মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে শুরু হয়েছে ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন পরামর্শ- যার লক্ষ্য হল প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র সৃষ্টির পক্ষে একটি সমঝোতায় পৌঁছনো. প্যালেস্টাইন ও ইজরায়েল প্রায় তিন বছর ধরে সরাসরি কথাবার্তা এড়িয়ে গিয়েছে. বর্তমানের এই রাউণ্ড থেকে দ্রুত ফলাফল হওয়ার আশা করে লাভ নেই – আলোচনার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে নয় মাস, ইতিবাচক ফলাফল যে হবেই তারও কোন নিশ্চয়তা নেই. “রেডিও রাশিয়ার” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক প্রতিনিধি রোমান মামোনভ এই পরামর্শ শুরু হওয়ার দিকে নজর রেখে চলেছেন.

বিগত বছর গুলিতে মনে হয়েছিল যে, নিকটপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়া একটা কানাগলিতে গিয়ে ঠেকেছে. কিন্তু বারাক ওবামার প্রশাসন তবুও আশাবাদী রয়েছে. এই পরামর্শ আলোচনা চালু হওয়ার কয়েক ঘন্টা আগে রাষ্ট্র সচিব জন কেরি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“এই বছরের মার্চ মাসে বারাক ওবামার ইজরায়েল ও রামাল্লা সফরের সময়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল. তাঁর শক্তি প্রয়োগ ছাড়া ও শান্তি প্রক্রিয়াতে ভরসা করা ছাড়া আমরা আজ এখানে জমা হতে পারতাম না. কারও জন্যই গোপনীয় কথা নয় যে, আমাদের সামনে রয়েছে খুবই জটিল এক প্রক্রিয়া. সবই যদি সহজ হত, তবে তা এত সময় লাগাতো না. দেখাই যাচ্ছে যে, আমাদের সামনে খুব একটা সহজ সময় অপেক্ষা করে নেই, যা এই আলোচনার অংশগ্রহণকারীদেরই গ্রহণ করতে হবে, যাতে একটা সমঝোতায় পৌঁছনো সম্ভব হয়. আর আমি মনে করি যে, এই দুই পক্ষের জন্যই লাভজনক সমঝোতা - এই অধ্যায়ে আমাদের সকলের জন্যই মূল উদ্দেশ্য”.

একসারি পরামর্শ শুরু হয়েছে রাষ্ট্র সচিব জন কেরির উপস্থিতিতে এক সকলের সান্ধ্য ভোজের অনুষ্ঠান দিয়ে. ইজরায়েল এখানে পাঠিয়েছে দেশের আইন মন্ত্রী তসিপি লিভনি-কে, আর প্যালেস্টাইনের হয়ে – শান্তি প্রশ্নের প্রধান আলোচনাকারী সাইব এরাকাত এসেছেন. দুই জনই টেরির উল্টো দিকে পাশাপাশি বসতে রাজী হয়েছেন. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই আলোচনাতে থাকছেন ইজরায়েল রাষ্ট্রে প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্টিন ইন্ডিক. সোমবারে তাঁর এই আলোচনায় অংশ গ্রহণের কথাও ঘোষিত হয়েছে. এই প্রসঙ্গে তিনি নিজে আগামী পরামর্শ সভা সম্পর্কে বলেছেন:

“যদি আমাদের ভরসা ও লক্ষ্যে অবিচল থাকার ক্ষমতা না থাকতো, তবে আমরা এই মিশন সম্ভব করতে পারতামই না, যা অনেকেরই মনে হয়েছে অসম্ভব বলে. কিন্তু নির্দিষ্ট ফলাফল দেখতে পাওয়া যাচ্ছে: রাষ্ট্রপতি মাখমুদ আব্বাস ও প্রধানমন্ত্রী নেথানিয়াখু আলোচনায় ফেরা নিয়ে খুবই সহজ নয়, এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন. আমি এই ভরসার জন্য কৃতজ্ঞ ও বিশ্বাস করি যে, আমরা সেই লক্ষ্য সাধনে সক্ষম হবো, যা বারাক ওবামা আমাদের সামনে রেখেছেন: প্যালেস্টাইন ও ইজরায়েলের পাশাপাশি প্রতিবেশী হিসাবে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ভাবে সহাবস্থান”.

এই শান্তি আলোচনা নিয়ে পরামর্শ শুরুর আগে ওয়াশিংটনে তেল আভিভ এক শুভ বুদ্ধির পরিচয় দিয়ে তাদের জেল থেকে একশ জন প্যালেস্টাইনের বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে. তা স্বত্ত্বেও, যেমন ইজরায়েলে, তেমনই প্যালেস্টাইনে প্রশাসনকে এই আলোচনার শুরু করার জন্যেই সমালোচনার শিলাবৃষ্টির সামনে পড়তে হয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও কোন দ্রুত ফলাফল আশা করা হয় নি, আর তার চেয়েও বেশী করে কোন একটা আচমকা উন্নতি হবে বলেও ধরা হয় নি. এই অধ্যায়ে আলোচনার সময় দেওয়া হচ্ছে নয় মাস. আর এই সময়, ইতিমধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে সাবধান করে দেওয়া হয়েছে যে, বাড়িয়ে দেওয়া হতেই পারে.