তিনি নিজের পরিকল্পনা এবং অভিজ্ঞতা আর উদ্বেগের কথা বলেছেন – সারা বিশ্ব জুড়ে যে সমস্ত অনুষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলির সঙ্গে তাঁর কাজকর্ম আর এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাঁকে যে তল্লাশী করা হয়েছে, সে বিষয়েও কথা বলেছেন.

ওস্তাদ ভারতীয় সঙ্গীতের ঐতিহ্য ও পশ্চিমের সঙ্গীতের সঙ্গে পার্থক্য নিয়ে বলেছেন. বিগত সময়ে তিনি বিশ্বের বেশ কয়েকটি সঙ্গীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা করছেন, তার মধ্যে গ্রেট ব্রিটেনের ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়েও. তিনি মনে করেন যে, সংস্কৃতির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ও নিজের একটি অন্যতম কাজ বিশ্ব সমাজকে ভারতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া. তিনি ভারতীয় সঙ্গীতের আত্মিক সৌন্দর্য আর এই সঙ্গীতে উপজ অংশ নিয়ে কথা বলেছেন. “আমি শুধু সরোদ বাজাই না, আমি তার মাধ্যমে আমার সম্পূর্ণ আত্মারই প্রকাশ করে থাকি, আমি সরোদের মাধ্যম গান গাই, - বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন তিনি. আমি নিজেই তাতে সঙ্গীত রচয়িতা, সঙ্গীত পরিচালক ও শিল্পী”.

আশির দশকে রাশিয়া ভ্রমণ নিয়ে ওস্তাদ খুবই উষ্ণ ভাবে মনে করেছেন ইগর ঐস্ত্রাখের সঙ্গে সাক্ষাত্কারের কথা, তিনি এক বিশ্ব বিখ্যাত বেহালা বাদক ছিলেন, মনে করেছেন বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী ইগর ফ্রোলভের সঙ্গে সমবেত অনুষ্ঠানের কথা, বেহালায় অনতিক্রম্য শিল্পী দাভিদ ঐস্ত্রাখের বাজনার কথা. আমজাদ আলি খানের ভাল লেগেছিল রুশী গান “পদমস্কোভনিয়ে ভিয়েচেরা” ও “কাতিউশা”. তিনি সাক্ষাত্কারের সময়েই গুনগুন করেছেন এই গান গুলি, যা তিনি ভারতীয় ধরনে নিজেই সরোদের উপযুক্ত করে নিয়ে বাজিয়েছেন. প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন যে, তিনি খুশী হ’তেন মস্কোর সিম্ফনিক অর্কেস্ট্রা অথবা রাশিয়ার অন্য যে কোন ধ্রুপদী সঙ্গীত পরিবেশন করে এমন অর্কেস্ট্রার সঙ্গে একসাথে কাজ করতে পারলে.

বিগত সময়ে আমজাদ আলি খান অনেক সময় দেন সামাজিক কাজকর্মে, এমনকি রাজনীতির ক্ষেত্রেও. তিনি মনে করেন যে, ১১ই সেপ্টেম্বরের পরে পৃথিবী খুবই বদলে গিয়েছে, এখন রাজনীতির ভূমিকা মানুষের জীবনে আরও বেশী করেই বেড়ে চলেছে ও তাই পাশে সরে থাকা যায় না. ইউনেস্কো সংস্থার পুরস্কার গ্রহণ করে তিনি স্বরচিত “দেশের বাপু” - মহাত্মা গান্ধীর উদ্দেশ্যে নিবেদিত সুর বাজিয়েছেন.

ওস্তাদ বলেছেন যে, রাজনীতি আমার ক্ষেত্র নয়, আমার জীবন হল – সঙ্গীত. আমি চাই যে, যাতে লোকে বেশী করেই একে অপরের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করে, তাদের গায়ের রঙ, ধর্ম অথবা জাতিগত অবস্থানের দিকে না তাকিয়েই. আমার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের সময়ে, আগে থেকে ধরে নেওয়া অমিত্র সুলভ আচরণের সম্মুখীণ হতে হয়েছিল, আর তার কারণ শুধু একটাই যে, আমি একজন মুসলমান. কিন্তু আমি বিশ্বাস করি যে, মানব সমাজ ঐক্যবদ্ধ, আর সমস্ত সমাজই চায় শান্তিতে সহাবস্থান করতে. আমি এই লক্ষ্য নিয়েই বেঁচে রয়েছি – যাতে আমার সঙ্গীতের মধ্যে দিয়ে সমগ্র মানবসমাজকে ভালবাসা ও শান্তিতে বেঁচে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করা সম্ভব হয়.