এই দিন গুলিতে দক্ষিণ ককেশাস পর্ব্বতমালার দুটি প্রজাতন্ত্র সত্যই বহু কষ্টে পাওয়া উত্সব পালন করছে, যার জন্য খুবই বড় দাম দিতে হয়েছিল. সোভিয়েত দেশ ভেঙে যাওয়ার পরে ১৯৯১ সালে জর্জ্জিয়ার প্রশাসন শক্তি প্রয়োগ করে চেষ্টা করেছিল দক্ষিণ অসেতিয়া ও আবখাজিয়ার জনগনকে নিজেদের সঙ্গে জোর করে জুড়ে ফেলতে আর তাদের জাতীয় অস্তিত্ব ও স্বাধীনতাকে খর্ব করতে. কিন্তু ২০০৮ সালের আগষ্ট মাসে জর্জ্জিয়ার রাষ্ট্রপতি মিখাইল সাকাশভিলি তাঁর পূর্বসূরিদের সকলকে পার হয়ে গিয়ে এক অপরাধের নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা ছিল নিরীহ জনগন ও রাশিয়ার শান্তি রক্ষক বাহিনীর উপরে আক্রমণ করা নিয়ে. জর্জ্জিয়ার সামরিক বাহিনীর লোকরা কোন কিছুই মানে নি, তারা সবচেয়ে নৃশংস ও ঠাণ্ডা মাথায় খুন করেছিল. তবিলিসি শুধু একটাই হিসাব করতে ভুলে গিয়েছিল যে, মস্কো এই ধরনের ন্যক্কারজনক পরিস্থিতিতে চুপ করে থাকবে না, যা শুধু আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘণ করেই করা হয় নি বরং যাতে মানুষের মৌলিক বিবেকের প্রশ্নকেও ভুলে যাওয়া হয়েছিল. ফলে রাশিয়ার সেনা বাহিনী দক্ষিণ অসেতিয়া দেশে ঢুকে এই জর্জ্জিয়ার বাহিনীকে তাড়িয়ে একেবারে তাদের দেশের প্রত্যন্ত এলাকা অবধি পৌঁছে দিয়ে এসেছিল. আর ঠিক তার দুই সপ্তাহ পরে রাশিয়া দক্ষিণ অসেতিয়া ও আবখাজিয়া রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে স্বীকার করেছিল. আজ সেই সমস্ত দিন গুলির ঘটনাকে মূল্যায়ণ করা সম্ভব আর বোধগম্য হয় রাশিয়ার নেতৃত্বের পক্ষ থেকে করা কোন রকমের সমঝোতা ছাড়া অবস্থান, এই রকম মনে করে বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির ঝারিখিন বলেছেন:

“বিগত পাঁচ বছরে দেশ গুলির একজন নাগরিকও নিহত হন নি, তেমনই একজন রুশ সেনারও প্রাণ যায় নি. এই রকম আগে কখনও হয় নি. তার মানে হল যে, যা ঘটেছে তা সবটাই এই এলাকার জনসাধারণ ও আমাদের সৈন্যদের জন্য বালই হয়েছে. মস্কোর পক্ষ থেকে প্রত্যুত্তর ছিল যথেষ্ট. এই ধরনের কড়া শিক্ষা পাওয়ার ফলেই জর্জ্জিয়ার পক্ষ থেকে খুবই দ্রুত নিজেদের সক্রিয়তা কমিয়ে ফেলা হয়েছিল. রাশিয়া আবখাজিয়া ও দক্ষিণ অসেতিয়ার সঙ্গে সামরিক চুক্তি করেছে, যার ফলে এই সব দেশ গুলির উপরে আক্রমণের অর্থ হবে রাশিয়াকে আক্রমণ করা ও তার পরিণাম হবে সমস্ত রকমেরই, যা হতে পারে”.

একেবারেই মানবিক এক মিশন ছাড়াও, ২০০৮ সালে মস্কো একেবারেই অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও, নিজেদের কোন রকমের প্রয়োজন ছাড়াই একটি নির্দিষ্ট ভূ-রাজনৈতিক কাজ সম্পন্ন করেছিল. জর্জ্জিয়ার প্রশাসন - রাশিয়ার প্রতিবেশী হয়েও ন্যাটো জোটের সঙ্গে যোগ দেওয়ার জন্য খুবই চেষ্টা করছিল. আর বলা দরকার যে, তা মোটেও একতরফা ভাবে নয়. শুধুমাত্র আমেরিকার লোকদেরই এই এলাকাতে সক্রিয়তা প্রত্যেক বছরের সঙ্গেই বেড়ে যাচ্ছিল: তারাই জর্জ্জিয়ার সামরিক বাহিনীর লোকদের সশস্ত্র করেছিল ও প্রশিক্ষণ দিয়েছিল, আর আগষ্টে দক্ষিণ অসেতিয়ার নিরীহ লোকদের উপরে তারাই আক্রমণ করেছিল.

বোঝাই যাচ্ছে যে, ন্যাটো জোটের এত কাছে থাকার ভবিষ্যত সম্ভাবনা মস্কোর পছন্দ হয় নি. প্রসঙ্গতঃ জর্জ্জিয়া, দক্ষিণ অসেতিয়া আক্রমণ করে নিজেরাই নিজেদের ন্যাটো জোটে যোগদানের সম্ভাবনাকে নষ্ট করেছে. জোটের স্রেফ এই ধরনের সমস্যা সমেত নতুন সদস্য প্রয়োজন নেই, যাদের সমস্যা স্বয়ংক্রিয় ভাবেই সমস্ত ব্লকের উপরেই ছড়িয়ে পড়তে পারে.

বিগত সময়ে দক্ষিণ ককেশাসের প্রজাতন্ত্র গুলি রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে ভরসা যোগ্য ভাবে রক্ষিত হওয়ার ফলে নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনী, পরিকাঠামো ও অর্থনীতিকে উন্নত করার সম্ভাবনা পেয়েছে, তারা নিজেদের সামাজিক কাজ কর্মও করতে পারছে, যা অবহেলিত ছিল প্রাক্তন সোভিয়েত দেশ বেঙে যাওয়ার পর থেকে ও জর্জ্জিয়ার পক্ষ থেকে নিয়মিত ভাবে টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্যেও. রাশিয়া সহকর্মী এই দেশ গুলিকে আর্থিক ও আয়োজন সংক্রান্ত সহায়তা দিয়েছে. কিন্তু সবচেয়ে বড় হল যে, নতুন এই রাষ্ট্র গুলি স্বাধীনতার প্রথম স্বাদ, তা সব সময়ে লঘু না হলেও পেতে শুরু করেছে.