সেনাটরের এই শৈল্পিক বিবৃতি রুশ-মার্কিন সম্পর্কে একটা বিরুপ প্রভাব ফেলার আভাস দিচ্ছে। মার্কিন রাজনীতিবিদরা অসংখ্যবার স্নোডেনকে বিশ্বাষঘাতক বলে অভিহিত করেছে এবং তাকে ভয়ভীতি দেখিয়েছে। স্নোডেনের কাছে আরো যে সব গোঁপন তথ্য রয়েছে তা হয়ত সে রুশদের কাছে প্রকাশ করবে বলে ধারণা করছেন মার্কিনীরা। তাই স্নোডেনকে ফেরত পাওয়াই যেন তাদের একমাত্র লক্ষ্যবস্তু। তবে মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা কিংবা কংগ্রেস রাশিয়া বা অন্যান্য দেশের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না যেখানে স্নোডেন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁছছেন। স্নোডেন যে সব গোঁপন তথ্য ফাঁস করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আইন আনুযায়ি তাকে কয়েক দশক কারাগারে বাস করতে হবে।

এমনটি মনে করেছেন ফেডারেল পরিষদের আন্তর্জাতিক কমিটির উপ-সহকারি প্রধান ভ্লাদিমির জাবারোভ। রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন, "মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে আমার মনে হয়েছে সবকিছু সঠিক রয়েছে। স্নোডেনকে যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত কঠোর সাজা ভোগ করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি সর্বোচ্চ মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত তার হতে পারে। বিশ্বের কোন সভ্য দেশ এমন ব্যক্তিকে সেই দেশের কাছে হস্তান্তর করবে না যেখানে তাকে মৃত্যুদন্ডের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।"

তাহলে কেন ওবামা প্রশাসন এতো হতাশ হয়েছে?। সত্য কথা হচ্ছে, স্নোডেন হয়ত নিজের কথা না ভেবে মার্কিনীদের অন্যতম একটি শক্ত অবস্থানে আঘাত করেছেন। বর্তমান যে মার্কিন প্রশাসন রয়েছে তারা মানবাধিকার ও আইন রক্ষার মতো বিষয়বলী নিয়ে তোলপাড় করতে একটু বেশি পচ্ছন্দ করেন। তবে তা যদি যুক্তরাষ্ট্র না হয়ে অন্য কোন দেশের ক্ষেত্রে হয় তাহলে প্রযোজ্য হবে।

তবে বিশেষ করে এখানে বলতে হয়, স্নোডেন সত্য কথা বলেন তা ওবামা ও কংগ্রেস মেনে নিয়েছে। তবে তিনি এক অর্থে বিশ্বাসঘাতক এই কারণে যে তিনি গোঁপন তথ্য বিদেশীদের কাছে ফাঁস করেছেন। এমন অভিমত ব্যাখ্যা করেছেন পেনিসেলভিনিয়ার কংগ্রেসম্যান স্কোত পের্রি। রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন, "কে বা কারা আপনাকে অনুসরণ করে তা মার্কিন জনগনের জানার অধিকার রয়েছে, তবে তারপরও আমি বলবো যে, স্নোডেন নিজের দেশের জনগনের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত আইন রয়েছে যেখানে আইন ভঙ্গকারীকে রক্ষার জন্য কংগ্রেসকে জানানো যেতে পারে। কিন্তু, স্নোডেনের ক্ষেত্রে আমি যতটুকো জানি তিনি এ পথে যেতে চান নি।"

যাকে আইনের দৃষ্টিতে দোষী স্বাব্যস্ত করা হয়েছে আর সে যদি অন্য দেশে স্বাধীনচেতা হয়ে ঘুড়ে বেড়ায় তা এক অর্থে ওই দেশের জন্য বড় একটা ক্ষতের কারণ হওয়াই স্বাভাবিক। সংগত কারণেই রাষ্ট্রপতি ওবামার এই পরিস্থিতিকে মানিয়ে নিতে কষ্ট হবে। তাই গত কয়েকদিন ধরেই হোয়াইট হাউস আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জি-২০ সম্মেলনের বাইরে মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা ও রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যকার বৈঠকের সিদ্ধান্তটিও পুনর্বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। এদিকে ওয়াশিংটন ও টাইমস অব নিউইয়র্ক পত্রিকা বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, স্নোডেন ইস্যু ছাড়া দুই রাষ্ট্রপতি আপাতত অন্য কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত নয়। সিরিয়া যুদ্ধ, ইরানের পরমাণু প্রকল্প কিংবা রুশ-মার্কিন স্ট্রাটেজিক অস্ত্র হ্রাস এসব কোন কিছুই আলোচনা হবে না। অন্যদিকে রাশিয়ায় সমকামিদের নিয়ে যে নতুন আইন করেছে তাতে ক্ষোভ প্রকাশ করে আগামী ২০১৪ সালে সোচি অলিম্পিক বয়কট করার প্রচারনার কথাও পত্রিকাগুলোতে উল্লেখ করা হয়। পরিস্থিতি এমনভাবে তৈরী করা হচ্ছে যেন কেউ কেউ শুধুমাত্রই চাইছেন রুশ-মার্কিন সম্পর্কে ফাটল ধরাতে।