে পাবেন ইদানীংকালে নির্মিত তরতাজা কিছু হাঙ্গেরিয়ান ফিল্ম. তৃতীয় বিভাগে প্রদর্শন করা হচ্ছে জেনেভা আন্তর্জাতিক প্রাচী ফিল্মোত্সব থেকে নেওয়া কিছু স্বল্পদৈর্ঘ্যের ফিল্ম. পাশ্চাত্যকে প্রাচ্য দুনিয়া দেখানো ও প্রাচ্যকে পশ্চিমী দুনিয়া দেখানোর লক্ষ্যে আমাদের সাথে জেনেভা ফিল্মোত্সবের ভীষন সাদৃশ্য আছে. তাছাড়াও আমরা আলাদা বিভাগে প্রদর্শন করবো ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্যানোরামা. সম্প্রতি ঐ দেশ চলচ্চিত্রের শতবর্ষ পালন করেছে, তাই আমরা পৃথক বিভাগে ভারতের আধুনিক তরতাজা কিছু ফিল্ম প্রদর্শন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, দর্শকরা দেখতে পাবেন আধুনিক ভারতবর্ষ.

কাজান ফিল্মোত্সব ধর্মীয় সিনেমার প্রদর্শনী নয়. এর আয়োজক তাতারস্তানের সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়, আর তাই ইসলামি অংশটাকে অবিচ্ছেদ্য সাংস্কৃতিক অঙ্গ হিসাবে গণ্য করা যেতে পারে. তবে বাছাই হওয়া সব ফিল্মই ইসলামি মূল্যবোধের মাপকাঠির সাথে সাফল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে পেরেছে বলেই প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে.

কাজানে আন্তর্জাতিক মুসলিম ফিল্মোত্সবের শ্লোগান বিগত ৯ বছর ধরে একই রয়েছে – “বিভিন্ন কৃষ্টির সংলাপের মাধ্যমে সংলাপের সংস্কৃতি গড়ে তোলো!” আর চলতি ফিল্মোত্সবের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কয়েকটি যৌথ নির্মিত ফিল্মঃ স্পেন-কাতার, সুইজারল্যান্ড-মরক্কো, ফ্রান্স-সেনেগাল. –

আলবিনা নাফিগোভা বলছেন – “ঠিক এই যৌথ নির্মিত ফিল্মগুলিই আমার হৃদয় আন্দোলিত করেছে. এটা অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে বিশ্লেষন করা নয়, বাইরের সতেজ দৃষ্টি দিয়ে যাচাই করা. এটা ভীষন আগ্রহোদ্দীপক”.

নবম মুসলিম ফিল্মোত্সবে দর্শকদের দরবারে প্রদর্শন করা হচ্ছে দশটিরও বেশি রাশিয়ায় নির্মিত চলচ্চিত্র. এবং শুধুমাত্র মুসলমানরাই তাদের নির্মাতা নয়. যেমন, পূর্ণদৈর্ঘ্যের ফিচার ফিল্মের প্রতিযোগিতা বিভাগে জ্যুরি বেছে নিয়েছে বুরিয়াতিয়া প্রজাতন্ত্রের এক পরিচালক নির্মিত ছবি. প্রথাগতভাবে বুরিয়াতীয়রা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী.

ফিল্মোত্সবে জ্যুরিবোর্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জগদ্বিখ্যাত ‘মসফিল্ম’ কনসার্নের অধিকর্তা, রাশিয়ার সুবিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক কারেন শাখনাজারভ.