'সোচি অলিম্পিক-২০১৪' কমিটি মশালবাহকদের প্রথম দলটির রানারদের নাম ঘোষণা করেছে. আর মাত্র দুই মাস পরেই মশালটি রাশিয়ায় এসে পৌঁছাবে. সারা দেশ জুড়ে রিলে দৌড়ে অংশ নেবেন প্রায় ১৪ হাজার রানার.

    অলিম্পিকের মশাল বাহকদের বাছাই করার কাজ শুরু হয়েছিল জানুয়ারী মাসের শেষে. ১ লক্ষ ৪০ হাজার আবেদনপত্র জমা পড়েছিল ইচ্ছুক রানারদের তরফ থেকে. বিশেষ কোনো দাবী পেশ করা হয়নি, শুধু বয়স হতে হবে ১৪ বছরের বেশি.

     প্রথম দফার কোয়ালিফিকেশন পর্বে ৬ হাজার রানারকে বেছে নেওয়া হয়েছে. তাদের মধ্যে আছে প্রখ্যাত ক্রীড়বিদরা, অলিম্পিক চ্যাম্পিয়নরা, ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশীপের পদকধারীরা, প্রবীন প্রশিক্ষকরা. তাদের মধ্যেই একজন সৌভাগ্যবতী ভলগোগ্রাদের ২০-বছর বয়সী বাসিন্দা আলিনা কনায়েভা. সে অভিজ্ঞতাসম্পন্না ভলান্টিয়ার,  ভ্লাদিভস্তোকে এশীয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার দেশগুলির শীর্ষ সম্মেলনে ও সোচিতে প্রস্তুতিমুলক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলিতে সে স্বেচ্ছাসেবীর দায়িত্ব পালন করেছে. কাজানে ইউনিভার্সিয়াডে কাজ করা কালে যুবতীটি সোচি অলিম্পিকে মশালবাহী হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার সুসংবাদটি পায়. আলিনা ভীষন খুশি, তাকে যে বাছাই করা হয়েছে বহুসংখ্যক প্রার্থীর মধ্যে থেকে! সে বলছে, যে কোয়ালিফিকেশন ছিল রীতিমতো কঠিন. -  

    আলিনা বলছে - দু'টো রচনা লিখতে হয়েছিল. একটা - কেন আমি অলিম্পিকের মশাল বহন করার যোগ্যা - সেই সম্পর্কে এবং দ্বিতীয়টি ছিল কিভাবে আমি মানুষকে ভালো কাজ করার জন্য অনুপ্রাণিত করতে পেরেছি. আমি মনে করি, যে প্রত্যেক মশালবাহকের হওয়া উচিত দায়িত্ববান, মিশুকে, স্বাস্থ্যসচেতন, অপরকে সাহায্য করতে সদাপ্রস্তুত. যেন এটাই হয় তাদের জীবনযাপনের ধারা.

    বাছাই হওয়া মশাল বাহকদের মধ্যে আছেন শিক্ষক-অধ্যাপকরা, চিকিত্সকরা, উদ্ধারকর্মীরা, সামরিক কর্মীরা, শিক্ষার্থীরা, এমনকি অবসরপ্রাপ্ত লোকজন. সোচি অলিম্পিক কমিটি এখনো জমা পড়া সব আবেদনপত্র বিচার করে দেখছে. ১৪ হাজার মশাল বাহকের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে সেপ্টেম্বরে.

    আর খোদ অলিম্পিক আগুনের মশাল দৌড় শুরু হবে মস্কো থেকে এই বছরের ৭ই অক্টোবর. ঐ অগ্নিবর্তিকা ৬৫ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করবে. কখনো গাড়িতে, কখনো ট্রেনে, কখনো বিমানে, কখনো তিন ঘোড়ায় টানা জগদ্বিখ্যাত রুশী ত্রোইকায়, এমনকি বল্গাহরিণে টানা স্লেজে পর্যন্ত. ঐ মশাল ইউরোপের উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ এলব্রুসের শীর্ষে নিয়ে যাওয়া হবে, বিশেষভাবে আচ্ছাদিত বাহকে করে তাকে নিয়ে যাওয়া হবে বৈকাল হ্রদের তলায়, এমনকি মহাকাশেও. অলিম্পিকের ইতিহাসে অগ্নিবর্তিকা নিয়ে দীর্ঘতম রিলে দৌড় শেষ হবে অলিম্পিক নগরী সোচিতে. ২০১৪ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারী ঐ দীপশিখা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্জ্বলিত করা হবে অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে.