গতকাল শুক্রবার মিশরে কোন প্রকার বড় ধরণের সংঘাত ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে কেটেছে। যদিও মিশরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ও ব্রাদারহুডের সমর্থকরা শুক্রবার সেনা অভ্যুথানের বিরুদ্ধে মিছিল করার আহবান করেছিল। সত্যিই, মাগরিবের নামাজের পর লোকজন কায়রোর তাহরির স্কোয়ার অভিমুখে সমাবেশে অংশ নিতে রওনা হয়। কিন্তু পুলিশের ব্যারিকেডের কারণে শেষ পর্যন্ত সমাবেশ স্থলে কেউ পৌছাতে পারেনি। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়। তবে বড় ধরণের কোন হতাহতের ঘটনা ঘটে নি।

তবে এটা একবারে বাদ দেওয়া যাচ্ছে না যে এটি ঝড়কে রক্ষার একটি প্রচেষ্টা।

ইতিমধ্যে মিশরের অস্থায়ী সরকার এক ঘোষণায় আগামী ৪ আগষ্টের মধ্যে বিরোধী পক্ষের সব ধরণের আন্দোলন কর্মসূচি এমনকি অনশন বন্ধ করার আল্টিমেটাম দিয়েছে। এর বিরুদ্ধাচারণ করলে এর সমাধান করবে মিশরীয় সেনাবাহিনী। তবে সেনাবাহিনী কি পদক্ষেপ সেক্ষেত্রে গ্রহণ করবে তা জানানো হয় নি। মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতিনিধি মোহাম্মদ আল-বেলতাগি প্রানহানির আশংকা করছেন। রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, "অনশনকারীদের হঠাতে যদি সেনা ব্যবহার করা হয় তাহলে তা কয়েক হাজার প্রাণনাশের হুমকি থাকবে। সেনাবাহিনীরা নিজেদের মূল কাজ সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব ভুলে গিয়ে নিজেদের লোকদের হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে!"

একই সাথে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আল বারাদি বলেছেন, মিশরের সেনাবাহিনী দেশের বর্তমান সংকট রাজনৈতিক উপায় সমাধানের প্রয়োজনীতা উপলব্ধি করতে পেরেছে। তাছাড়া অস্থায়ী সরকার ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ করার কোন ইচ্ছা নেই। মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ না করে সংবিধান সংষ্করণ, পার্লামেন্ট নির্বাচন ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য আহবান জানান বারাদি।

 মিশরের পরিস্থিতি নিয়ে রেডিও রাশিয়াকে জানিয়েছেন রুশ পর্যবেক্ষক দিমিত্রি গুসেভ। তিনি বলেছেন, "ব্রাদার মুসলিমহুড যারা ঠিকানাবিহীন ছিল ৩০ বছর, এখন তারা রাজনৈতিক পদ্ধতির একটি অংশে পরিণত হয়েছে। মিশরে যারাই সরকার পরিচালানায় আসুক না কেন তাদেরকে বিবেচনা করতে হবে। এখন থেকে ব্রাদারহুডকে বাদ দিয়ে বা তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচন বা রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পরিচলানা করা হলে তা আন্তর্জাতিক কমিউনিটি কিংবা মিশরীয় সাধারণ জনগনের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না।"

উল্লেখ্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হলে মিশরে অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়। আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নতুন সরকার। তবে এর জন্য দেশে শাম্তিময় পরিবেশের প্রয়োজন। চলমান সহিংসতা হয়তো বা গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসতে বিলম্ব ঘটবে।