আমেরিকার বিশেষ বাহিনী বিশ্বে আবহাওয়ার উপরে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান একাডেমীকে একই রকমের গবেষণা করার জন্য বায়না দেওয়া হয়েছে সিআইএ সংস্থার পক্ষ থেকে. এটা একটা ভয়ের সৃষ্টি করেছে যে, এবারে আমেরিকা হাতে পাবে আক্রমণাত্মক আবহাওয়া বিষয়ক অস্ত্র.

বিজ্ঞানীরা দুই বছরের মধ্যে মানুষের উপরে আবহাওয়া পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে গবেষণা করে দেখবেন. এমনিতেই এই গবেষণা দেখাচ্ছে খুব নিরাপদ বলে. কিন্তু তার জন্য অর্থ বরাদ্দ সিআইএ সংস্থার তহবিল থেকে দেওয়াটাই একটা কারণ দিয়েছে, ভাবার যে, বাস্তবে আমেরিকার লোকরা আবহাওয়ার অস্ত্রই তৈরী করতে চাইছে. এই ধারণা কতটা ভিত্তি রাখে, তা নিয়ে বোঝা খুবই শক্ত, কিন্তু বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনীর লোকরা যে, বহুদিন ধরেই আবহাওয়ার অস্ত্র নিয়ে স্বপ্ন দেখছে, তা খুবই জানা বাস্তব. এই পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর আলেকজান্ডার শারাভিন বলেছেন:

“বিশ্বের সমস্ত অগ্রণী রাষ্ট্রই আবহাওয়া অস্ত্র নিয়ে আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছে অনেকদিন আগে থেকেই, প্রায় পঞ্চাশ বছর হয়ে গিয়েছে. কেউ এই ব্যাপারে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে, কেউ রয়েছে পিছিয়ে. আবহাওয়ার উপরে প্রভাবের ঘটনা নিয়ে আমরা আগে থেকেই জানি. সমস্যা সেই বিষয়ে নয় যে, কি করে আবহাওয়ার উপরে প্রভাব ফেলা হবে, সমস্যা হল যে, তার পরিণতি কি হতে পারে. এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে জটিল হল – আগে থেকে বলা, ফল কি হবে. আর তাই সম্পূর্ণ অর্থবহ ভাবে সেই সব জিনিষকে নাম দিয়ে বলা, যা এই ক্ষেত্রে বর্তমানে হচ্ছে, অস্ত্র বলে, আমার মতে, তা চলতে পারে না. তাই সেই সমস্ত অঙ্কের অর্থও, যা এখন এই ক্ষেত্রে গবেষণা করার জন্য আমেরিকার সরকার খরচ করছে, তা খুবই স্বল্প পরিমানে. এখানে কথা হচ্ছে কিছু হাজার ডলারের. এটা, অবশ্যই, একেবারেই হাস্যস্কর অর্থ, যা দিয়ে কোনও নতুন অস্ত্র বানানো সম্ভবপর হতে পারে”.

এরই মধ্যে কিন্তু জানা রয়েছে সেই সমস্ত ঘটনার কথা, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবহাওয়ার উপরে প্রভাব ফেলেছিল নিজেদের সামরিক সাফল্যের জন্যই. এটা ঘটেছিল ভিয়েতনামের যুদ্ধের সময়ে. তখন আমেরিকার লোকরা পপেয়ে (পালং) নামের এক অপারেশন করেছিল: বর্ষার সময়ে তারা বিমান থেকে মেঘে রূপোর আয়োডাইড ছড়িয়ে দিয়েছিল, ফলে বৃষ্টিপাতের পরিমান বেড়ে গিয়েছিল তিনগুণ আর বৃষ্টির একটানা হওয়ার সময়ও বেড়েছিল – দেড়গুণ. এটা আবার এমন করেছিল যে, সেই সমস্ত রাস্তা আর হাঁটাপথ, যা দিয়ে ভিয়েতনামের গেরিলা বাহিনীরা অস্ত্র রসদ পাচ্ছিল, সেই গুলোকেই করে দিয়েছিল একেবারে ভেড়ির মতোই.

এটা সত্যি যে, তখনই টের পাওয়া গিয়েছিল যে, এই ধরনের যুদ্ধ করার পদ্ধতি খুবই দামী, আর তার ফল খুব কম সময়ের জন্য. তা স্বত্ত্বেও, আমেরিকার লোকরা নিজেদের শত্রুদের বিরুদ্ধে “আবহাওয়াতে নাশকতা মূলক কাজ” করতে পারে, তা নিয়ে বিশ্বাস, তখন থেকেই রয়েছে. যেমন, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ইরানের রাষ্ট্রপতি আহমাদিনিজাদ ঘোষণা করেছিলেন যে, তাঁদের দেশের খরার কারণ শত্রুরাই, আর বর্তমানে মৃত, ভেনেজুয়েলার নেতা হুগো চাভেস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নামে অভিযোগ করেছিলেন যে, তারা চিনে ও হাইতি দ্বীপে ২০১০ সালের ভূমিকম্পের পেছনে রয়েছে.

রাশিয়াতে এক সময়ে খুবই অস্বাভাবিক গরমের জন্যও দোষ দেওয়া হয়েছিল আমেরিকার স্টেশন হার্পের উপরে, এই কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিশ্ব বন্য তহবিলের আবহাওয়া প্রকল্প কেন্দ্রের ডিরেক্টর আলেক্সেই ককোরিন বলেছেন:

“আলাস্কা এলাকায় দূরের যোগাযোগ করার জন্য স্টেশন, যাকে চলতি ভাষায় একটা দৈত্যাকার মাইক্রো ওভেন বলা যেতে পারে, সেই হার্প স্টেশন সম্বন্ধে ভাল করেই জানা রয়েছে. আর মস্কোতে যখন ২০১০ সালে একেবারে প্রচণ্ড গরম পড়েছিল, তখন কানাঘুষো শোনা গিয়েছিল যে, - “এটা কি সেই স্টেশনের কারবার নয়?” বাস্তবে, এই ধরনের স্টেশন অনেক দূরেও মেঘে গর্ত করতে সক্ষম. কিন্তু অন্য ব্যাপার হল যে, মস্কোর সেই গরমের সময়ে এই ঘটনা স্রেফ লক্ষ্য করা যায় নি”.

হার্প স্টেশন – এই প্রকল্প কিছু বিরল নয়. একই ধরনের কাজ করছে অন্য দেশেও. তার মধ্যে রাশিয়াতেও রয়েছে, নিঝেগোরদ এলাকাতে. এখানে তফাত শুধু এই টুকুই যে, হার্প স্টেশনে পাওয়া তথ্যের বেশীর ভাগটাই গোপন রাখা হয়েছে, আর এই প্রকল্পের উপরে হস্তক্ষেপ করেছে আমেরিকার সামরিক নৌবহর ও সামরিক শক্তিরাই. সম্ভবতঃ, এই ঘটনাই হার্প স্টেশনকে একটা দানব রূপে দেখাতে সাহায্য করেছে. তা সে যাই হোক না কোন, কিছু দিন আগেই এই স্টেশনকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে. স্রেফ তার কাজ চালানোর জন্য আমেরিকার বাজেটে অর্থ খুঁজে পাওয়া যায় নি বলে.