একশ তিরিশ বছর আগে, ১৮৮৩ সালের ২৪শে জুলাই মস্কোর ঘোড়দৌড়ের মাঠে প্রথম আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত সাইকেল রেসের আয়োজন করা হয়েছিল. এই ঘটনা এবারে পালন করা হচ্ছে রাশিয়ার সাইকেল নিয়ে খেলাধূলার জন্মদিন হিসাবে.

তখন খেলোয়াড়রা রাশিয়াতে “মাকড়সা” নামের সেই ধরনের সাইকেল ব্যবহার করতেন. তার সামনের চাকার ব্যাস অনেক সময়ে এক মিটার আশি সেন্টিমিটারের বেশী হত আর পিছনের চাকার বেড় ছিল অনেক কম, প্রায় পঞ্চাশ সেন্টিমিটার. মস্কোর সাইকেল রেস বাইরের দেশে তৈরী হওয়া “মাকড়সা” নামের সাইকেল দিয়েই হতো. তারই মধ্যে যথেষ্ট প্রামাণ্য হিসাবেই জানা রয়েছে যে, এই ধরনের গঠনের সাইকেল শুধু আবিষ্কার করাই হয় নি, এমনকি রাশিয়াতে খুবই দূরের জায়গায় যাওয়ার জন্য পরীক্ষা করে দেখা হয়েছিল সেই ১৮০১ সালেই. তখন নিঝনি তাগিল শহরের কারখানার এক কামার এফিম আর্তামোনভ, নিজের দুই চাকা যন্ত্রে পাঁচ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে উরাল পর্ব্বতের এলাকার এই শহর থেকে সেন্ট পিটার্সবার্গে এসেছিল, জার প্রথম আলেকজান্ডারের সিংহাসনে আরোহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য. নিজের আবিষ্কারের জন্য সে পেয়েছিল জারের কাছ থেকে আর্থিক পুরস্কার. এটাও জানা রয়েছে যে, আর্তামোনভের সহকর্মীরাও একটি সাইকেল যন্ত্র তৈরী করে সেন্ট পিটার্সবার্গ আসতে চেয়েছিল, কিন্তু কারখানার কর্তৃপক্ষ তাদের থামিয়ে দিয়ে শাস্তি দিয়েছিল ইচ্ছামতো কাজ কারবারের জন্য. আমাদের দেশের সাইকেল নিয়ে কাজকর্ম, তারপরে একটা সময়ে আর এগোয় নি, কিন্তু কয়েক দশক পরে তা আবার নতুন করে শুরু হয়েছিল. প্রথম রুশ সাইকেল রেস জনতার পক্ষ থেকে খুবই আগ্রহের সঞ্চার করেছিল, এই কথা উল্লেখ করে ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরী সাইকেল নিয়ে এক জাদুঘরের ডিরেক্টর আন্দ্রেই মিয়াতিয়েভ বলেছেন:

“দর্শকের সংখ্যা ছিল হাজার পঁচিশের বেশী. এই রেসে যারা অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের নাম এখন আমাদের দেশের মহাফেজখানার সুবাদে জানা রয়েছে. এই রেস ছিল আন্তর্জাতিক. তাতে ইংরেজ, অস্ট্রিয়ার লোক, আমেরিকার লোক ও আমাদের রুশী সাইকেল রেসের প্রতিযোগীরাও যোগ দিয়েছিলেন”.

এই দেড় কিলোমিটারের রেসের বিজয়ী হয়েছিলেন পিটার্সবার্গের ইউলি ব্লক.

এক বছর পরে আনুষ্ঠানিক ভাবে মস্কোর সাইকেল সমাজের সনদপত্র গ্রহণ করা হয়েছিল. তারপরে একই ধরনের সমাজ ও ক্লাব তৈরী হতে শুরু করেছিল অন্যান্য শহরেও. সাইকেল রেস নিয়ে এই আগ্রহ খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল. ১৮৯৬ সালে মস্কোর লোকদের অবাক করে দিয়েছিলেন মহান লেখক লেভ তলস্তয়, যিনি নিজের সত্তর বছর বয়সে শহরের রাস্তা দিয়ে সাইকেল নিয়ে ঘোরাফেরা করতেন. ১৯১১ সালে আনিসিম পানক্রাতভ রওয়ানা হয়েছিলেন নিজের দুই বছর ব্যাপী বিশ্ব পরিক্রমা করতে. তিনি আন্তর্জাতিক সাইকেল সঙ্ঘের কাছ থেকে এই জন্য “হীরের নক্ষত্র” পুরস্কার পেয়েছিলেন. সেই সব বছর গুলিতে, আজকের দিনের মতই, সাইকেলের গঠন আরও ভাল করা চলেছিল. কিন্তু বিগত বছর গুলিতে লোকে বেশী করেই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পুরনো ভিন্টেজ সাইকেল গুলির প্রতি, এই কথা উল্লেখ করে এই প্রাইভেট সাইকেল মিউজিয়ামের ডিরেক্টর আন্দ্রেই মিয়াতিয়েভ বলেছেন:

“আমি বহু বছর ধরেই আমাদের দেশের সাইকেল নিয়ে চর্চা করেছি. আমি দলিল, ছবি, নানা রকমের জিনিষ, যা এক সময়ে সাইকেল নিয়ে জীবন কাটানো বিভিন্ন লোকের ছিল, সংগ্রহ করেছি. আমার সংগ্রহে চারশোরও বেশী সাইকেল রয়েছে. সামরিক, পুরুষদের, মহিলাদের, দৌড়ের, তিন চাকার, বিভিন্ন রকমের এক সঙ্গে ট্যান্ডেম করে চালানোর মতো, আর একেক সময়ে একেবারেই আশ্চর্য করে দেওয়ার মতো গঠনের সাইকেল আমার জাদুঘরে রয়েছে”.

এই বছরে মস্কো শহরে এক ঐতিহাসিক সাইকেল রেস হয়েছে, যাতে নানা রকমের গঠনের সাইকেল দেখানো হয়েছে, তার মধ্যে এই “মাকড়সা” ধরনের সাইকেলও ছিল, যা ১৩০ বছর আগের সাইকেলে রেসে অংশ নিয়েছিল. ২০১৬ সালে রাশিয়াতে ভিন্টেজ সাইকেল যারা পছন্দ করেন, তাঁদের এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন করা হতে চলেছে. তাতে সারা বিশ্বে যাঁরা সাইকেল সংগ্রহ করেন, তাঁরা সকলেই আসতে চেয়েছেন.