এই আলোচনা শুরু হয়েছে ওয়াশিংটনে. কোথায় ও কবে এটা আবার করে চালু হবে – তা রেডিও রাশিয়াকে বলেছেন প্যালেস্টাইনের বিদেশ মন্ত্রী রিয়াদ মালিকি. তিনি বলেছেন:

“আপাততঃ এটা শুধু সাক্ষাত্কার. এটা আলোচনা নয়. এই সাক্ষাত্কারের সময়ে আলোচনা করা হয়েছে কোথায় ও কিভাবে আলোচনা পর্ব চালু হবে, তার কাঠামো কি রকমের, সেখানে আমেরিকার কি ভূমিকা থাকবে. সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, এই আলোচনা শুরু হবে মুসলমানদের উপবাসের মাস রমজান শেষ হওয়ার পরে. একেবারে ঈদুল ফিতরের পরের কয়েকদিন থাকবে উত্সবের, আর এর সঙ্গে জড়িত ছুটির দিনগুলো আমাদের শেষ হবে পরের বুধবার থেকে শুরু করে রবিবারে ১১ই আগষ্ট. সুতরাং ইজরায়েল ও প্যালেস্টাইনের মধ্যে আলোচনা আবার করে শুরু হবে এই উত্সবের অব্যবহিত পরেই, অর্থাত্ ১১ই আগষ্টের পরেই. আলোচনা হবে আমাদের এলাকাতেই. সেটা হয় জেরুজালেমে নয়তো জেরিকো শহরে. অথবা একবার জেরুজালেমে আর একবার জেরিকো শহর, এই ভাবে. আর তাতে সমস্ত বিতর্কিত প্রশ্ন নিয়েই আলোচনা করা হবে. আমরা সমঝোতাতে এসেছি যে, প্রথম দফায় সীমান্ত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়েই আলোচনা করা হবে. কিন্তু প্যালেস্টাইনের সীমান্ত জেরুজালেমের স্ট্যাটাস ও ইহুদী বসতির প্রশ্ন বাদ দিয়ে করা যেতে পারে না! প্রাথমিক ভাবে সমঝোতা হয়েছে যে, অন্য প্রশ্ন গুলোর সঙ্গে যোগ করেই প্রত্যেক নির্দিষ্ট প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করা হবে”.

প্যালেস্টাইন বা ইজরায়েলে এই আলোচনা নিয়ে মতামতে ঐক্য নেই. প্যালেস্টাইনে এই আলোচনার বাস্তব নিয়েই গাজা সেক্টরে হামাস গোষ্ঠী আপত্তি তুলেছে. ইজরায়েলে প্রশাসনের মধ্যেই এই বিষয়ে সন্দেহ প্রবণ মানুষ যথেষ্ট. রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ইজরায়েলের উপ পররাষ্ট্র মন্ত্রী জেয়েভ এলকিন বলেছেন:

“প্রথমতঃ, বলা ঠিক হবে যে, ইজরায়েলে এই আলোচনা সফল হবে কি না তা নিয়ে বহু মত রয়েছে. আশাবাদী ধারণা রয়েছে, তবে আমি নিজে নৈরাশ্যবাদীদের দলেই পড়ি. আমার ব্যক্তিগত অবস্থান এই রকমের: আমি মনে করি যে, গত বিশ বছরে প্যালেস্টাইনের লোকরা কোন বিষয়েই ছাড়া দেয় নি, তাদের নিজেদের প্রাথমিক অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে এক সেন্টিমিটার জায়গাও নয়. ... প্যালেস্টাইনের ভবিষ্যত সীমান্ত নির্ণয়ের জন্য ইজরায়েলের সরকার ১৯৬৭ সালের সীমান্ত মেনে নেবে না. আরও একটা ইজরায়েলের জন্য গ্রহণ করার অযোগ্য ধারণা হল – জেরুজালেম ভাগ করা. আর তাই এই ধরনের কাঠামোর মধ্যে সাফল্যের সম্ভাবনা নিয়ে বলা কঠিন. এমনকি যদি ইজরায়েলের পক্ষ থেকে বেশী করে নমনীয়তা দেখানো হয়, তাহলেও তাদের পক্ষে সমঝোতাতে পৌঁছনো কঠিন হবে”.

অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করেন যে, ওয়াশিংটন নিজেদের উপরে একটা ক্ষমতায় কুলোবে না এমন কাজ নিয়েছে, একাই এত জটিল আলোচনায় মধ্যস্থতা করতে চেয়ে. আর আগেই হোক বা পরেই হোক অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীদের এর মধ্যে নিয়ে আসতে হবে, তাদের মধ্যে আগে থেকেই থাকা নিকটপ্রাচ্য চতুষ্টয় রয়েছে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া আছে রাশিয়া, ইউরোপীয় সঙ্ঘ ও রাষ্ট্রসঙ্ঘ.