চেচনিয়া প্রজাতন্ত্রের জাতীয় গ্রস্থাগারের ১১০-তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনের প্রস্তুতি চলছে. চেচনিয়ার রাজধানী গ্রোজনিতে প্রথম সাধারণ গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল স্থানীয় শিক্ষকদের উদ্যোগে ১৯০৪ সালে. তখন সংগ্রহ পুরোপুরিই ছিল শহরবাসীদের দান করা বই দিয়ে. ১৯১৭ সালের বিপ্লবের আগে পর্যন্ত ঐ গ্রন্থাগারটিই ছিল গ্রোজনি শহরের একমাত্র সাংস্কৃতিক কেন্দ্র.  ১৯৪৫ সালে গ্রন্থাগারটিকে মহান রুশী লেখক আন্তন চেখভের নামে নামাঙ্কিত করা হয়. 

         আজ ঐ গ্রন্থাগারে চল্লিশ হাজার বইয়ের সংগ্রহ রয়েছে.  ১৯৯৪-৯৫ সালে যুদ্ধ চেচেন সংস্কৃতির অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করেছিল. চেখভ গ্রন্থাগার পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছিল, সংগৃহীত বইয়ের একাংশ আগুনে পুড়ে গেছিল, অবশিষ্টাংশ লুঠ করেছিল দুস্কৃতীরা.

        ২০০০ সালের পর চেচনিয়ার প্রতিবেশী উত্তর-ককেশীয় প্রজাতন্ত্রগুলি থেকে প্রচুর বই দান করা হয়েছিল, মস্কো থেকেও অনেক বই পাঠানো হয়েছিল বরাবরের মতো. -

        আমাদের সংবাদদাতাকে চেচনিয়া জাতীয় গ্রস্থাগারের অধিকর্তা এদিলবেক হাসমাগোমাদভ বলছেন -  যুদ্ধের আগে পর্যন্ত আমাদের সংগ্রহে ছিল প্রচুর দুস্প্রাপ্য বই - প্রায় ১৪ হাজার.  তার কিছুই প্রায় অবশিষ্ট নেই, সামান্য কয়েকটা বই মাত্র. নব্বইয়ের দশকের শেষদিকে  যখন চেচনিয়ার ভূখন্ডে যুদ্ধ চলছিল,  তখন আমরা আবর্জনার স্তুপ থেকে কিছু বই উদ্ধার করেছিলাম. আমাদের এক সহকর্মীনি সেটা খুঁজে পেয়ে পাশ দিয়ে যাওয়া জঙ্গীদের রাজি করিয়েছিলেন বইগুলো জায়গায় পৌঁছে দিতে.

        পাঁচ বছর আগে চেচনিয়ায় একটি আইন প্রনয়ণ করা হয়েছে, যেখানে প্রত্যেক গ্রস্থাগারের অধিকার ও বাধ্যবাধকতা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে. হাসমাগোমাদভের মতে, আরও একটা আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ - এখন থেকে যে সব লেখকের নতুন বই প্রকাশিত হবে, তারা বিনামূল্যে রাষ্ট্রীয় পুস্তক তহবিলকে তার কয়েকটি কপি দান করতে বাধ্য. -

        "আমাদের গ্রন্থাগারের কর্তব্য একটাই -  চেচনিয়ার সাংস্কৃতিক মক্কায় পরিণত হওয়া" - বলছেন এদিলবেক হাসমাগোমাদভ.  "আগেকার সংগ্রহ ছিল অমূল্য, তা পূরণ করা যাবে না. কিন্তু আমরা এমন পুস্তকাগার গড়তে চাই, যা গোটা চেচনিয়ার জনগণের গর্বের বস্তু হবে. সেটাই আমাদের লক্ষ্য" - সবশেষে বলছেন এদিলবেক হাসমাগমাদভ.