তেহরান থেকে উত্স জানিয়েছে যে, রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ইরান সফরে যেতে পারেন. ক্রেমলিনে এই সব খবর সরকারি ভাবে স্বীকৃতী দেওয়া হয় নি, আবার তা অস্বীকারও করা হয় নি. স্পষ্টই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, সম্ভাব্য সফর বিশেষ ধরনের মনোযোগ আকর্ষণ করে. কিন্তু কেন? ভ্লাদিমির সাঝিনের এই প্রসঙ্গে মন্তব্য দেওয়া হল.

আপাততঃ সরকারি ভাবে সফরের সময় নিয়ে কোন তথ্য নেই, তার আলোচ্য বিষয় নিয়েও জানা নেই, তার প্রোটোকল সম্পূর্ণ ভাবে কি রকমের তাও জানা নেই, এখন শুধু সাধারণ মতামতই দেওয়া চলতে পারে.

ইরানে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে – নতুন রাষ্ট্রপতি হয়েছেন খোজাত-ওল-এসলাম হাসান রোহানি – রাজনীতিবিদ, যাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্রের রাজনৈতিক পথের সংশোধন করার.

রাশিয়া – বিশ্বের এক খুবই কমসংখ্যক নেতৃস্থানীয় দেশের একটি, যাদের ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রয়েছে, যা তাদের জন্যই আজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ. দুটি দেশের বহু সমস্যা নিয়েই দৃষ্টিকোণের নৈকট্য রয়েছে, কিন্তু পার্থক্যও রয়েছে. মস্কো শহরে একেবারে শুরুর পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হল রাষ্ট্রপতি রোহানির সঙ্গে তাঁর নতুন পথ নেওয়ার সময়ে দেখে নেওয়া যে, কোনটা রাশিয়ার জন্য গ্রহণযোগ্য, আর কোনটা সম্পূর্ণ ভাবে নয়. এটা যেমন আন্তর্জাতিক সমস্যা নিয়ে, যার একেবারে কেন্দ্রে রয়েছে পারমাণবিক সমস্যা, তেমনই আঞ্চলিক, যাতে এগিয়ে রয়েছে সিরিয়ার সমস্যা, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অনির্দিষ্ট হয়ে রয়েছে কিছু অস্ত্র সংক্রান্ত সমঝোতার বিষয়ে. সুতরাং আলোচনার বিষয় বস্তু রয়েছে.

তার ওপরে, ইরানে রোহানির বিজয় সংক্রান্ত আবেগের প্রাবল্যের মধ্যে আরও বেশী করেই বলা শুরু হয়েছে ইরানের রাজনীতিতে সম্ভাব্য পশ্চিমের দিকটির শক্তিশালী হওয়া নিয়ে, যা অনেকটা পেণ্ডুলামের মতই: একেবারে কট্টর পশ্চিম বিরোধীতা থেকে – এবারে ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝোঁকার মতো. এই ধরনের পরিস্থিতিতে কিছু রাজনীতিবিদ যেমন মনে করেছেন যে, মস্কোর উচিত্ হবে ভবিষ্যতের সহযোগিতার অধ্যায় গুলিকে এমন ভাবে নির্দিষ্ট করা, যাতে রাষ্ট্রপতি রোহানি সন্দেহ না করেন যে, ইরানের রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা – সেটা ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্রের জন্যই স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়.

তাছাড়া, আগামী সপ্তাহ ও মাস গুলি এমনিতেই অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা দিয়ে ভর্তি হয়ে রয়েছে: সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলন, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সচিব মণ্ডলীর বৈঠক, “ইরান এবং পাঁচ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশ ও আরও এক দেশ জার্মানীর” প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে আলোচনা, সম্ভবতঃ কাস্পিয় সমুদ্র নিয়ে আলোচনা, যেগুলিতে ইরান থাকছেই. আর রাশিয়া- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ বৈঠক, যেখানে বর্তমানের সবচেয়ে মুখ্য প্রশ্ন গুলি নিয়ে আলোচনা হবে, ও, সম্ভবতঃ সিরিয়া নিয়ে “জেনেভা – ২” সম্মেলন. এই সমস্ত সম্মেলনেই ইরান (তা, তারা এতে নিজেরা অংশ নিক অথবা অনুপস্থিত থাকুক) হবে এক প্রমুখ পক্ষ. সুতরাং, মস্কোর এই সব ফোরামে নিজেদের কৌশল নিয়ে নির্দিষ্ট হওয়ার সুযোগ পেতে হবে, যার প্রয়োজন পড়বে তেহরানের অবস্থানের সম্ভাব্য সংশোধনের পরিপ্রেক্ষিতেই.

ইরানের জন্য মুখ্য প্রশ্ন ও আন্তর্জাতিক সমাজের জন্যও রয়ে যাচ্ছে পারমাণবিক সমস্যা. এই বিষয়ে রাশিয়ার নেতার সম্ভাব্য ইরান সফর নিয়ে রাজনীতিবিদ ও মস্কোর রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আলেকজান্ডার ভাভিলভ বলেছেন:

“এই ধরনের সফর ইরানের পারমাণবিক পরিকল্পনা নিয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে, কারণ এই প্রশ্ন গুলিই আপাততঃ অসমাধিত ও শূণ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়ে গিয়েছে. আশা ছিল, কিন্তু এই আশা খুব কমই বাস্তবায়িত হয়েছে. তাই একেবারে সর্ব্বোচ্চ পর্যায়ে ইরানের অবস্থান নির্দিষ্ট করে নেওয়া – এটা এমনিতেই রাজনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে প্রয়োজনীয়, ইরানের পারমাণবিক সমস্যা রাজনৈতিক ভাবে সমাধানের দিকে অগ্রগতির দৃষ্টিকোণ থেকেও”.

এখানে যোগ করব যে, মস্কো শহরে এখন গুরুত্বপূর্ণ হল শুধু ইরানের অবস্থান বুঝে নেওয়াই নয়, বরং ইরানের লোকদের বোঝানো যে, রুশ প্রজাতন্ত্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভের “একের পর এক পা ফেলে” নামের পরিকল্পনা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া ও পরিবর্তে ইরানের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের দাবী মেনে নেওয়া, হবে সবচেয়ে ভাল পথ, সমস্যা সমাধানের জন্য. মস্কো আগামী “ইরান – ৫+১ গোষ্ঠীর” আলোচনাতে এক চালিকা শক্তির কাজই করতে পারে, যা আবার করে আলোচনার বন্ধ হয়ে যাওয়া মোটরকে চালু করতে পারে.

রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সর্ব্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনার নতুন অধ্যায়ে কোন না কোন বিশেষ দিক সম্বন্ধে প্রশ্ন ও কল্পনার অবকাশ হতে পারে (আর এখনই তা রয়েছে মনে হচ্ছে) অনেক বেশীই. কিন্ত একটা বিষয়ে কোন সন্দেহই নেই: মস্কো ও তেহরানের আলোচনা মজবুত হলে তা শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেই হবে না – তা, কোনই সন্দেহ নেই যে, অনুভব করার মতোই হবে, যেমন আঞ্চলিক, তেমনই বিশ্বের মঞ্চেও.