×
South Asian Languages:
0

সাদা থাবার বিপদ

সাদা থাবার বিপদ

বিজ্ঞানীদের খুবই উদ্বিগ্ন করেছে সুদূর প্রাচ্যের চিতা বাঘদের সাদা রঙের থাবা. প্রিমোরস্ক এলাকায় ফোটো ফাঁদের লেন্সে ধরা পড়েছে বেশ কয়েকটি ফোঁটা ওয়ালা চিতা বাঘের সামনের থাবার সাদা রঙ. বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, এটা প্রমাণ করে দিচ্ছে এই ধরনের বাঘের মধ্যে অধঃপতন ঘটেছে জেনেটিক কারণে, যা হয়েছে অজাচারের কারণে.

 

চিতা বাঘের ভূমি নামের রাষ্ট্রীয় অরণ্যে, এই জাতের বিরল প্রজাতির হিংস্র জন্তুদের উপরে সারাক্ষণ ভিডিও পর্যবেক্ষণ করা হয়ে থাকে. চিতাবাঘ – খুবই গোপনে থাকা জন্তু, আর তাই তাকে মূলতঃ দেখতে পাওয়া যেতে পারে শুধু ফোটো ফাঁদ ব্যবহার করেই. গত ১০ বছর ধরে বিশেষজ্ঞরা প্রিমোরস্ক এলাকার প্রায় সমস্ত এই ধরনের ফোঁটা দাগ ওয়ালা জন্তুর উপরে বর্ণনা তৈরী করে ফেলেছেন. এই আর্খাইভে এখন তাঁরা খুবই জরুরী ভিত্তিতে আবার করে সব দেখছেন, কিন্তু তা কেন? এই সব কিছুর জন্যই দোষী চিতাবাঘের ছবি, যা এক জানোয়ার প্রেমী ফটোগ্রাফার তুলেছেন. তাতে খুব স্পষ্ট করেই দেখতে পাওয়া গিয়েছে এই শিকারী প্রাণীর সাদা থাবা. নিজেদের ছবি দেখে এই সংর৭িত অরণ্যের কর্মীরা একই ধরনের লক্ষণ দেখতে পেয়েছেন আরও পাঁচটি জানোয়ারের. সাধারণতঃ, যা পোষ্য বেড়ালদের জন্য আদুরে ও কোন রকমের ভয় পাওয়ার মতো লক্ষণ বলে মনে হয় না, তাই চিতাবাঘের জন্য খুবই বিপজ্জনক লক্ষণ, এই কথা উল্লেখ করে চিতাবাঘের ভূমি নামের সংরক্ষিত অরণ্যের বৈজ্ঞানিক কর্মী এলেনা সালমানোভা বলেছেন:

“সাধারণতঃ চিতাবাঘের থাবায় ফোঁটাফোঁটা দাগ দেখতে পাওয়া গিয়ে থাকে, যেমনটি হয় তাদের গায়ে: একই রকম ভাবে সবটা হয়. কিন্তু কখনও পোষ্য বেড়ালদের মতো সাদা থাবাও দেখতে পাওয়া যায়. জিন, যা এই ধরনের থাবার কারণ, তা আসলে ক্ষয়ের লক্ষণ, অর্থাত্ দুর্বলদের লক্ষণ আর তা খুবই কম দেখতে পাওয়া যায়. এই রকম হতে গেলে যেমন বাঘ মা, তেমনই বাঘ বাবার এই ধরনের জিন থাকার দরকার আছে”.

বিশেষজ্ঞদের কথা অনুযায়ী, এই বাস্তব উদাহরণ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, এই ধরনের বাঘদের জিন গত নানা রকমের হওয়া কমে গিয়েছে. সাদা থাবা – শুধু তথাকথিত ক্ষয় ধরা জিনের এক রকমের প্রমাণ, যা সময়ের সঙ্গে বাড়তে পারে. বংশ বজায় রাখার বিষয়ে এটা খুবই খারাপ ভূমিকা নিতে পারে আর তার ফলে ক্ষয় ধরা প্রজন্মের সৃষ্টি হতে পারে. সাদা থাবার ব্যাপারটা অজাচারের লক্ষণ. যার ফলে অসম্পূর্ণ ধরনের প্রজন্মের উদ্ভব হতে পারে.

প্রসঙ্গতঃ পরিবেশ বিজ্ঞানীরা এখনই তাড়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন না. গত চল্লিশ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করার মধ্যে এই প্রথমবার এই ধরনের হিংস্র জন্তুর অস্বাভাবিক ব্যাপারের দিকে প্রথম নজর পড়েছে. কেন বিশ্বের এক সবচেয়ে বিরল প্রজাতির বন বেড়ালদের সাদা থাবা হয়েছে ও এটা কতটা বিপজ্জনক, তা পরিবেশ বিজ্ঞানীরা আশা করেছেন বিশ্বের বৃহত্তম চিড়িয়াখানার কর্মীদের কাছ থেকে জানার. এখন বদ্ধ অবস্থায় রয়েছে প্রায় ২০০টির মতো সুদূর প্রাচ্যের চিতাবাঘ. সেই গুলি নমুনা হিসাবে বন্য জন্তুর সংখ্যার বিষয়ে আলোকপাত করতে পারে. সুদূর প্রাচ্যের চিতা বাঘদের নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রকল্পের কোঅর্ডিনেটররা সমঝোতা করেছেন যে, তাঁরা বিশ্বের সমস্ত চিড়িয়াখানার এই ধরনের বাঘদের বর্ণনা বিচার করে দেখবেন. বিজ্ঞানীদের কথামতো, এটা সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছতে সাহায্য করবে যে, জেনেটিক বিভিন্নতার সঙ্গে এই ধরনের সাদা থাবা, চিতা বাঘদের ক্ষেত্রে কিভাবে আর কতবার করে দেখা গিয়েছে.

প্রিমোরস্ক এলাকা – বিশ্বের একমাত্র জায়গা, যেখানে বন্য প্রাণী হিসাবে এই ধরনের চিতাবাঘ রয়েছে. শেষ হিসাব অনুযায়ী, এই ধরনের সমস্ত বাঘের সংখ্যা পঞ্চাশটির বেশী নয়. এই জন্তু বর্তমানে বিশ্বে থাকা নয় ধরনের চিতা বাঘদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দা, যাদের বলা হয়ে থাকে পার্দুস প্যান্থার. এক ধরনের প্রাণী হিসাবে তা আজ নিশ্চিহ্ণ হওয়ার মুখে, তাই রাশিয়ার লাল বই ও বিশ্ব বন্য প্রকৃতি সংরক্ষণ তহবিলে এই বাঘকে আজ রাখা হয়েছে.

মূল বয়ান: siberia-chitabagh-sweti