ভারত সফরের সময়ে বৃহস্পতিবারে মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের ঘোষিত উদ্যোগে, রাশিয়ার রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিজ্ঞদের খুবই সাবধান হওয়া উচিত্. এই বিষয়ে “রেডিও রাশিয়াকে” রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ পিওতর তোপীচকানভ মন্তব্য করে বলেছেন. মুম্বাই শহরে আমেরিকার রাজনীতিবিদ প্রস্তাব করেছেন ওয়াশিংটন, নয়াদিল্লী ও বেজিংয়ের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক আলোচনার ব্যবস্থা করতে. তাঁর উদ্যোগ যদি রাশিয়ার সমর্থিত ব্যবস্থাকে বন্ধ করতে নাও পারে, তাহলেও চিন ও ভারতের জন্য একটা বিকল্পে পরিণত হতেই পারে, এই রকমই মনে করেছেন পিওতর তোপীচকানভ.

বিশেষজ্ঞ ব্যাখ্যা করেছেন যে, প্রাথমিক ভাবে, তিনি সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও ব্রিকসের ব্যবস্থার কথাই বলছেন. চিন ও ভারত এই দুটি কাঠামোর মধ্যেই পারস্পরিক ভাবে কাজ করছে – ভারত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় পর্যবেক্ষক দেশ হয়ে রয়েছে ও ব্রিকস গোষ্ঠীর সদস্য. এই ক্ষেত্রে যেমন সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা, তেমনই ব্রিকস, জো বাইডেনের উদ্যোগে তৈরী হওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র – ভারত- চিন ব্যবস্থার মতই সর্বজনীন অর্থনৈতিক ক্ষেত্র তৈরী করার লক্ষ্য সামনে রেখেছে, এই বিষয়ে উল্লেখ করে পিওতর তোপীচকানভ বলেছেন:

“রাশিয়া ও চিনের উচিত হবে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও ব্রিকসের উন্নয়নে স্ট্র্যাটেজিক সম্ভাবনার বোধ থেকে জোর প্রয়োগ করার. তা না হলে, আমি ভয় পাচ্ছি যে, এই ধরনের উদ্যোগ আরও উঠে আসবে, যা বাইডেন ভারতে বলেছেন. নানারকমের বিকল্পের উদ্ভব হতে থাকবে. রাশিয়ার উচিত্ হবে না চিন, ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার বিরুদ্ধে কথা বলার. কিন্তু রাশিয়ার কাজ করার দরকার পড়বে এগিয়ে থেকেই, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও ব্রিকসের খুবই দ্রুত উন্নতি করার মধ্যে দিয়ে. কিন্তু তা কিসের জন্য? যাতে এই কাঠামো গুলি ভারত, রাশিয়া ও চিনের মধ্যে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রধান মঞ্চ হতে পারে. নিরাপত্তা প্রশ্নে মতামত ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যে, যাতে এই এলাকায় স্থিতিশীলতা ও প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বজায় রাখা সম্ভব হয়”.

এরই মধ্যে ঠিক এই ধরনের মঞ্চই এখনও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা হয়ে উঠতে পারে নি বলে মনে করেছেন পিওতর তোপীচকানভ. এই দিকে পদক্ষেপ সেই কারণেই আটকে যাচ্ছে যে, এখনও ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে সম্পূর্ণ সভ্য পদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয় নি. তাই তিনি বলেছেন:

“এখনই অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা এশিয়া- প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকাতে করা সম্ভব নয়, এমনকি বর্তমানের সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্যদের এলাকাতেও তা করা যায় না, যদি না আলোচনার টেবিলে আমরা পাকিস্তান, ভারত ও আফগানিস্তানের প্রতিনিধিদের দেখতে পাই. এই ধরনের আলোচনা মনে হয় অসম্পূর্ণ. আর এটাও ঠিক যে, রাশিয়া এখানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় পর্যবেক্ষকদের মধ্য থেকে নতুন সভ্য নেওয়ার ও প্রসার করার বিষয়ে উদ্যোগ নিতে বাধ্য. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা সমস্ত রকমের সুযোগই রাখে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় নিরাপত্তা রক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়ে এঞ্জিনের কাজ করতে”.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপরাষ্ট্রপতি স্বীকার করেছেন যে, তাঁর প্রকল্প কঠিন সমস্যার সম্মুখীণ হতেই পারে. ওয়াশিংটনের বেজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক সহজ নয়, ঠিক একই রকম ভাবে নয়া দিল্লীরও বেজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক সহজ নয়. তাঁর কথামতো, তার মধ্যে যেমন সহযোগিতার বিষয় রয়েছে, তেমনই রয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ও. তারই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আশা করেছে সেই গুলিকে গঠন মূলক ভাবে তৈরী করার, এই প্রসঙ্গে তিনি ভারত – জাপান – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিপাক্ষিক সম্পর্কের উদাহরণ তুলে এনেছেন. এখন সময় এসেছে একই রকমের আলোচনা চিনের সঙ্গেও করার, তিনি জোর দিয়ে বলেছেন.

কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাঠামোতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্ভব হয়েছে এই তিন দেশের মধ্যে কোন রকমের এলাকা সংক্রান্ত বিরোধ না থাকায়. ভারত ও চিনের মধ্যে সম্পর্ক টানটান রয়েছে সীমান্ত প্রশ্নেই, যা প্রায়ই সশস্ত্র বিরোধে পরিণত হচ্ছে. আর এটাই জো বাইডেনের প্রস্তাবিত সমস্ত কাঠামোকেই একবারে নস্যাত করে দিতে পারে.