পারমাণবিক অস্ত্রের প্রথম পরীক্ষা করা হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে. নিউ মেক্সিকো রাজ্যে ১৯৪৫ সালে একটি বোমার বিস্ফোরক কাজ করানো হয়েছিল, যার ক্ষমতা ছিল কুড়ি কিলোটন ডাইনামাইটের সমান. তারপরে একমাসও পার হয় নি, যখন এই বোমার ধ্বংসের ক্ষমতা সারা বিশ্বই দেখতে পেয়েছিল জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহরে. তারপর চার বছর বাদে সোভিয়েত দেশে শুরু করা হয়েছিল পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা, তারপরে করেছিল গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স ও চিন. ১৯৬১ সালে হিম সমুদ্রের নোভায়া জেমলিয়া নামের জায়গায় সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণ করা হয়েছিল. সোভিয়েত দেশের বোমা, যাকে পশ্চিমে বলা হয়েছিল “জার- বোমা” বলে, তা ছিল ১০০ মেগাটন শক্তির আর তার অর্ধেক শক্তিতেই তা মাটির নীচে বিস্ফোরিত হয়েছিল. কিন্তু সেই বিস্ফোরণ, বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী দশ গুণ বেশী ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হওয়া সমস্ত বিস্ফোরণের সম্মিলিত শক্তির চেয়ে ও তার সঙ্গে জাপানে আমেরিকার বোমাগুলিকেও যোগ করে. ব্যাঙের ছাতার মতো আকৃতির বিস্ফোরণের ধোঁয়া মাটি থেকে ৬৭ কিলোমিটার উঁচুতে উঠেছিল আর এই বিস্ফোরণের তরঙ্গ তিনবার সারা বিশ্বকেই প্রদক্ষিণ করেছিল. সেই সময়ে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছিল আকাশে, মাটির নীচে আর জলের নীচেও. সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী মহাকাশে সব মিলিয়ে ৪টি সোভিয়েত ও ৫টি আমেরিকার পক্ষ থেকে পারমাণবিক বিস্ফোরণ করা হয়েছিল. বায়ুহীণ জায়গায় এই ধরনের একের পর এক পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি ও কার্যকরী করার জন্য খরচ করা হয়েছিল বহু শত কোটি ডলার. এই ধরনের অবাধ প্রতিযোগিতার ফল সম্বন্ধে শুধু আমরা অনুমানই করতে পারি. বহু সংখ্যক সামাজিক প্রতিবাদের পরে “পারমাণবিক পঞ্চ দেশ” গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা বন্ধ করা নিয়ে ভাবতে শুর করেছিল. ১৯৬৩ সালে সোভিয়েত দেশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রেট ব্রিটেন পারমাণবিক অস্ত্র সৃষ্টির প্রক্রিয়ার উপরে নিয়ন্ত্রণের একটা শুরু করেছিল, এই কথা উল্লেখ করে সামাজিক-রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ইভসেয়েভ বলেছেন:

“এই চুক্তির একটা তর্কাতীত গুরুত্ব ছিল. আবহাওয়া ও ভূমি পৃষ্ঠের পারমাণবিক ভাবে সংক্রামিত হওয়ার বিপদ অনেকটাই কমানো গিয়েছিল. এর পরে সমস্ত পরীক্ষা করা হয়েছে মাটির নীচেই”.

তারই মধ্যে ফ্রান্স, এই চুক্তিকে স্বীকার না করে ভূমি পৃষ্ঠের উপরে পরীক্ষা করে গিয়েছিল ১৯৭৪ সাল অবধি, চিন করেছে – ১৯৮০ অবধি. ১৯৯৬ সালে সামগ্রিক ভাবে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা নিষিদ্ধ করা নিয়ে নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করা হয়েছিল. রাশিয়াতে এই সময়ের মধ্যে এই ধরনের পরীক্ষা সম্পূর্ণ ভাবেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল. এই দুটি চুক্তিই সই না করা ভারত ও পাকিস্তান নিজেদের পরীক্ষা করেছে ১৯৯৮ সালে. উত্তর কোরিয়া নিজেদের হিসাব মতো তৃতীয় ভূগর্ভে পারমাণবিক পরীক্ষা করেছে এই বছরেই. বর্তমানে প্রযুক্তিগত ভাবে উন্নত দেশ গুলির আর বাস্তবে পরীক্ষার কোন প্রয়োজন নেই. তাদের জায়গা নিয়েছে খুবই নিখুঁত কম্পিউটার মডেলিং, তাই এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা রাজনীতি সভার সদস্য ভ্লাদিমির আভেরচেভ বলেছেন:

“এর উপরেই পারমাণবিক অস্ত্র আরও আধুনিক করা নির্ভর করছে. বোঝাই যাচ্ছে যে, এটা আরও বেশী করেই প্রযুক্তিগত সম্ভাবনার ক্ষেত্রে দূরত্ব সেই সমস্ত দেশের মধ্যে বাড়িয়ে দিয়েছে, যারা পারমাণবিক অস্ত্রকে আয়ত্ত করেছে ও যারা তা করে নি. আর এটা – পারমাণবিক অস্ত্রকে প্রসারিত হতে দেওয়া থেকে বন্ধ করা নিয়ে একটা বাড়তি গ্যারান্টি”.

পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে বিষয় নিজের বাস্তব প্রয়োজনীয়তা সেই সব দেশের জন্যই রেখেছে, যারা শুধু ইচ্ছা প্রকাশ করেছে পারমাণবিক ক্লাবে যোগদানের. যেমন উত্তর কোরিয়ার জন্য. পরীক্ষা বন্ধ করা সম্ভব শুধু সর্বজনীন ভাবে সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা গ্রহণের পরেই এই কথা বিশেষ করে উল্লেখ করে ভ্লাদিমির ইভসেয়েভ বলেছেন:

“কিন্তু এই বিষয়ে প্রথম পদক্ষেপ করা দরকার উত্তর কোরিয়ার নয়, বরং সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরই, যারা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে কিন্তু তা দেশে গ্রহণ করে নি. তাদের উদাহরণ খুব সম্ভবতঃ চিন ও অন্যান্য দেশ গুলিও অনুসরণ করবে”.

আমেরিকার বিশেষজ্ঞরা বিগত সময়ে সেই দিকেই বেশী ঝুঁকেছেন যে, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এই ধরনের পরীক্ষা থেকে বিরত হওয়াতে কোন ক্ষতি হবে না. রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা, যেমন জানা রয়েছে যে, এই প্রশ্নকে মনে করেন প্রাথমিক. তাই একটা আশার সঞ্চার হয় যে, খুবই আসন্ন ভবিষ্যতে এই ধরনের পরীক্ষা বন্ধ করা নিয়ে চুক্তি গ্রহণের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের সামনে উপস্থিত করা হবে.