তাঁর নেতৃত্বে রাশিয়ার মুফতি সভা এই নিয়ে আট বছর ধরে প্রত্যেকবারই রমজান মাসের শেষ দশ দিন ইফতার করতে মস্কোর সমস্ত লোকদেরই আহ্বান করেছে. আর এঁরা হলেন প্রায় ৪০ রকমের ধর্ম মতে বিশ্বাসী ১৬৮টি জাতির মানুষ. আর প্রত্যেকেই রমজানের শিবিরে আসতে পারেন. এই প্রসঙ্গে আমাদের সাংবাদিক প্রতিনিধিকে মস্কোর মুসলমানদের ধর্মীয় প্রশাসনের প্রধান ও মস্কোর জুম্মা মসজিদের ইমাম-হাতীব এলদার-হজরত আলাউদ্দিনভ যিনি এই রমজান শিবিরের দায়িত্বে রয়েছেন, তিনি বলেছেন:

“এই শিবিরের আয়োজন সফল হয়েছে. একটা ঐশ্বরিক সাহায্য খেয়াল করতে পাওয়া গিয়েছে. আমাদের স্বেচ্ছাসেবকদের সংখ্যা অনেক, তাছাড়া অনেক মানুষ রয়েছেন, যাঁরা আমাদের সমর্থন করেন. এই বছরে মস্কোর প্রশাসন আমাদের রসদ সংক্রান্ত সহায়তা দিয়েছে. আমাদের শিবিরের লক্ষ্য – যত বেশী সংখ্যক লোককে একসাথে জড়ো করা ও তাঁদের আলোক প্রাপ্ত করানো. তাঁদের কাছে ব্যাখ্যা করা ইসলাম কি, কাকে ধর্মাচরণ বলে, মানুষদের কাছে ধর্মীয় পবিত্রতা ফিরিয়ে আনা, যাতে মানুষে একে অপরকে ভালবাসে, সম্মান করে, তাদের জাতি ধর্ম, সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে মর্যাদা দেয়. শুধুমাত্র তখনই আমরা রাশিয়ার লোকরা, শক্তিশালী হতে পারবো. এটাই রমজান শিবিরের প্রধান উদ্দেশ্য!”

আগামী দশ দিনে এই শিবিরের অতিথিরা হবেন যেমন প্রতিবন্ধী মানুষরা, তেমনই বাচ্চারা, মস্কোর স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা, আর অবশ্যই বিদেশী অতিথিরা. রমজান শিবিরে প্রথমদের মধ্যে একজন হয়েছেন সৈদ মাহমুদ রেজা সাজ্জাদী, তিনি ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের রুশ তরফ থেকে রুশ দেশে রাষ্ট্রদূত. তিনি আমাদের সাংবাদিক প্রতিনিধিকে বলেছেন:

“রাশিয়ার মুফতি সভার পক্ষ থেকে এটা খুবই আগ্রহ জনক ও ভাল উদ্যোগ. শিবিরে শুধু মুসলমান নেতাদেরই আহ্বান করা হচ্ছে না, বরং অন্যান্য ধর্মের প্রতিনিধিদেরও ডাকা হচ্ছে. এর ফলে একটা মৈত্রী ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে. আর এটাই হল সেই অবস্থা, যা আজ সমগ্র মানব সমাজেরই প্রয়োজন”.

মস্কোর প্রধান ধর্মীয় সমাজগুলির প্রধানরা এই শিবির উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন – ইহুদী, ক্যাথলিক, রুশ অর্থোডক্স গির্জার, আর তারই সঙ্গে প্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীরা, অন্যান্য বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির কর্মীরাও, খেলোয়াড়রা. সকলেই, যারা এখানে মুসলমানদের কাছে অতিথি হয়ে এসেছিলেন, তাঁদের স্বাগত জানিয়েছেন রাশিয়ার মুফতি সভার সভাপতি শেখ রাভিল গাইনুদ্দিন, তিনি বলেছেন:

“কয়েকদিন আগে, যখন দেশের অর্থোডক্স খ্রীষ্টান মানুষরা রুশ দেশের এক হাজার পঁচিশ বছর পালন করেছে খ্রীষ্ট ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার, তখন রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন সমস্ত অর্থোডক্স গির্জার প্রধানদের গ্রহণ করে বিশেষ করে বলেছেন: রাশিয়া একটি বহু প্রজাতির ও বহু ধর্মের দেশ. ঈশ্বরকে অশেষ ধন্যবাদ যে, আমরা মুসলমানেরা এই রাষ্ট্রে বহু শতক আগে থেকেই রয়েছি. আর আমরা খুবই গর্বের সঙ্গে বলে থাকি: আমরা নিজেদের পিতৃভূমিকে ভালবাসি, আমরা বিভিন্ন ধর্মের, সংস্কৃতির, ঐতিহ্যের ও প্রজাতির মানুষদের সাথে একই সঙ্গে শান্তি ও সহমতেই বেঁচে থাকতে চাই. এটাই আমাদের পবিত্র কুরআন শিখিয়েছে, এই বাণীই আমাদের দিয়েছেন হজরত মহম্মদ (আল্লা তাঁর মঙ্গল করুন ও অভিনন্দন জানান)”.

একশ জনেরও বেশী অতিথি প্রথম দিনেই রমজানের শিবিরে এসেছেন. ইফতারের অলঙ্কার হিসাবে তুরস্কের অতিথিদের তরফ থেকে মোনাজাত করা হয়েছে. এছাড়া এখানে বহু বিষয়ে সান্ধ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যেগুলি বহু মুসলিম গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে করা হবে, যাঁরা মস্কো শহরে রয়েছেন – দাগেস্তান, কিরগিজিয়া ও তাজিকিস্তানের পক্ষ থেকেও.

রমজান শিবিরের প্রতিটি সন্ধ্যাই এক আনন্দের উত্সব, এই কথা উল্লেখ করে এই শিবিরের অতিথি ও শিহাবুদ্দিন মার্ঝানির নামাঙ্কিত রুশ বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি তহবিলের সভাপতি রাইস সুলেইমানভ বলেছেন:

“এই উপবাসের দিনগুলিতে বিশেষ করে আনন্দ হয় – নিজেদের খাবার এক বড় ও ভালো মানুষদের সান্নিধ্যে ভাগ করতে পেরে. ভাল হয়, যদি এটা নিজের পরিবারের লোকজন হয়. আরও ভাল হয়, যদি এটা কয়েকটি পরিবার ও বন্ধুদের বৃত্তের মধ্যে হয়. কিন্তু একেবারেই ভাল হয়, যখন তুমি এই ইফতারের খাবার আজকের মতই রমজানের শিবিরে অচেনা লোকদের সঙ্গে, এমনকি যাঁরা মুসলমান নন, তাঁদের সঙ্গেও ভাগ করে নিতে পারো. একেবারেই অন্য ধরনের অনুভূতি. এটা যেমন, আনন্দ, আর সন্তোষ, তেমনই একটা কাছের লোকের হাতের ছোঁয়া আর সম্ভাষণের আনন্দ পাওয়া হয়”.