২০১৪ সালে চিনের নতুন পারমাণবিক শক্তি চালিত পারমাণবিক রকেট সমেত আধুনিক ডুবোজাহাজের প্রস্তুতি মূলক যুদ্ধের ক্ষমতা লাভ অপেক্ষা করা যেতে পারে. কয়েকদিন আগেই পরীক্ষা করে দেশের নৌবহরের মধ্যে ডিজেল- বিদ্যুত চালিত বিশেষ রকেটবাহী ০৩২ প্রকল্পের ডুবোজাহাজ গ্রহণ করা হয়েছে, যা রকেট পরীক্ষার জন্যই তৈরী. এটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক শক্তি চালিত নয়, এমন ডুবোজাহাজ. বিগত সময়ে বেশী করেই চিনের স্ট্র্যাটেজিক শক্তির উন্নয়ন সম্পর্কে খবর আসছে, যা আমাদের সুযোগ করে দিয়েছে নতুন করে চিনের পারমাণবিক ক্ষমতার সম্ভাবনা সম্পর্কে দেখার – এই কথা উল্লেখ করেছেন স্ট্র্যাটেজি ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ভাসিলি কাশিন.

চিন, সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, স্ট্র্যাটেজিক বোমারু বিমান তৈরী করতে চলেছে, যা হবে নতুন প্রজন্মের; সম্পূর্ণ রকমের প্রস্তুতি নেওয়া চলছে ভারী আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক রকেট তৈরী করার, যেটির অস্ত্রের অংশ ভাগ হয়ে যেতে পারে. একই সঙ্গে একসারি মাঝারি পাল্লার রকেট তৈরী করা হচ্ছে, যাদের পাল্লা চার হাজার কিলোমিটার অবধি. নিজের সম্ভাবনা থেকে এই রকেট সম্ভবতঃ, সোভিয়েত কমপ্লেক্স আরএসডি-১০ “পাইয়োনিয়র” রকেটের কথা মনে করিয়ে দেবে, যা ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময়ে ছিল ইউরোপের জন্য “বজ্রাঘাতের” সমান, আর খুবই সম্ভবতঃ, পাইয়োনিয়র রকেটের মতই এতেও থাকবে আলাদা হয়ে যাওয়া বোমা সহ উপরের অংশ.

এখনও চিন, যেমন মনে করা হয়েছে, ন্যূনতম পারমাণবিক সংবরণ নীতি অনুযায়ী চলেছে. এই নীতি অনুযায়ী, চিন অন্যান্য পারমাণবিক রাষ্ট্র সমূহের সঙ্গে প্রতিযোগিতা থেকে আলাদা হয়ে ছিল আর নিজেদের পারমাণবিক শক্তি ঠিক ততটাই রেখেছিল, যা দিয়ে প্রতিপক্ষকে চিনের এলাকায় আঘাত করায় একেবারে অনিবার্য ভাবে প্রত্যুত্তরের হুমকি দিয়ে, নিবৃত্ত করা যেতে পারে. এর জন্য যথেষ্ট ছিল সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের এলাকায় যাতে কয়েকটি চিনের বোমা সহ রকেট উড়ে যেতে সক্ষম হয়, তার ব্যবস্থা করা.

২০০৪ সালে গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের পররাষ্ট্র দপ্তর এক ঘোষণা করেছিল, যার থেকে বোঝা হয়েছিল যে, চিন সরকারি ভাবে স্বীকৃত পারমাণবিক রাষ্ট্র গুলির মধ্যে সবচেয়ে কম সংখ্যক পারমাণবিক অস্ত্রধর দেশ. এর অর্থ ছিল যে, চিনের পারমাণবিক শক্তি সেই সময়ে ২০০টি পারমাণবিক অস্ত্র সমেত গ্রেট ব্রিটেনের চেয়েও কম ছিল, যাদের এই শক্তি ছিল ডুবোজাহাজে রাখা উড়ানে প্রস্তুত ব্যালিস্টিক রকেট হিসাবে.

স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে যে, গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের পক্ষে সবচেয়ে ছোট পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসাবে অবস্থান রাখা সম্ভবপর হবে না. চিনের পারমাণবিক শক্তি আপাততঃ যথেষ্ট কমই আছে. কিন্তু তারা যে সমস্ত প্রকল্প বর্তমানে নিয়েছে, তাতে তুলনামূলক ভাবে অনতিদূরে এই শক্তি একই সঙ্গে গ্রেট ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সম্মিলিত শক্তির চেয়েও বেশী হবে ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার শক্তির কাছে আসতে শুরু করবে.

