“গত বছরে এই ধরনের কাজ করার কথা প্রথমবার বলা হয়েছিল”, - আমাদের সাংবাদিক প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন মস্কো উপকণ্ঠের মুসলমানদের ধর্মীয় সভার সভাপতি রুস্তাম দাভীদভ, যিনি আবার পাদোলস্ক শহরের ইমাম. “কিন্তু সেটা ছিল অনেক কম সহায়তা: আমরা শুধু একা ও বয়স্ক মুসলমানদের সাহায্য করতে পেরেছিলাম. এবারে ব্যাপারটা হবে অনেক বেশী: তাতে শুধু একা থাকা লোকরাই নন, বরং যাদের কম অর্থ রয়েছে, আর যাঁরা প্রতিবন্ধী, তাঁদেরও সাহায্য করা হবে. আমরা সবার জন্যই উপহার সামগ্রী জড়ো করেছি, যার মধ্যে রয়েছে খাবার জিনিষ, খেলনা আর বইও. কিন্তু এই বিষয়ে সবচেয়ে বড় কথা হল উষ্ণতা, কথা বলা আর মনোযোগ দেওয়াটা. এটাই আমরা লোকের কাছে নিয়ে যাই”.

মস্কো থেকে তিরিশ কিলোমিটার দূরে এক লক্ষ লোকের শহর পুশকিনো, সেখানে মুসলমান সমাজ তৈরী হয়েছে প্রায় দশ বছর আগে. সেখানে আপাততঃ মসজিদ নেই, কিন্তু নির্দিষ্ট কাজ করা হচ্ছে – এটা নতুন আসা অভিবাসিত লোকদের রুশ ভাষা শেখানো, তাদের শহরের এলাকা সুন্দর করার কাজে লাগানো, আর নানা মুসলিম সমাজের উত্সব পালন করা.

পুশকিনো শহরের মুসলমানেরা এই “দয়া ও দাক্ষিণ্য” অনুষ্ঠানে প্রথম সারিতে যারা এসেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন:

“অনেক লোকই পেনশন পান, যাদের কেউ নেই – ছেলেমেয়ে নেই, নাতিনাতনি নেই. আমরা এই ধরনের লোকদের একটা তালিকা বানিয়েছি, আর তাঁদের আমরা হয় টাকাপয়সা দিয়ে নয়তো খাবার জিনিষ দিয়ে সাহায্য করে থাকি” – যার যা দরকার, - পুশকিনো শহরের ইমাম রামিল ফাসখুদিনভ এই কথা বলেছেন. “আমরা এই প্রশ্ন নিয়ে বিশেষ করে মনোযোগ দিয়ে থাকি. যেমন বিশেষ কিছু লোকের হয়ে তাদের বাড়ী ভাড়া ও অন্যান্য খরচ দিয়ে থাকি. বাচ্চাদের জন্যেও আমরা এই ধরনের নির্দিষ্ট কাজ করে থাকি. অনেক বাচ্চা সহ একটি পরিবারে একটি মেয়ের প্রয়োজন ছিল হুইল চেয়ারের, তা আমরা টাকা জমা করে কিনে দিয়েছি. গত বছরে পনেরো বছরের একটি ছেলের খুবই দামী আর গুরুতর অপারেশন করার দরকার ছিল. তার হয়েছে মগজের ক্যানসার. আমি এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের বেশীর ভাগটাই জড়ো করতে পেরেছি”.

দাক্ষিণ্য বিষয়টা আসলে কি? এটা হল দিয়ে দেওয়ার জন্যই তৈরী থাকা. প্রসঙ্গতঃ শুধু তাই দেওয়া নয়, যা তোমার অনেক আছে, বরং এমনকি নিজের প্রিয় আর দামী জিনিষও উদার মানুষ দিয়ে দিতে পারে. কারণ যত বেশী করে দেওয়া যায় – ততই বেশী করে পাওয়াও যায়!

মুসলমানদের কাছ থেকে এই ঈদুল ফিতরের উত্সবের দিন গুলিতে নিজেদের মধ্যেই হানাহানি বন্ধ করার দাক্ষিণ্য ছাড়া বিশ্ব আর কিই বা চাইতে পারে!