সম্প্রতি জুলাইয়ের বর্ষাস্নাত কয়েকটি দিন  দিল্লিস্থিত রুশ বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি ভবনে ভারতীয় চিত্রশিল্পীদের ওয়ার্কশপ হয়ে গেল.  'রেডিও রাশিয়া'কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে ঐ অনুষ্ঠানের মুখ্য ব্যবস্থাপক অক্ষত সিং বলেছেন, যে এই নিয়ে তৃতীয় বছর আমরা এক ছত্রছায়ায় নিয়ে আসছি যেমন ভারতের তরুন শিল্পীদের, তেমনই গণ্যমান্য চিত্রকরদের 'ভারতীয় চিত্রশিল্পীরা রাশিয়াকে আঁকছে' এই প্রকল্পের আওতায়. অবাক হওয়ার কিছু নেই, যে অক্ষত মস্কোর গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক. তিনি সাবলীল রুশী বলেন. -

      অক্ষত বলছেন - এবার আমাদের ক্যাম্পে ১৩ জন চিত্রশিল্রী এসেছিলেন. তাদের আঁকার বিষয়বস্তু ছিল - 'রাশিয়ার বড় শহরগুলির নাগরিক জীবনধারা, দৃশ্যাবলী, ইতিহাস'. শিল্পীদের আজকের দিনের রাশিয়ার সাথে আরও ভালো করে পরিচয় করানোর জন্য আমরা এনেছিলাম মস্কো, সেন্ট-পিটার্সবার্গ ও রাশিয়ার অন্যান্য বড় শহরের প্রচুর ফোটো, তাদের সম্পর্কে লেখা বইপত্র. আমি নিজেই এঁকেছি আমার পরিচিত মস্কো নগরীর দৃশ্যাবলী. একটা ছবিতে এঁকেছি ক্রেমলিনের একেবারে লাগোয়া মানেঝনায়া স্কোয়ার এবং পাভেলেত্স্কি রেলস্টেশনের ছবি, যাতে পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্ এই মহানগরীর হৃদস্পন্দন হুবহু ফুটিয়ে তোলা যায়.

      অক্ষত কুমার ১০ বছর মস্কোয় পড়াশোনা করেছেন, জীবনযাপন করেছেন. তার মনে হচ্ছে, যে সামার ক্যাম্পে যোগদানকারী শিল্পীরা রাশিয়ার বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন. কেউ ব্যবহার করেছেন অয়েল-পেন্ট, কেউ এ্যাক্রিল, কেউ বা জলরঙ. সেখানে অঙ্কিত হয়েছে রাশিয়ার হৃদয় - মস্কো ক্রেমলিন, রেড স্কোয়ারেই অবস্থিত অবর্ণনীয় সুন্দর ভাসিল টেম্পল, রাশিয়ার অন্যান্য বড় শহরগুলিতে অবস্থিত বিভিন্ন দ্রষ্টব্য, রাশিয়ার পাড়াগাঁয়ের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা - কি নেই সেখানে!

     সূতীশিল্পী পদ্মিনী মেহতা প্রথম বছর থেকেই এই সামার ক্যাম্পে আসছেন. -

     পদ্মিনী মেহতা সবিস্তারে বলছেন -" আমি আমার শিল্পে বিভিন্ন শৈলী প্রয়োগ করি. খুব ভালো লাগে প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলীর ছবি আঁকতে, কিন্তু এবারের ওয়ার্কশপের বিষয় ছিল নাগরিক জীবন. তাই আমি এঁকেছি রাশিয়ায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠতে থাকা বহুতল ভবনের দৃশ্যপট. আর আমার একটা ছবির নাম 'জননী প্রকৃতি'. ওটা একটা কোলাজ, যেখানে আমি রাশিয়া ও ভারতের বিভিন্ন মরশুমের দৃশ্যাবলীর চিত্রাঙ্কন জুড়েছি পাশাপাশি. আমাদের উভয় দেশের প্রকৃতিই বিপুল সমৃদ্ধশালী, দারুন বৈচিত্র্যময়. আমাদের দায়িত্ব তাকে রক্ষা করার. নগরবাসীদের জন্য বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সান্নিধ্য. তথ্যচিত্রগুলো দেখে মনে হচ্ছে, যে রাশিয়ায় এই সমস্যা সমাধানের জন্য কর্মকান্ড শুরু হয়েছে."

     আরও একজন সামার ক্যাম্পে যোগদানকারী শিল্পী অনিন্দিতা কিশোর এনামেলকে মাধ্যম করে শিল্পচর্চা করেন. অনিন্দিতা বলছেন, যে রাশিয়ায় এনামেল সংস্কৃতির ঐতিহ্য আছে বহুকাল ধরে. আমি সানন্দে তার সাথে পরিচিত হচ্ছি. -

    অনিন্দিতা বলছেন -  "আমি বহুদিন ধরেই রাশিয়াকে নিয়ে মুগ্ধ. একসময় আমার স্বপ্ন ছিল ব্যালেরিনা হওয়ার. তাই আমার একটা ছবিতে আমি এঁকেছি বলশোয় থিয়েটারের ছবি. রুশী ব্যালে জগতে অতুলনীয়. একবার সিনেমায় বলশোয় থিয়েটারে অভিনীত 'সোয়ান্স লেক' দেখে আমি এত অভিভূত হয়েছিলাম, যে তারপর থেকেই রাশিয়া সম্পর্কে যত বেশি সম্ভব হয়, জানার চেষ্টা করি. আমি স্বপ্ন দেখি ঐ দেশ সফর করার. রুশী বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি ভবন কর্তৃক আয়োজিত সামার ক্যাম্প দারুন উপভোগ করেছি."

    দিল্লির সামার ক্যাম্পে ভারতীয় শিল্পীদের সৃজন করা শিল্পসামগ্রী দিল্লীস্থিত রুশী বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি ভবনে প্রদর্শন করা হবে সেপ্টেম্বরে. আর অক্টোবরে সেই প্রদর্শনী হবে রাশিয়ার সেন্ট-পিটার্সবার্গে এবং আশা করা হচ্ছে, যে কয়েকজন মনকাড়া ভারতীয় চিত্রশিল্পীকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে সেই প্রদর্শনী উপলক্ষে.