বিখ্যাত যুদ্ধজাহাজ “অরোরা” রাশিয়ার জারের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরে যোগদানের ১১০ বছরের জয়ন্তী পালন করছে. কিন্তু তা নিজের যুদ্ধে কৃতিত্ব অথবা কোন লড়াইতে জয়ী হওয়ার জন্য বিখ্যাত হয় নি, বরং হয়েছে মহান অক্টোবর বিপ্লবের শুরু ও রাশিয়ার জারের শীত প্রাসাদ দখলের সঙ্কেত দেওয়ার জন্য গোলা বর্ষণ করেই.

১৮৯৭ সালের ২৩শে মে সেন্ট পিটার্সবার্গের জাহাজ তৈরীর ডকে এই জাহাজ তৈরী করা শুরু হয়েছিল আর জলে নেমেছিল তার তিন বছর পরে.রাশিয়া জাপান যুদ্ধের সময়ে দ্বিতীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের অংশ হয়ে গিয়েছিল সুদূর প্রাচ্যে, সেখানে যুদ্ধের আগুনে দীক্ষিত হয়েছিল রাশিয়ার জন্য বিফল “ত্সুসিম যুদ্ধে”, এই কথা উল্লেখ করে ঐতিহাসিক ওলেগ আইরাপেতভ বলেছেন:

“প্রথম মহাযুদ্ধের সময়ে এই জাহাজ অনেকটাই পুরনো হয়ে গিয়েছিল আর তা ছিল দেশের প্রশিক্ষণ বাহিনীর অংশ হয়ে, কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে তাকে আবার যুদ্ধের উপযোগী জাহাজের দলে নেওয়া হয়, যদিও সেই যুদ্ধে এই জাহাজ কোনও গুরুতর যোগদান করে নি. ঐতিহাসিক ঘটনার বিষয়ে একমাত্র যে বিষয়ে এই জাহাজকে মনে রাখা হয়ে থাকে, তা হল এই জাহাজ থেকেই শীত প্রাসাদ আক্রমণের সঙ্কেত দেওয়া হয়েছিল. “অরোরা” ফাঁকা গোলা ছুঁড়ে সঙ্কেত দিয়েছিল, যাতে বিপ্লবের শুরু হয়েছে বলে জানানি দেওয়া যায়, আর এই ঘটনাই বিশ্ব ইতিহাসের জন্য ইঙ্গিত বাহী হয়েছিল”.

১৯৪০ সাল পর্যন্ত “অরোরা” ছিল এক প্রশিক্ষণের জাহাজ, আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরু থেকে তা আবার করে যুদ্ধের জন্য তৈরী হয়েছিল, যুদ্ধ করেছিল লেনিনগ্রাদ উপকণ্ঠে. ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত লেনিনগ্রাদের পেত্রোগ্রাদ নদী তীরে এই জাহাজকে এনে রাখা হয়েছিল আর তারপরে আট বছর লেনিনগ্রাদের নাখিমভ সামরিক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্র্যাকটিক্যাল করার ঘাঁটি হয়ে কাজ করেছিল. ১৯৫৬ সাল থেকে “অরোরা” জাহাজকে একটা জাদুঘরে পরিণত করা হয়েছিল. আর আজ অবধি সেটা এই উত্তরের শহরের একটি সবচেয়ে বেশী দেখার জায়গা হয়েই আছে. মুখ্য উপহার, যা এই জাহাজ তার জয়ন্তী বর্ষে পেতে চলেছে, তা হল এর পুনরুদ্ধারের কাজ, এই কথা বলে কেন্দ্রীয় সামুদ্রিক- সামরিক জাদুঘরের বৈজ্ঞানিক প্রদর্শনী ও প্রদর্শনী মূলক কাজের বিষয়ে ডেপুটি ডিরেক্টর সের্গেই কুরনোসভ বলেছেন:

“জাহাজের জলের নীচে অংশে ডুবুরিরা কাজ শেষ করেছে ও তারা বলেছে যে, এর খোল এখন স্বাভাবিক অবস্থাতেই রয়েছে, তাই অরোরা জাহাজের মেরামত কোন একটা দ্রুত বা ভেঙে যাওয়ার পরিস্থিতিতে মেরামত করা হবে না. এটা সাধারণ পরিকল্পনা মাফিক মেরামতের কাজ. ১৯৮৪-১৯৮৭ সালে “অরোরা” জাহাজের শেষ মেরামতের পরে অনেক বছর কেটে গিয়েছে, তাই এবারে নতুন করে মেরামতের প্রয়োজন পড়ছে, আর এরপরে আবার অনেক দশক ধরেই এই জাদুঘর কাজ করতে পারবে”.

এখন “অরোরা” জাহাজকে সেন্ট পিটার্সবার্গের “সোনালী বইতে” রাখা হয়েছে, তা অবশ্য বিপ্লবের বার্তা বয়ে আনা জাহাজ বলে নয়, বরং এক দারুণ পর্যটনের জায়গা বলে, যেখানে প্রতি বছরেই প্রায় দুই লক্ষের বেশী লোক দেখতে আসেন.