শুরু করছি আমাদের নিয়মিত পাক্ষিক অনুষ্ঠান - রাশিয়ার আদ্যোপান্ত. 

     এই অনুষ্ঠানে আমরা আপনাদেরই পাঠানো চিঠিপত্রের ভিত্তিতে রাশিয়া সম্পর্কে সবিস্তারে জানাই.

     আর তাই, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তানের অধিবাসীদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি যত বেশি সম্ভব রাশিয়া সম্পর্কে জানার জন্য প্রশ্ন পাঠানোর.

     আজ আমরা নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দেবোঃ

     ভারতের মুম্বাই থেকে সুনীত তিওয়ারি জানতে চেযেছেনঃ রাশিয়ায় দৃষ্টিহীনদের কিভাবে প্রতিপালন করা হয়?  এরকম কোনো পেশা আছে কি, যেখানে অন্ধরা অগ্রাধিকার পায়?

     ভারতেরই বিজয়ওয়াড়া থেকে মহম্মদ আকবর খান জানতে চেয়েছেন - এইমুহুর্তে রাশিয়ায় কতগুলো উত্পাদনশীল পারমানবিক বিদ্যুত্কেন্দ্র আছে?  (муз. отбивка).

     সুতরাং, শুরুতে উত্তর দিচ্ছি রাশিয়ায় দৃষ্টিহীনদের অবস্থা সম্পর্কে. আমাদের দেশে তিন স্তরের প্রতিবন্ধী আছে. দৃষ্টিহীনরা পড়ে প্রথম, সবচেয়ে কঠিন স্তরে.  অন্যান্য প্রতিবন্ধীদের মতোই তারা প্রত্যেক মাসে সরকারি মাসোহারা পায়, পাবলিক ট্র্যান্সপোর্টে বিনামূল্যে চড়তে পারে.

     বছরে একবার দৃষ্টিহীন ব্যক্তি ও তার সহযোগী বিনামূল্যে ট্রেন বা প্লেনের টিকিট পেতে পারে চিকিত্সা করাতে যাওয়ার জন্য. যেমন ধরুন, কোনো সিরিয়াস অপারেশন, যা করা হয় শুধুমাত্র বড় শহরের হাসপাতালেই.

     দৃষ্টিহীনরা বছরে একবার বিনাপয়সায় বিশ্রাম নিতে যেতে পারে কোনো স্বাস্থ্যোদ্ধার কেন্দ্রে. সেখানে তার যাওয়া-আসা ও থাকার খরচ মেটায় সরকার.

     নবীন দৃষ্টিহীনরা যদি প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়, তাহলে তারা যে কোনো উচ্চ শিক্ষায়তনে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়. শুধু একটাই শর্ত আছে - শিক্ষালাভের জন্য তাদের শারিরীক অবস্থা যে প্রতিকূল নয়, সেই সংশাপত্র পেশ করতে হয়.

     রাশিয়ায় দৃষ্টিহীনদের কোন কোন পেশায় সবচেয়ে বেশি চাহিদা?

     যদি ঈশ্বর একটা কিছু কেড়ে নেন, তাহলে তার পরিবর্তে তিনি অন্য কিছু দান করেন. সাধারণতঃ দৃষ্টিশক্তি না থাকলে শ্রুতিশক্তি এবং অনুভূতিপ্রবণতা বেশি প্রখর হয়. অন্ধদের মধ্যে অনেক সঙ্গীতজ্ঞ, সুরকার, গায়ক রযেছেন. আর হাতের আঙুলগুলি যদি খুব অনুভূতিপ্রবণ হয়, তাহলে তারা ম্যাসেজ-থেরাপিস্টের কাজ করে.

     সম্প্রতি 'মস্কো ন্যিউজ' সংবাদপত্রে এক অনন্যসাধারণ ম্যাসেজ-থেরাপিস্টের সম্পর্কে একটা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল. তিন বছর বয়স থেকে সে দৃষ্টিশক্তি হারাতে শুরু করে. এখন প্রায় পুরো অন্ধ. তার নাম সের্গেই দুরাসভ.  সে শৈশবে পড়াশোনা করেছে পলিটেকনিকে, যেখানে তার মা ছিলেন কর্মরতা. সেখানে শরীরশিক্ষার শিক্ষক, যিনি একাধারে ছিলেন ম্যাসেজ-থেরাপিস্ট, তিনিই সের্গেইকে পরামর্শ দিয়েছিলেন ম্যাসেজ-থেসাপিস্টের পেশা গ্রহণ করার. সের্গেই দুরাসভ আমাদের গল্প করেছেন, যে ম্যাসেজের পেশাদারী উচ্চ শিক্ষায়তনে ভর্তি হওয়ার আকাঙ্খায় তিনি জান লড়িয়ে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন. তার মা ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনরা তাকে পড়ে শোনাতেন এমনকি টেপ-রেকর্ডারে ধ্বনিত করে রাখতেন অপরিহার্য জ্ঞানসামগ্রী. এবং সের্গেই দুরাসভ উত্তর ককেশাসের কিসলাভোদস্ক শহরে সেরকমই একটা উচ্চ শিক্ষায়তনে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সেখানে ভর্তি হতে পেরেছিলেন.

