এডওয়ার্ড স্নোডেনের জন্য মস্কো বিমান বন্দরের ট্রানজিট এলাকায় থাকার মেয়াদ অনির্দিষ্ট কালের জন্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে. সমস্ত রকমের পূর্বাভাস স্বত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় অভিবাসন দপ্তর ২৪শে জুলাই তার সাময়িক আশ্রয়ের অনুরোধ মেনে নেয় নি. স্নোডেনের পরামর্শদাতা, রাশিয়ার অ্যাডভোকেট আনাতোলি কুচেরেনা, কোন রকমের সঠিক পূর্বাভাস দিতে অস্বীকার করেছেন. যদি রাষ্ট্রীয় অভিবাসন দপ্তর স্নোডেনকে তাও সাময়িক আশ্রয় দিতে অস্বীকার করে, তবে তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করবেন. আপাততঃ আমেরিকার বিশেষ বাহিনীর প্রাক্তন কর্মী রাশিয়ান ভাষা শিখছেন ও কাজের খোঁজ করছেন.

ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করা - এটা একমাত্র বিষয়, যা স্নোডেনের জন্য বাকী থেকে যাচ্ছে. এমনকি রাষ্ট্রীয় অভিবাসন দপ্তরের সিদ্ধান্তের অনুপস্থিতিতেও স্নোডেন বুধবারে একটি সার্টিফিকেট পেতে পারতেন, যা তাকে বিমানবন্দরের, যেখানে এই পলাতক আজ এক মাসের বেশী সময় ধরে আছেন, সেই ট্রানজিট এলাকা ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারতো. বিমানবন্দরের বাইরে আমেরিকার এই প্রাক্তন নাগরিকের আবির্ভাব একশরও বেশী সাংবাদিক অপেক্ষা করে ছিলেন. প্রায় সাড়ে পাঁচটার সময়ে সাংবাদিকদের সামনে বের হয়ে এসেছিলেন আনাতোলি কুচেরেনা, কিন্তু স্নোডেনকে ছাড়াই. তিনি জানিয়েছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর বাহিনীর প্রাক্তন কর্মীকে এই টার্মিনালে কোন ব্যাপারেই নিষেধ করা হয় নি, কিন্তু সে আপাততঃ টার্মিনালেই থেকে যাবে. তার এই পিছিয়ে দেওয়াটা খুবই ন্যায্য কারণ সম্পর্কিত – যেহেতু স্নোডেনকে ঘিরে পরিস্থিতি খুবই অসাধারণ ও তার জন্য সময়ের প্রয়োজন, এই প্রসঙ্গে কুচেরেনা বলেছেন:

“তাঁর অনুরোধ আপাততঃ রয়েছে রাষ্ট্রীয় অভিবাসন দপ্তরে, - এই পরিষেবার অধিকার রয়েছে এই অনুরোধের কারণ গুলি খুঁটিয়ে বিচারের জন্য তিন মাসের মধ্যে কাজ করার. রাশিয়াতে এই ধরনের পরিস্থিতি হয়েছে প্রথমবার. এই সমস্যার জন্য সময় দেওয়া দরকার, তার মধ্যে অভিবাসন দপ্তরের কর্মীদের জন্যও. যতদিন এই প্রশ্ন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া চলতে থাকবে, স্নোডেনকে একটি সার্টিফিকেট দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, যে, তার ডক্যুমেন্ট বিচারের জন্য নেওয়া হয়েছে. আর তা যে কোন মুহূর্তেই দেওয়া হতে পারে”.

কিন্তু স্নোডেন কখন এই সার্টিফিকেট পাবে, তা কুচেরেনা পূর্বাভাস দিতে অস্বীকার করেছেন. তাঁর কথামতো, যে কোন রকমের নির্দিষ্ট করে বলাই এক “অভূতপূর্ব উত্তেজনা ও ফাটকাবাজী” শুরু করে দিতে পারে, যা এই বিষয়ের “স্বাভাবিক গতিকেই ব্যাহত করবে”. এমনকি যদি রাষ্ট্রীয় অভিবাসন দপ্তর থেকে পরিণামে নেতিবাচক সিদ্ধান্তও দেওয়া হয়, তাহলেও স্নোডেনের কাজের একটা পরিকল্পনা রয়েছে, তাই কুচেরেনা বলেছেন:

“আমরা তার সঙ্গে ইতিমধ্যেই, কি করা হবে এই রকমের ফল হলে, তাই নিয়ে আলোচনা করেছি. যদি সরকারি ভাবে আমরা অনুমতি না পাই, তবে আমরা আদালতে যেতে পারি ও এই নেতিবাচক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারি. স্নোডেনের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ হল যে, যত দ্রুত সম্ভব এই সিদ্ধান্ত পাওয়া. অবশ্যই সে সজীব রয়েছে আর তাকে দেখতে খারাপ লাগছে না. সে একটা শোকগ্রস্ত অবস্থায় আছে, এমন আমি বলতে পারছি না. সে চেষ্টা করছে, সেই পরিস্থিতিকে বুঝে উঠতে, যে অবস্থায় সে এখন রয়েছে”.

“শেরেমেতিয়েভো” বিমানবন্দরের ট্রানজিট এলাকার ছোট্ট ক্যাপস্যুল হোটেলেই এখন স্নোডেনকে থাকতে হবে. আনাতোলি কুচেরেনা তাকে নতুন জামাকাপড় ও বই দিয়ে এসেছেন. অ্যাডভোকেট, সাংবাদিকদের কাছে বেশ কয়েকবার এটা দেখিয়েছেন, এমনকি স্নোডেনের সঙ্গে দেখা হওয়ার আগেই. সাংবাদিকদের মধ্যে কেউ একজন তত্ক্ষণাত উল্লেখ করেছেন যে, বইগুলি খুবই মোটা: যে লোক খুব শীঘ্রই মুক্ত হয়ে বেরিয়ে আসবে, সে পড়ে ওঠার সময় পাবে না. কুচেরেনা বলেছেন যে, স্নোডেনকে “রাশিয়ার ইতিহাস” ও দস্তয়েভস্কির লেখা “অপরাধ এবং শাস্তি” আর এই দেশের ট্যুরিস্ট গাইড উপহার দিয়েছেন. কিন্তু সাংবাদিকদের তিনি দস্তয়েভস্কির লেখা অন্য একটি বই দেখিয়েছেন – “কারামাজভ ভাইয়েরা”. সমস্ত বইগুলিই ছিল ইংরাজী ভাষায় অনুদিত. পরে যেমন অ্যাডভোকেট উল্লেখ করেছেন যে, স্নোডেন রুশ ভাষা শিখতে শুরু করেছে.

স্নোডেনের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে – রাশিয়াতে কাজ খুঁজে পাওয়া, আর কোন একটা ভাবে নিজের জীবনকে তৈরী করে নেওয়া. সে কিভাবে এটা নিয়ে ভাবছে, প্রাক্তন সিআইএ কর্মী আপাততঃ, তা নির্দিষ্ট করে বলছে না.