চিন, সব দেখে মনে হচ্ছে, সব মিলিয়ে ০৯৪ প্রকল্পের পাঁচ থেকে ছটা পারমাণবিক ডুবোজাহাজ বানাতে চলেছে, যার প্রতিটিতে ১২টি করে “শ্জ্যুইলান–২” রকেট থাকবে. একই সঙ্গে তারা আরও বড় পারমাণবিক ডুবোজাহাজ বানাতে চলেছে ০৯৬ প্রকল্প অনুযায়ী, যাতে ২৪টি করে ব্যালিস্টিক রকেট থাকে. অদূর ভবিষ্যতে সামুদ্রিক স্ট্র্যাটেজিক পারমাণবিক শক্তি হতে পারে ২১৬ থেকে ২১৮টি পারমাণবিক অস্ত্র সমেত. অর্থাত্ ২০০০ এর দশকের শুরুতে সব মিলিয়ে চিনের যত গুলি পারমাণবিক বোমা ছিল, তার থেকে শুধু নৌবহরেই ওয়ারহেডের পরিমাণ হবে বেশী.

চিন আন্তর্মহাদেশীয় ভারী ব্যালিস্টিক রকেট বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ওয়ারহেড আলাদা হতে পারবে, যা খুব সম্ভবতঃ, তাদের দ্বিতীয় সাঁজোয়া বাহিনীর কাঠামোতে, নিরাশ ভাবে পুরনো হয়ে যাওয়া তরল জ্বালানী সমেত রকেট ডিএফ-৫এ গুলির জায়গা নেবে, মনে করা হয়েছে যে, এতে থাকবে একটি করে খুবই শক্তিশালী মোনোব্লক ওয়ারহেড. যদি ভারী রকেট দিয়ে নতুন করে সজ্জিত করার সম্ভাবনা দিয়ে এই ধরনের বাহিনী গুলির দিকে দেখা হয়, যেখানে পুরনো রকেট ছিল, তবে এখানে কথা হবে কম করে হলেও ২০টি এই ধরনের রকেটের. খুব সম্ভবতঃ, এই গুলির সংখ্যা হবে অনেক বেশী; আধুনিক কঠিন জ্বালানী সমেত রকেটের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষেবা সহজ. তাই খুবই বাস্তব হবে মনে করা যে, ২০টি পুরনো রকেটের জায়গায় ২০০টির চেয়েও বেশী নতুন ও ভারী রকেট আসবে.

বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন যে, এই দশকের শেষের দিকেই চিনের কাছে ৬০০- ৭০০ পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে শুধু ব্যালিস্টিক রকেট হিসাবেই, প্রসঙ্গতঃ এর অনেকটাই আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক রকেট হিসাবে হয় নৌবহরে অথবা ভূমি পৃষ্ঠেই থাকবে. এই সংখ্যার সঙ্গে যোগ করা দরকার কিছু পারমাণবিক বিমান থেকে ফেলার মতো বোমা ও সম্ভবতঃ, ডানাওয়ালা রকেটের উপরেও পারমাণবিক ওয়ারহেডের কথা, যদিও আপাততঃ এই ধরনের রকেট, পারমাণবিক বোমা সমেত তৈরীর পরিকল্পনা রয়েছে কিনা, তা নিয়ে পরস্পর বিরোধী খবর রয়েছে.

চিন, এই ভাবেই গ্যারান্টি সহকারে বিশ্বের তৃতীয় পারমাণবিক শক্তিধর হতে চলেছে. যদি রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বারাক ওবামার পরিকল্পনা মতই ১০০০ থেকে ১১০০ অবধি কমানো হয়, তবে বলা যেতে পারে যে, চিন শুধু ওয়ারহেডের সংখ্যা অনুযায়ী দুটি প্রধান পারমাণবিক শক্তিধর দেশের স্তরে উঠে আসবে. নীতিগত ভাবে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক সাম্য ২০২০ সালে কোন সম্ভাব্য নয় এমন কাজ, বলে মনে হবে না. এই প্রসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বিগত সময়ে বাধ্য হয়েছে সামরিক খরচের বিষয়ে খুবই কড়া ব্যয় সঙ্কোচ করতে, যার ফলে তারা, মনে হয় না যে, নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রের প্রশ্নে খরচ বাড়াতে চাইবে. রাশিয়ার সম্ভাবনাও বাস্তবিক কারণে সীমাবদ্ধ, নিজেদের অর্থনীতির কম আয়তনের কারণেই, যদিও এই ক্ষেত্রে নিজেদের পারমাণবিক শক্তি প্রসঙ্গে বর্তমানে প্রাথমিক গুরুত্বই দেওয়া হচ্ছে.