আন্তর্প্রজাতি সম্পর্কের বিষয়টি যে কোন বহুজাতিক দেশেই জটিল. রাশিয়া এখানে কোন রকমের ব্যতিক্রম নয়. শুধুমাত্র এখানের অধিবাসী প্রজাতি ১৮০টিরও বেশী, এর সঙ্গে আরও যোগ হতে পারে কম সংখ্যক উপজাতির লোকরা. বহু শতক ধরেই একে অপরের সঙ্গে থাকতে গিয়ে তারা আজ অনেকটাই পারস্পরিক বোঝাপড়া করে নিয়েছে. যদিও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জাতির প্রতিনিধিদের মধ্যে বিরোধ বেঁধে যায় সাংস্কৃতিক- ধর্মীয় ভিত্তিতে অথবা জাতিগত কারণেই. তার ওপরে আবার রাশিয়ার এলাকায় প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের বহু রাজ্যের নাগরিকরাই বর্তমানে থাকেন, এছাড়াও থাকেন অন্য দেশের মানুষরাও. আর যদি সোভিয়েত দেশের সময়ে জাতিগত মৈত্রীর বিষয়ে ব্যাপক মনোযোগ দেওয়া হয়ে থাকে, তবে সেই সোভিয়েত দেশে ভেঙে যাওয়ার পরে রাশিয়াতে জাতি সংক্রান্ত রাজনীতি নিয়ে কেউই খুব একটা মনোযোগ দিয়ে কাজ করে নি, এই কথা উল্লেখ করে সমাজবিদ্যা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মী লিওন্তি বীজভ বলেছেন:

“রাশিয়ার সমাজ বহু দিন ধরেই অপেক্ষা করেছে যে, রাষ্ট্র ও প্রশাসন শেষ অবধি জাতীয় রাজনীতি নিয়ে একটা অবস্থান গ্রহণ করবে. আধুনিক রাশিয়াতে তা প্রায় ছিলই না, আর আন্তর্প্রজাতি ক্ষেত্রে সমস্যা খুবই দ্রুত বেড়ে গিয়েছিল. এখন পরিস্থিতি একেবারেই বিস্ফোরক হয়েছে. অভিবাসিত মানুষদের জোয়ার অভাবনীয় রকমের বেশী. এটা রাশিয়ার অধিবাসীদের বিরক্ত করেছে. বাস্তবে, বিভিন্ন আলাদা গোষ্ঠী ও রাশিয়ার অধিবাসীরা একেবারেই আলাদা রকমের আইন অনুযায়ী বেঁচে রয়েছেন, তা যেমন স্বীকৃত আইনের বিষয়ে, তেমনই অলিখিত নিয়মের প্রসঙ্গে বলা যেতে পারে. অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের একটা বিভাজন চলছে, প্রায়ই তা হচ্ছে স্থানীয় লোকদের অনুকূলে যাওয়ার মতো নয়, এমন ভাবে. সুতরাং সমস্যা যথেষ্ট”.

আর তাই এই বছরে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশ অনুযায়ী প্রথমে ২০২৫ সাল অবধি রাশিয়ার জাতীয় রাজনীতির খসড়া গৃহীত হয়েছে, আর তারপরে শুরুর পর্যায়ে বাস্তবায়ন করার জন্য ব্যবস্থার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে. তার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন গোষ্ঠী সংস্কৃতি নিয়ে উত্সব করা, নানারকমের ধর্ম নিরপেক্ষ অনুষ্ঠান ও খেলাধূলার ব্যবস্থা করা, প্রদর্শনী করা ইত্যাদি. বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মচারীদের আবার করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যেখানে তাঁদের মনে করিয়ে দেওয়া হবে জাত, বর্ণ, ভাষা, ধর্ম নির্বিশেষে সমস্ত নাগরিকদেরই সমান অধিকার নিয়ে. সেখানে আন্তর্প্রজাতি বিরোধ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে আগে থেকেই সাবধান হওয়ার জন্য বিশেষ প্রকল্প তৈরী করা হবে.

পরিকল্পনা খুবই ভাল, কিন্তু প্রশ্ন হল যে, কি করে তা বাস্তবায়িত করা হবে, এই বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে মন্তব্য করেছেন “একবিংশ শতকের অভিবাসন” তহবিলের সভাপতি ভিয়াচেস্লাভ পস্তাভনিন, তিনি বলেছেন:

“এটা ভাল, যে, সেখানে সব কিছুই লেখা হয়েছে, কিন্তু এটা কে করবে? কারণ এটা করার দরকার প্রত্যেক দিনই, এটা একটা রুটিন মানা কাজ, তার দায়িত্ব রয়েছে, পেশাদারীত্বের প্রয়োজন রয়েছে. তাতে রাষ্ট্রীয় সংস্থা গুলিকে কাজে লাগাতে হবে, বিশেষ করে স্থানীয়ভাবে. সেই গুলির প্রয়োজন পড়বে বাস্তবে খুবই কড়া ভাবে সবকিছু খেয়াল রাখতে আর সমস্ত রকমের জাতীয়তাবাদের উদ্ভবেরই মূল্যায়ণ করার. আর এর জন্য দায়িত্ব নিতে বাধ্য হবেন ধর্মীয় নেতারা, পৌর সভার প্রধানরা. এটা একটা রাষ্ট্রীয় স্তরে, খুঁটিয়ে করা ও প্রাত্যহিক কাজ. স্রেফ পরিকল্পনা লিখে ফেলা - এটা কোন অর্থ এখনও বহন করে না”.

কিন্তু এখানে মনোযোগ দেওয়া দরকার যে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার জন্য খুবই সক্রিয়ভাবে সামাজিক সংস্থা গুলিকে জোড়া হচ্ছে. সেই সমস্ত বেসরকারি অবাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও সমাজ, যারা রাষ্ট্রকে এই বিষয়ে সহায়তা করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যাতে আন্তর্প্রজাতি সম্পর্কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হয়, আর তারই মধ্যে, শিক্ষামূলক প্রকল্পের মাধ্যমে, তাদের জন্য অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে. আর যদিও সন্দেহ প্রবণ লোকরা বিশেষ করে জোর দিয়ে বলছেন যে, রাশিয়ার মতো, এই ধরনের বহু বর্ণ বিশিষ্ট প্রজাতির দেশে সম্পূর্ণ ভাবে আন্তর্প্রজাতি বিরোধ বাদ দেওয়া যেতে পারে না, তবুও এটাকে একেবারেই কমিয়ে ফেলা – সম্ভব. জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য যে ব্যবস্থা হচ্ছে, তাই প্রমাণ করে দেয় যে, এই কাজ রাশিয়ার প্রশাসনের মনোযোগের কেন্দ্রে রয়েছে.