স্নোডেন এখন থেকে রাশিয়ার প্রচলিত আইনি নিরাপত্তায় অবস্থান করছেন। এর মানে হচ্ছে, মার্কিনীদের কঠোর বিবৃতি অত্যন্ত শান্তভাবেই গ্রহণ করা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রথম বিবৃতি আসে পার্লামেন্ট সদস্যদের কাছ থেকে এবং পরে হোয়াইট হাউস থেকে আনুষ্ঠানিক মতামত জানানো হয়।

নিউইয়র্ক স্টেটের সেনাটর চার্লজ শুমের বলেন, "স্নোডেনকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ায় রাশিয়া যেন আমাদের পিছন দিয়ে ছুরি মেরেছে। প্রতিটি নতুন দিনে মি. স্নোডেন যতক্ষন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে ঘোরাফেরা করবেন ততক্ষন পর্যন্ত তা ওই পূরান আঘাতে যেন আবার ছুরি মারার মত।"

তবে ওবামা প্রশাসনের মন্তব্য কিছুট সহনীয় ছিল। স্নোডেনকে রাশিয়া রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ায় হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জেই কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের চরম হতাশার কথা বর্ননা করেন। আগামী সেপ্টেম্বরে ওবামা-পুতিনের বৈঠক বাতিল হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায় তাঁর বক্তব্যে। তবে একই সাথে স্নোডেনের ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের মুখপাত্র মেরি হার্ফ বলেন, "এ প্রশ্ন নিয়ে আমরা রাশিয়ার সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও চালিয়ে যাবো। স্নোডেনকে নিয়ে এ সিদ্ধান্তের পরে আমাদের স্বভাবতই চিন্তা করতে হচ্ছে, জি-২০ সম্মেলনের জন্য রাশিয়ায় যাওয়ার কি মানে রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও রাষ্ট্রপতি পুতিন নিজেও আমাদের অবস্থান বুঝতে পেরেছেন যে এ প্রশ্ন দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কোন নেতিবাচক প্রভাব ফেলা উচিত নয়। আমাদের রয়েছে আরো অনেক ক্ষেত্র যেখানে রাশিয়ার সাথে আমরা যৌথভাবে কাজ করছি। যেমন আফগানিস্তান, ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও দুই দেশের পারমানবিক অস্ত্র হ্রাস পাওয়া। আমারা ধারণা করছি, অন্যান্য প্রশ্ন থেকে স্নোডেন ইস্যু আলাদা করে আলোচনা করা হবে। আমরা চাই না, স্নোডেনকে নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে ফাটল ধরুক। যদিও রাশিয়ার এ সিদ্ধান্তে আমরা হতাশ হয়েছি।"

এদিকে সেপ্টেম্বরে পুতিন-ওবামা বৈঠক বাতিল করার কোন যুক্তসংগত কারণ মস্কো দেখছে না। স্নোডেন বৃহস্পতিবার শেরমেয়তোভা বিমানবন্দর ত্যাগ করার সংবাদ প্রচার হওয়ার পরই রুশ রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত সহকারি ইউরি উশাকোভ বলেছেন, "আমরা জানি, যুক্তরাষ্ট্রে এ নিয়ে অনেক আলোচনা চলছে, তবে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা কোন ধরণের সংকেত এখনো পাইনি। আমরা মনে করি, এটি তেমন কোন বিষয় নয় যা দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে। রাষ্ট্রপতি পুতিন একাধিকবার বলেছেন, এটি একেবারে আচমকা একটি ঘটনা যেখানে রাশিয়ার কোন সম্পর্ক নেই। তাছাড়া পুতিন বলেছেন, আমাদের দুই দেশের মধ্যে আরো অনেক খাত রয়েছে যেখানে আমরা একসঙ্গে কাজ করছি এবং রুশ-মার্কিন সম্পর্ক তাঁর কাছে গুরুত্ব অনেক।"

তবে, স্নোডেন ইস্যু নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা কোন মন্তব্য করেননি।

আপাতত স্নোডেনকে নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে তর্ক-বিতর্ক যখন চলছে তখন স্বয়ং স্নোডেন নিজেকে নতুন ঠিকানায় খুঁজছেন। এরই মধ্যে স্নোডেন কোথায় অবস্থান করবেন তা ঠিক করেছেন তবে জানা যায় নি যে তা কি কোন ফ্লাট নাকি মস্কোর শহরতলীর খামার বাড়ি। তবে ব্লগে শেষেরটি বেশি আলোচিত হচ্ছে। কিন্তু স্নোডেনকে বিমানবন্দরের বাইরে কোন সাংবাদিক এক পলকের জন্য দেখতে পাননি। আপাতত ইন্টারনেটে ২টি ছবি রয়েছে যেখানে স্নোডেনকে বিমানবন্দর ত্যাগ করতে দেখা যায়।