     সেখানে সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন ও প্রায়ান্ধদের কি শেখানো হয়?

     চিকিত্সাবিদ্যা, বিশেষ করে অ্যানাটমি ও হাতের আঙুলের অনুভূতিপ্রবণতা বাড়ানো শেখানো হয় সেখানে.    (челеста)

     আর এবার আপনাদের সামনে পেশ করছি জন্মগত দৃষ্টিহীনা, রাশিয়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয়া, সুদর্শনা ও অত্যন্ত প্রতিভাময়ী গায়িকা দিয়ানা গুরত্স্কায়া পরিবেশিত একটি গান. তার ৩৫-বছরের জন্মজয়ন্তী পালন করার ঠিক প্রাক্কালে 'মস্কো ন্যিউজ'কে দেওয়া ইন্টারভ্যিউতে দিয়ানা বলেছেন, যে অন্ধত্ব সত্বেও তিনি সুখী - তার স্বামী আছে, যে তাকে ভালোবাসে এবং বেড়ে উঠছে তার স্বাস্থ্যবান প্রিয়তম পুত্র. দিয়ানা নিজে গ্নেসিনিদের নামাঙ্কিত সঙ্গীতালয় ও মডার্ন আর্ট ইনস্টিটিউটের স্নাতিকা. মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ. করার তোড়জোড় শুরু করেছেন তিনি. স্বামীর সঙ্গে মিলে দৃষ্টিহীন শিশুদের জন্য একটি দাতব্য তহবিলও গঠন করেছেন. এরকমই আমাদের সুন্দরী ও প্রতিভাময়ী অন্ধ গায়িকা দিয়ানা গুরত্স্কায়া. এবার শুনুন তার সমধুর কন্ঠে একটি গান.   (песня Гурцкой)

     এবার উত্তর দেব বিজটওয়াড়া থেকে মহম্মদ আকবর খানের পাঠানো প্রশ্নের.  তিনি জানতে চেয়েছেনঃ রাশিয়ায় উত্পাদনশীল কতগুলি পারমানবিক বিদ্যুত্কেন্দ্র আছে.

     আজকের দিনে রাশিয়ায় মোট ১০টা পারমানবিক বিদ্যুত্কেন্দ্র কার্যরত, যেখানে ৩৩টি ইউনিট থেকে বিদ্যুত্ উত্পাদন করা হয়, গড়ে প্রতিটি পারমানবিক বিদ্যুত্কেন্দ্রে ৩ থেকে ৪টি ইউনিট বিদ্যুত্ উত্পাদন করে. সেগুলি মুলতঃ রাশিয়ার ইউরোপীয় ভূখন্ডে অবস্থিত ও তারা রাশিয়ায় মোট বিদ্যুতের ১৭% যোগান দেয়.

     এখন আমাদের দেশে সমুদ্রে ভাসমান পারমানবিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়িত করা হচ্ছে. অচলমান ভাসমান জাহাজে দুটি সল্পশক্তির ইউনিট চালু করার কাজ চলছে. এরকম প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় উত্তর মেরু সংলগ্ন এলাকায় রাশিয়ার বরফকাটা (ড্রেজার) জাহাজগুলিতে.  এ্যাটমিক ইঞ্জিনীয়ারদের ধারণা, যে এরকম বিদ্যুত্স্টেশন প্রায় ৩৬ বছর কার্যকরী থাকবে. সমুদ্রপথে এরকম স্টেশন সেখানেই সেট করা যাবে, যেখানে বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দেবে, যেমন ধরুন, বড় বন্দর নগরীগুলিতে বড়সড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলিকে বিদ্যুত সরবরাহ করার জন্য.

     বর্তমানে বিজ্ঞানীদের মনোযোগের কেন্দ্রে রয়েছে সমুদ্র জলরাশির নীচে আবিষ্কৃত খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বিপুল ভান্ডার.  ভাসমান পারমানবিক বিদ্যুত্কেন্দ্র সেই সব জায়গায় খনিজ পদার্থ নিষ্কাশনে সহায়ক হবে. ঐরকম ভাসমান পারমানবিক বিদ্যুত্কেন্দ্রের প্রথমটি ২০১৫ সালে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে.

     শুধু বিদ্যুত্ উত্পাদন করার জন্যই কি ঐ সব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হবে?

     মোটেই নয়. বিদ্যুত উত্পাদনের পাশাপাশি ঐ সব প্ল্যাটফর্ম সামুদ্রিক জল লবনবিযুক্ত করে পানীয় উপযোগী করে তুলতে সক্ষম হবে. ঐরকম একটা বিদ্যুত্কেন্দ্র দিনে ৪০ থেকে ২৪০ হাজার টন পর্যন্ত মিঠে জল সরবরাহ করতে পারবে.  (челеста)

     'রাশিয়ার আদ্যোপান্ত' অনুষ্ঠানটি এবারের মতো এখানেই শেষ করছি. আমরা আপনাদের কাছ থেকে রাশিয়া সম্পর্কে কৌতুহলোদ্দীপক প্রশ্ন সম্বলিত চিঠিপত্রের অপেক্ষায় থাকবো. ইল্টারনেটে আমাদের কাছে চিঠি পাঠানোর ঠিকানাঃ lettersruvr.ru