সেটা ছিল ১৯৪১ সালের অগাস্ট, সোভিয়েত ইউনিয়নের উপর হিটলারের নাত্সী জার্মানীর নারকীয় হামলার দ্বিতীয় মাস. ভারতে মহান কবি ও দার্শনিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তখন অন্তিমশয্যায়. যখনই তাঁর হুঁশ ফিরতো, তক্ষুণি জিজ্ঞাসা করতেন – “রাশিয়ায় কি অবস্থা?” রাশিয়ার অবস্থা ছিল একেবারেই সঙ্কটজনক – নাত্সী ফৌজ মস্কোর অভিমুখে দৃঢ় পদক্ষেপে অগ্রসর হচ্ছিল. মুমুর্ষু কবির হৃদয় বিদীর্ণ না করার জন্য তাকে বলা হয়েছিল, যে জার্মানদের রুখে দেওয়া হয়েছে. গুরুদেব আলতো হেসে ফিসফিসিয়ে বলেছিলেন – এই অসাধ্য সাধন করতে পারে - “শুধুমাত্র ওরাই, শুধু ওরাই”. রবীন্দ্রনাথ ১৯৩০ সালে মস্কোয় এসেছিলেন, সাক্ষাত্ করেছিলেন বুদ্ধিজীবি, কৃষক, শ্রমিকদের সাথে. সেই সম্পর্কে তাঁর অন্তরোপলব্ধি তিনি লিপিবদ্ধ করে রেখে গেছেন তাঁর ‘রাশিয়ার চিঠি’ নামক সুবিদিত গ্রন্থে. “সামান্য দশ বছরের মধ্যে এই দেশে শুধু লক্ষ লক্ষ মানুষকে সাক্ষরই করে তোলা হয়নি, আরও, তাদের মধ্যে অঙ্কুরিত হয়েছে আত্মমর্যাদার বীজ”. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লোকান্তরিত হন ১৯৪১ সালের ৭ই অগাস্ট (২২শে শ্রাবণ).

বর্তমানে পাকিস্তানের সাথে রাশিয়ার সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশ একটা চনমনে ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে. পাকিস্তান ১৪ই অগাস্ট তার স্বাধীনতা প্রাপ্তির ৬৬-তম বার্ষিকী পালন করবে. ২০০৫ সাল থেকেই পাকিস্তান শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার নজরদারের মর্যাদা পেয়েছে. রাশিয়া ও পাকিস্তানের মধ্যে ২০১৩-২০১৫ সালের জন্য সাংস্কৃতিক ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার মুখে, যার আওতায় ইসলামাবাদে রুশী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পুনরায় চালু করা হবে এবং সেখানে রুশী ভাষা শিক্ষাদানের কোর্স খোলা হবে, যেমনটি বর্তমানে আছে করাচিতে. তাছাড়াও পাকিস্তানের পার্লামেন্ট ও রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় দ্যুমার মধ্যে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করার ব্যাপারেও বোঝাপড়া হয়েছে.

এই বছর ১৫ই অগাস্ট ভারত স্বাধীনতা অর্জনের ৬৬-তম বার্ষিকী পালন করবে. বিগত এই সময়ে ভারত পৃথিবীর অন্যতম দ্রুত উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে. ভারতের শিল্পায়ণে বিরাট ভূমিকা রেখেছে আমাদের দেশ.

আজকের দিনে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সহযোগিতা আর্থ-বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এবং অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বহুমুখী.

১৯৭৫ সালের ১৫ই অগাস্ট বাংলাদেশ গণ প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবর রহমান সামরিক অভ্যুত্থানে খুন হন. তাঁর অকালমৃত্যুর তিন বছর আগে মস্কোয় সরকারী সফর কালে স্বাক্ষরিত একগুচ্ছ চুক্তিপত্র আমাদের দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল. বর্তমান পর্যায়ে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রচন্ড অনটন, যা মুলতঃ বিদ্যুত্পাদী কেন্দ্রগুলিতে এবং সার উত্পাদন কারখানাগুলিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে. চুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়ার ‘গাসপ্রোম’ জুলাই মাসে গ্যাস নিষ্কাশনের জন্য প্রথম পাইপটির ড্রিলিং সম্পন্ন করেছে এবং মে মাস থেকে পরীক্ষামুলকভাবে নিষ্কাশন করার পরে সেখান থেকে দৈনিক ৬ লক্ষ কিউবিক মিটার পর্যন্ত গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে বলে গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে.

তাঁর একাধিক রাশিয়া সফরের একটিতে ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গাঁধী বলেছিলেন – “সভ্যতার বিকাশে মানবজাতিকে আমাদের দুই দেশ সমৃদ্ধ করেছে আমাদের দার্শনিক, শিল্পী, বিজ্ঞানী, চিন্তাবিদ, রাষ্ট্রীয় নেতাদের প্রাজ্ঞতা দিয়ে”. রুশবাসীরা তাকে ভীষন ভালোবাসতো. ২০শে অগাস্ট প্রয়াত রাজীব গাঁধীর বয়স ৬৯ বছর পূর্ণ হতে পারতো.