প্রতিবছর জুলাই মাসের শেষ রবিবার রাশিয়ায় সামরিক নৌবাহিনী দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ১২টি সাগর আর ৩টি মহাসাগর যা দেশের উপকূলীয় এলাকা ছুঁয়ে গেছে তাই সংঘত কারণেই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের একটি উৎসব। ঐতিহ্য অনুযায়ী প্রশান্ত মহাসাগর, কৃষ্ণ সাগর ও কাস্পিয়ান সাগরের নৌঘাটিতে এ দিন যুদ্ধ যাহাজের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে।

প্রশান্ত মহাসাগরের প্রধান নৌঘাটি রাশিয়ার ভ্লাদিভস্তকে অবস্থিত। প্রায় ৩ শতক ধরে দেশের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা সুরক্ষার কাজ করছে। ২৮ জুলাই ভোরে আমুর উপসাগরে জমকালে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে। আর তা দেখতে শহরের প্রায় সব বাসিন্দা জড়ো হবে। এর পরে দর্শকদের জন্য নাটক প্রদর্শন করা হবে।

অন্যদিকে দূরপ্রাচ্য থেকে আরো কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে সেভাস্তোপলস্কি উপসাগরীয় অঞ্চলে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে দেখা যাবে কৃষ্ণ সাগরের রুশ নৌঘাটির জাহাজ যা কিনা ২৩০ বছরে পা দিয়েছে। এখানে ইউক্রেনের নৌবাহিনীর সেনারা কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করবেন। এমনটি বলেছেন কৃষ্ণ সাগর নৌঘাটির প্রেস সচিব ফাস্ট ক্যাপ্টেন ভিয়াচসলেভ তুরুখাচেভ। রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন, "এটি সামগ্রিক দিক দিয়ে একটি পেশাদারি উৎসব। মূলত দুটি ভাগে তা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এর একটি হচ্ছে যুদ্ধ জাহাজের সামরিক মহড়া। আর এর পরে রয়েছে সামরিক ক্রিড়া উৎসব। এর উদ্বোধন করবে কৃষ্ণ সাগরের নৌঘাটির আধুনিক রকেট যুদ্ধ জাহাজ যা রাশিয়া ও ইউক্রেনের পতাকা বহন করবে। আশাকরা হচ্ছে বিভিন্ন ক্যাটাগরির জাহাজ যেমন যুদ্ধকালিন থেকে উদ্ধার কার্যে নিয়োজিত জাহাজ এতে অংশ নিবে।"

রাশিয়ার উত্তরাঞ্চল। এখানে আর্খানগেলস্ক অঞ্চলে নৌবাহিনীর ঘাটিতে ডুবোজাহাজ নভোসিবিরস্কের এক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। রকেটবহনকারী রাশিয়ার এই পরমাণু ডুবোজাহাজটি হবে নতুন প্রজন্ম সিরিজের তৃত্বীয় রুপ।

২৮ জুলাই এ উৎসব পালিত হবে উত্তর নৌঘাটির রাজধানীতে। এমনটি বলছেন ওই ঘাটির প্রেস সচিব ফাস্ট ক্যাপ্টেন ভাদিম সের্গা। রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন, "সামরিক নৌবাহিনী দিবস ও উত্তরাঞ্চলে নৌঘাটির ৮০ বছর উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইতিমধ্যে কালস্কী উপসাগরে যুদ্ধ জাহাজ ও ডুবোজাহাজের সারি অপেক্ষা করছে। তবে সবচেয়ে আকর্ষনীয় পর্ব হবে সামরিক ক্রিড়া উৎসব।"

 আর কাস্পিয়ান নৌঘাটির উৎসব পালিত হবে আস্ট্রাখানে।এখানে পিটার প্রথমের নামঙ্কিত স্কোয়ারে এ উপলক্ষ্যে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ১৬৯৬ সালে তৎকালিন রুশ সম্রাটের নির্দেশে সামরিক নৌবাহিনী ঘাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়

রাশিয়ার বিভিন্ন শহরে নানা অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে এ বছর পালিত হবেসামরিক নৌবাহিনী দিবস।