যে সমস্ত পরীক্ষা শেষ হয়ে গিয়েছে – এটা বিমানবাহী জাহাজের জন্য এক ধরনের আবার করে পরীক্ষা বলা যেতে পারে. গত বছরের জুন – জুলাই মাসে বিক্রমাদিত্য জাহাজ শ্বেত ও বারেনত্স সাগরে নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন করেছিল. কিন্তু তখন জাহাজের পক্ষে এর প্রকল্প অনুযায়ী গতিবেগ অর্জন করা সম্ভবপর হয় নি. ব্যাপার হল যে, এই জাহাজের শক্তি চালিত যন্ত্রের আধুনিকীকরণ করার সময়ে অ্যাসবেস্টস পাত, যা এই জাহাজের বয়লার গুলোর তাপ রোধ করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল, তা ভারতের পক্ষের দাবী মেনে ইঁট দিয়ে তৈরী করা হয়েছিল. পরীক্ষা করার সময়ে দেখা গিয়েছিল যে, চিনে তৈরী করা ইঁট খুলে পড়ে যাচ্ছে ও গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে. ফলে এই জাহাজের ইঞ্জিনের শক্তি কমিয়ে গতি শিথিল করতে হয়েছিল.

বয়লারের তাপ রোধ করার ব্যবস্থা মেরামতের পরে, এই বারে জাহাজ সফল ভাবেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে. ২৮শে জুলাই ভোর রাতে এই ইঞ্জিনের শক্তি সবচেয়ে বেশী মাত্রায় করা হয়েছিল. একসাথেই আটটি বয়লারের সবকটিতেই তাপমাত্রা বাড়ানো হয়েছিল সর্ব্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত, আর সেই গুলি দেখিয়ে দিয়েছিল যে, যথেষ্ট ভরসাযোগ্য ভাবেই কাজ করতে পারছে. ফলে এই দৈত্যাকার জাহাজ, যার স্রেফ খালি অবস্থাতেই জলের ওজন ৪০ হাজার টন, সেটি ঘন্টায় ২৯, ৩ নটিক্যাল মাইল গতিতে যাওয়ার মতো বেগ পেয়েছিল, সেটা এমনকি এই জাহাজের প্রকল্প অনুযায়ী যা বলা হয়েছিল, তার চেয়েও বেশী.

এখন বিক্রমাদিত্য তৈরী হচ্ছে বারেনত্স সাগরে যাওয়ার জন্য ও সেখানে হবে জাহাজে বিমান ওঠানামা নিয়ে পরীক্ষা. রাশিয়ার যুদ্ধবিমান মিগ – ২৯কাউবে আর জাহাজে ওঠানামার উপযুক্ত হেলিকপ্টার কা–২৮ ও কা-৩১ পরীক্ষা করে দেখা হবে.

একই সঙ্গে যন্ত্র ও ব্যবস্থা সংক্রান্ত পরীক্ষা আর এটির পরিষেবার অভ্যাস করছে ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্মীরাও, এই কথা উল্লেখ করে ভূ-রাজনৈতিক সমস্যা ইনস্টিটিউটের সভাপতি ও প্রথম শ্রেনীর ক্যাপ্টেন কনস্তানতিন সিভকভ বলেছেন:

“ভারতীয় সামুদ্রিক সামরিক নৌবাহিনীতে বিক্রমাদিত্য হবে একটি সর্বাধুনিক ও সবচেয়ে শক্তিশালী জাহাজ. তার বৈশিষ্ট্য হল খুবই শক্তিশালী আকাশ পথে আক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষমতা. এই জাহাজের ব্যবস্থা শুধু একটি মাত্র উড়ে আসা ডানাওয়ালা রকেটের আঘাতকেই প্রতিহত করার ক্ষমতা রাখে না, বরং পারে একই সঙ্গে অনেক গুলি আকাশ পথে আক্রমণকে প্রতিহত করতে. তাছাড়া, মিগ- ২৯ বিমান গুলি, যেগুলি এই জাহাজের উপরে থাকবে, তা অনেকাংশেই বিমানবাহী জাহাজের উপরে থাকা হ্যারিয়ার – জিআর৩ বিমানের চেয়ে উন্নত, যে ধরনের বিমান এখন ভারতের বিমানবাহী জাহাজের উপরে রয়েছে”.

পরীক্ষার সম্পূর্ণ বৃত্ত শেষ করার কথা রয়েছে ১৫ই অক্টোবর. এরপরে ছোটখাট খুঁত ঠিক করার জন্য সময় থাকবে আরও এক মাস. ভারতীয় নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এই জাহাজ হস্তান্তরের দলিল স্বাক্ষর করার তারিখ নির্ধারিত রয়েছে ১৫ই নভেম্বর. তারপরে এই জাহাজ নিজেই ভারতীয় নৌবহরের নাবিকদের নিয়ন্ত্রণে ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে সামান্য কয়েকজন দিয়ে দেওয়া সংক্রান্ত কাজকর্ম শেষ করার লোক নিয়ে ভারত মহাসাগরের বুকে এই জাহাজের স্থায়ী ঘাঁটির উদ্দেশ্য রওয়ানা হয়ে যাবে.