বিগত দিন গুলিতে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সংবাদ এসে পৌঁছচ্ছে সিরিয়ার উত্তর- পশ্চিমের এলাকা থেকেই. সেখানে প্রায় সাড়ে চারশো বন্দীকে হত্যা করা হয়েছে. তাদের মধ্যে ১২০টি – শিশু, বাকীরা – নারী ও বৃদ্ধ মানুষ. এই বন্দীরা ছিল কুর্দ গেরিলা বাহিনীর লোকদের পরিবারের সদস্য, যারা বর্তমানে এই জঙ্গীদের বিরুদ্ধে কঠোর লড়াই করছে. কিন্তু আলেপ্পোর উত্তরে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী কুর্দ এলাকাকে ঘিরে ফেলেছে. ঘেরাও হয়ে রয়েছেন প্রায় দশ লক্ষ মানুষ. কুর্দ রাজনৈতিক দল “গণতান্ত্রিক জোট”, সিরিয়ার কুর্দ জনগনের মূল দল, এই প্রসঙ্গে সর্বজনীন যুদ্ধ যোগদানের কথা ঘোষণা করেছে. বহু শত মানুষ এখন দ্রুত সামরিক প্রস্তুতি প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ও প্রহরা চৌকী এবং লড়াইয়ের সামনের সারিতে গিয়ে যোগ দিচ্ছেন.

জঙ্গীরা কে ও কিসের জন্য এই ধরনের দৃষ্টান্ত মূলক নৃশংসতা দেখাচ্ছে, কারণ এটা করে তো তারা নিজেদের বিরুদ্ধেই কাজ করছে? স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে তাদের যুক্তি বোধগম্য নয়, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ও বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সের্গেই দেমিদেঙ্কো বলেছেন:

“তারা মহিলা ও শিশুদের হত্যা করছে, তারা সাধারন মানুষদের বন্দী এই কারণে করছে না যে, তা দিয়ে বাশার আসাদের প্রশাসনকে হঠিয়ে দিতে সক্ষম হবে. বরং সেই কারণেই করছে যে, তারা অন্য কোথাও অন্য কোন ভাবেই কিছু করে নি. তারা এটা করেছে আলজিরিয়াতে, ইরাকে, লিবিয়াতেও. এই ধরনের কাজ কারবার দিয়ে তারা শুধু নিজেদের সামাজিক ভিত্তিই ধ্বংস করে ফেলছে. কিন্তু তারা এটা নিয়ে ভাবছে না”.

সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদ গতকাল দামাস্কাসে ঘোষণা করেছেন যে, বিরোধী পক্ষের জঙ্গীদের সঙ্গে কোন আলোচনা করা হবে না ও তা হতেও পারে না, আর তিনি আহ্বান করেছেন সন্ত্রাসবাদীদের উপরে “লৌহমুষ্টি” দিয়ে আঘাত করার. তিনি ঘোষণা করেছেন যে, সন্ত্রাসবাদীদের শেষ করা যেতে পারে কয়েক মাসের মধ্যেই.

সরকারি ফৌজ সত্যই এখন একের পর এক জায়গায় জিতে চলেছে. কিন্তু সেই সময়সীমা – যা আসাদ ঘোষণা করেছেন যে, কয়েক মাস, তা অবাস্তব বলেই মনে হচ্ছে, এই কথা উল্লেখ করে “রেডিও রাশিয়াকে” আরব দেশ গুলির সঙ্গে মৈত্রী ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা সমাজের সভাপতি ভিয়াচেস্লাভ মাতুজভ বলেছেন:

“আমি মনে করি যে, সিরিয়ার বিরোধীদের পশ্চিমের তরফ থেকে সমর্থনের ভাণ্ডার খরচ হয়ে কমে এসেছে. এই সমস্ত যুদ্ধই পশ্চিমের তরফ থেকে খুবই শক্তিশালী আর্থিক সমর্থনের ফলেই হয়েছে. এই সমর্থন সেই কারণেই কমে আসছে যে, এই এলাকার সেই সমস্ত দেশ যারা জঙ্গীদের সাহায্য করেছিল, তাদেরই রসদ কমে আসছে বলে. আর পশ্চিমকে রাশিয়া, চিন ও ব্রিকস গোষ্ঠীর অন্যান্য দেশগুলি রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে খোলাখুলি ভাবে এই দেশের গৃহযুদ্ধে বিরোধী পক্ষ ও ভাড়াটে সৈন্যদের সঙ্গে যোগ দিতে দিচ্ছে না সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে. আর দেশের ভিতরে শক্তির অবস্থান দেশের প্রশাসনেরই অনুকূলে রয়েছে”.

তা স্বত্ত্বেও, বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, কয়েক মাস বাদে সিরিয়াতে শান্তি মনে তো হয় না যে, প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে. আপসে অনিচ্ছুক বিরোধী পক্ষের ও ভাড়াটে সৈন্যদের দিকে সমর্থন, যা বাইরের দেশ থেকে এসে পৌঁছচ্ছে, তা কমেছে, কিন্তু শেষ হয়ে যাচ্ছে না. আর এই সমর্থন সিরিয়ার ট্র্যাজেডিকেই দীর্ঘসূত্রী করে তুলবে, যা শুধু নতুন ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যাই আরও বাড়িয়ে যাবে.