যেমন আক্রমণকারীদের একাংশ পাকিস্তানের নিয়মিত ফৌজী পোষাক পরেই ছিল, আর অন্য অংশ ছিল সাধারণ কাশ্মীরের জঙ্গীদের পোষাকে. ভারতের বিরুদ্ধে ঐস্লামিকদের সঙ্গে একযোগে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর লোকরা কি শেষমেষ বিশেষ অপারেশন করতে নেমেছে নাকি?

খুব সম্ভবতঃ, আমরা একটা রক্তাক্ত চক্রান্তের মতো সাজানো ঘটনার সাক্ষী হয়েছি, যা পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের প্রশাসনের উপরে একটা ছায়া হয়ে ফেলতে চাওয়া হয়েছে, এই রকম মনে করে আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“জম্মু ও কাশ্মীরের ঘটনা একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়েই যে করা হয়েছে – ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করার জন্যেই, তা নতুন করে প্রমাণিত হচ্ছে, যদি দিল্লী ও ইসলামাবাদকে নিয়ে অন্যান্য ঘটনা গুলিকেও বিশ্লেষণ করে দেখা হয়, তাহলে. খুব শীঘ্রই – আগষ্ট মাসের শেষে অথবা সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে, পক্ষরা ঠিক করেছিল সীমান্ত এলাকার জলের বণ্টন নিয়ে আলোচনা শুরু করার জন্য. তাছাড়া, রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভার সেপ্টেম্বর মাসের অধিবেশনের সময়ে নিউইয়র্কে ঠিক হয়েছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের সঙ্গে একান্তে দেখা করে নেবেন”.

পাকিস্তানে মে মাসের পার্লামেন্ট নির্বাচনে মুসলিম লীগ (ন) দলের বিজয় ও নওয়াজ শরীফের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনে, মনে হয়েছিল যে, আলোচনা শুরু হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তের বাতাবরণ তৈরী করতে পেরেছে. শরীফ পাকিস্তানের সেই ঈগল বা শকুনের দলে কখনোই ছিলেন না, যারা ভারতের বিরুদ্ধে আর পদে অভিষিক্ত হয়েই তিনি বার্তা দিয়েছিলেন যে, ভারতবর্ষের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে চান.

১৯৯৯ সালে নিজের পদচ্যুত হওয়ার অল্প কিছু আগেই নওয়াজ শরীফ স্বাক্ষর করেছিলেন লাহোর ঘোষণা, যা করা হয়েছিল ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক ও পারস্পরিক সহযোগিতা করার জন্যেই. কিন্তু সামরিক অভ্যুত্থানের পরেই ইসলামাবাদে ভারত পাকিস্তান সম্পর্কের মধ্যে ঠাণ্ডা হাওয়া বয়ে গিয়েছিল. আর ব্যাপারটা শুধু এই নিয়ে ছিল না যে, দীর্ঘ আট বছর ধরে ক্ষমতার শীর্ষে বসেছিলেন জেনারেল পারভেজ মুশারফ, যিনি এই অভ্যুত্থানের আগেই নিজের ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে বলে দিয়েছিলেন, আর শরীফের প্রশাসনের সঙ্গে সহমত না নিয়েই তিনি কাশ্মীরে সামরিক অপারেশন শুরু করেছিলেন. ভারতের নেতৃত্ব তখনও সেই মত থেকেই নিজেদের পথ স্থির করেছিল যে, ইসলামাবাদের সঙ্গে শক্তির অবস্থান থেকেই কথা বলতে হবে. এই বিরোধ চূড়ান্ত হয়েছিল ২০০২ সালের গ্রীষ্মে. যুদ্ধ অবধি অবশ্য সুখের কথা যে বিষয়টা গড়ায় নি, কিন্তু দুই দেশের নেতারাই তখন “যুদ্ধ” শব্দটা উচ্চারণ করেছিলেন, এই কথা বোঝাতে গিয়েই যে, তাঁরা যুদ্ধের জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত.

কিন্তু আজ ভারতের প্রশাসনে কোন জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টি নেই, যা ছিল সেই ২০০২ সালে, আর ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস - এটা এমন দল, যারা ইসলামাবাদের সঙ্গে অনেক ভারসাম্য বজায় রাখা অবস্থানেই থাকে. তার ওপরে ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান হয়েছেন একজন মুসলমান সলমন খুরশিদ, যিনি নিজের মন্ত্রীত্বের সময়ে একটি প্রাথমিক কাজ বলে মনে করেন পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করা, এই প্রসঙ্গে তোমিন বলেছেন:

“কাশ্মীরের ঘটনার পরেই ভারতের প্রশাসন একটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে. যদিও পাকিস্তান সরকারি ভাবে ঘোষণা করেছে যে, ভারতীয় সৈন্যদের উপরে আক্রমণের বিষয়ে তাদের কোনও যোগাযোগ নেই, তবুও ভারতের জনমত খুবই উত্তাল হয়েছে. সরকারের কাছ থেকে সিদ্ধান্ত মূলক কাজকর্ম আশা করা হচ্ছে, আর নির্বাচনেরও বেশী দেরী নেই. এই পরিস্থিতিতে মনমোহন সিংহের নড়াচড়া করার জায়গা খুবই কম. কড়া মনোভাব দেখিয়ে জনমত পাওয়ার চেষ্টা করলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ঠিক করার সুযোগ হারাতে পারে. এই ধরনের সুযোগ ইতিহাস ভারত ও পাকিস্তানকে খুব একটা বেশী দেয় নি. কারণ যদি ২০১৪ সালের নির্বাচনে ভারতে জনতা দলের জোট জিতে যায়, তবে তারা পাকিস্তানের প্রতি কড়া অবস্থান থেকে কাজ করতে চাইবে, আর এটা দক্ষিণ এশিয়ার দুটি পারমানবিক রাষ্ট্রের মধ্যে শুধু আরও দীর্ঘদিন ধরেই সেই “ঠাণ্ডা লড়াইকে” দীর্ঘায়িত করবে”.

এই পরিস্থিতিতে মনমোহন সিংহের প্রশাসন অন্য এক পথ ধরে চলতে পারে: কোন রকমের প্ররোচনার মধ্যে না পড়ে ইসলামাবাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারে. যদি এই আলোচনা ফল দেয়, তবে এটা কংগ্রেস দলকে নির্বাচনে সহায়তা করতে পারে, তাদের জন্য উল্টো হওয়ার কাজ না করেই.