দু’বছরের জন্য কর ছাড়ের বন্দোবস্ত অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় সমস্ত ক্ষুদ্র উদ্যোগের জন্যই করতে বলছে না, বরং বলছে শুধু তাদের জন্যই, যারা প্রথম নিজেদের ব্যবসাকে নথিভুক্ত করবে. এটা অনভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের নিজেদের জায়গায় উঠে দাঁড়াতে ও লাভ করা শুরু করতে সাহায্য করবে. ফলে একটা নির্দিষ্ট সময় ধরে অপেক্ষা করার পরে দেশ পাবে স্থিতিশীল কাজের জায়গা আর জাতীয় উত্পাদনের উন্নয়ন এবং বেশী ক্ষমতা সম্পন্ন করদাতাদের, এই রকম মনে করে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠীর নেতা ইভসেই গুরভিচ বলেছেন:

“কর ছাড় দেওয়ার সময় সীমা নির্ধারণ করা শুধু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের জন্যই ভাল খবর নয়, এটা সারা রাশিয়ার অর্থনীতির জন্যই ভাল খবর. আমাদের এখন দেশের গড় বার্ষিক উত্পাদনের গতিতে মন্দা এসেছে আর এই ক্ষুদ্র ব্যবসা এর উন্নতির জন্য একটা নতুন ইঞ্জিন হতে পারত. আমরা সামান্য কিছু আগেই দেখতে পেয়েছি যে, ক্ষুদ্র ব্যবসা যথেষ্ট সক্রিয় ভাবেই করের পরিবর্তনের উপরে প্রতিক্রিয়া করে থাকে. অংশতঃ, সামাজিক করের হার বাড়িয়ে দেওয়ার পরে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে”, উদাহরণ দিয়েছেন ইভসেই গুরভিচ.

এই বছরের শুরুতে রাশিয়াতে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বীমা ও অন্যান্য করের মাত্রা. এই ধরনের চাপ সমস্ত ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকা কোম্পানীরা সহ্য করতে পারে নি. ২০১৩ সালের প্রথমার্ধেই রেজিস্ট্রি থেকে নিজেদের পরিচয় প্রত্যাহার করে নিয়েছে প্রায় পাঁচ লক্ষ কোম্পানী – তাদের মালিকরা কেউ বাধ্য হয়েছেন নিজেদের ব্যবসা বন্ধ করতে অথবা তাদের মধ্যে অন্য কিছু লোক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বেআইনি ভাবে. ফলে রাশিয়াতে সরকারি ভাবে কাজ না করা লোকের সংখ্যা বেড়েছে, আর দেশের বাজেটের উপরে সামাজিক চাপও বেড়ে গিয়েছে.

ক্ষুদ্র ব্যবসাকে রক্ষা করতে বহু সংখ্যক সংস্থাই এগিয়ে এসেছিল. তাদের মধ্যে রাশিয়ার ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি জোট আর শিল্প বাণিজ্য চেম্বার. তারা রাশিয়ার মন্ত্রীসভাকে প্রস্তাব করেছিল দেশে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ বাড়ানোর জন্য নানারকমের পথের, আর তা একটা বিষয়েই এক ছিল যে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের জন্য করের বিষয়ে ছাড় দেওয়া প্রয়োজন.

এই প্রশ্নকেই আবার করে দেখার জন্য রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের উপরে দায়িত্ব দিয়েছিলেন. সেখানে থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে সদ্য নথিভুক্ত কোম্পানীদের উপরে শুধু বীমা ও বার্ধক্য ভাতা সংক্রান্ত কর রেখে বাকী সব সাময়িক ভাবে ছাড় দেওয়ার.

আসন্ন সময়েই রাশিয়ার মন্ত্রীসভা এই প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করবে.