উচ্চ শিক্ষায়তন থেকে পাশ করার পরে স্নাতকদের কর্মসংস্থানের বিলিবন্টনের সোভিয়েত নীতি পুনরায় গ্রহণ করতে সাংসদদের প্ররোচিত করেছে দুটি ব্যাপার. প্রথমতঃ সদ্য পাশ করা পেশাদাররা একেবারেই রাশিয়ার দূরদূরান্তে গ্রামাঞ্চলে চাকরি করতে যেতে অনিচ্ছুক, এবং মফঃস্বলে যোগ্য শিক্ষাপ্রাপ্ত পেশাদারদের বিপুল ঘাটতি. অন্যদিকে যুব সম্প্রদায়ের মধ্যেও বেকারীত্বের সমস্যা. পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাশিয়ায় মোট বেকারদের ৪০ শতাংশেরই বয়স ৩৫ বছরের নীচে. বেসরকারী সংস্থাগুলি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লোক খোঁজে. আর সরকারী চাকরিতে যুব সম্প্রদায়ের পোষায় না বেশ কয়েকটি কারণে – বলছেন রাজনৈতিক প্রযুক্তি কেন্দ্রের উপাধ্যক্ষ আলেক্রেই মাকারকিন. –

আধুনিক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করার সময়ই তাদের হিসাবে ভালো চাকরিগুলোর ওপর খেয়াল রাখে, বিশেষতঃ প্রধান মানদন্ড হয় বেতনের হার. অনেকেই নিজের নির্বাচিত শাখায় চাকরি করে না. কেউ হয়তো কলাবিদ্যার স্নাতক হয়েও বড় মাইনের মোহে লগ্নিকারী কোনো বৃহত্ সংস্থায় কাজ করতে চলে যায়. কিন্তু অধিকাংশের ভাগ্যেই সেরকম শিঁকে ছেঁড়ে না. আর তাই যুব সম্প্রদায়ের এক বড় অংশ বেকার বসে থাকে. এবং তারা আশা করে থাকে, যে রাষ্ট্র তাদের ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে – দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা সম্পন্ন ভালো চাকরি জুটিয়ে দেবে, তাও আবার বাড়ির কাছাকাছি.

তবে রাষ্ট্রের কিন্তু এই বিষয়ে অন্যরকম চিন্তাধারা. রাষ্ট্র চায় সবার আগে সেই সব শূ্ন্য পদ পূরণ করতে, যেগুলি আপাতদৃষ্টিতে আদৌ আকর্ষনীয় নয়. যেমন গ্রামীন হাসপাতালের চিকিত্সক, রাশিয়ার দূরদূরান্তে পাড়াগাঁয়ে শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের পদ, - বলছেন রাজনৈতিক প্রযুক্তি কেন্দ্রের উপাধ্যক্ষ আলেক্সেই মাকারকিন. –

রাষ্ট্র চাইছে, যাতে যুবকযুবতীরা সেই সব ক্ষেত্রে এবং সেই সব অঞ্চলে চাকরি করে, যেটা রাষ্ট্র নিজে নিরূপণ করে দেবে. সাধারণতঃ এই সব চাকরি তাদের জন্য আকর্ষনীয় নয়, বেতন সেখানে অল্প. যদি কেউ সেরকম চাকরি নিতে অস্বীকার করে, তাহলে তাকে উচ্চ শিক্ষায়তনে ভর্তির সময় তার দ্বারা স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্রে উল্লিখিত পড়াশোনার খরচা কড়ায়গন্ডায় মিটিয়ে দিতে হবে. হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের উপাধ্যক্ষ লেভ ল্যুবিমভের মতে এরকম কার্যনীতি শুধু আংশিকভাবে সমস্যাটির সমাধান করতে সক্ষম. –

বিগত ৫০ বছরে বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থায় তুমুল পরিবর্তন ঘটে গেছে, এখন যুব সম্প্রদায়ের প্রায় ৮০ শতাংশ উচ্চশিক্ষার্থী. এই পরিস্থিতিতে উচ্চ শিক্ষায়তন থেকে ডিগ্রি লাভ করার পরে তাদের কর্মনিয়োগ স্থলের বন্টনের নীতির দরুন ১৫-২০% উচ্চশিক্ষার্থী বিদেশে পাড়ি দেবে উচ্চ শিক্ষা লাভ করার উদ্দেশ্যে. সেই কারণেই তার মতে কোনো বিলিবন্টনের নীতি গ্রহণ করার দরকার নেই. দরকার খুব সহজ একটা ব্যবস্থা. উচ্চশিক্ষার্থীদের মোট ২৫%কে সরকারী খরচায় পড়ানো, বাকিদের যদি একান্তই প্রয়োজন হয় স্নাতক ডিগ্রির, তাহলে তারা নয় নিজেদের পকেটের রেস্ত খরচ করে উচ্চ শিক্ষা পাক.

আরও একটা পদ্ধতি হচ্ছে এরকম, যে উচ্চশিক্ষার্থীর পড়াশোনার ব্যয় বহন করবে কোনো বেসরকারি কোম্পানী, আর ডিগ্রি পাওয়ার পরে সেই স্নাতক বাধ্য থাকবে ইতিপূর্বে দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী নির্দিষ্টকাল ঐ কোম্পানীতে চাকরি করতে. এই ধারাটিও খুব সম্ভবত নতুন খসড়া আইনে প্রতিফলিত হবে.