মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা নিতে পারে, নিজেরা আগষ্ট মাসে ছুটি কাটাতে যাওয়ার আগেই. ২০১৫ সালের মধ্যে ইরান থেকে খনিজ তেল রপ্তানী করা সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করার প্রকল্প এবারে নেওয়া হতে চলেছে. এই পদক্ষেপ কি করে ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের ভবিষ্যত সম্ভাবনার উপরে প্রতিফলিত হতে পারে?

সমীক্ষক ভ্লাদিমির সাঝিনের মন্তব্য এখানে বলা হয়েছে.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্ন ও উচ্চ কক্ষে প্রস্তুত করা আইনের বয়ানে এখানে “কালো তালিকায়” ইরানের খনিজ ধাতু নিষ্কাশণ ও নির্মাণ শিল্প ক্ষেত্রের কল কারখানা গুলিকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা লেখা হয়েছে, আর তারই সঙ্গে ২০১৫ সালের মধ্যে ইরান থেকে খনিজ তেল সরবরাহ করাকে সম্পূর্ণ রকম ভাবে বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে.

গত বছর থেকে চালু হওয়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় ইতিমধ্যেই নানা রকমের ব্যবস্থা রয়েছে. তার মধ্যে – ইরানে ভারী অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে নিষেধ, ইরানের তেল বয়ে নিয়ে যাওয়ার ট্যাঙ্কার গুলি বীমা করানোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা. ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের ব্যাঙ্ক গুলির সঙ্গে অর্থ লেনদেনের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা, আর সবচেয়ে মুখ্য হল – ইরান থেকে খনিজ তেল কেনার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা. এই বছরেই বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গুলির উপরে নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়েছে, যারা ইরানের রিয়াল নিয়ে কারবার করে ও যাদের এই মুদ্রায় অ্যাকাউন্ট রয়েছে আর ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে ব্যবসায় যারা সোনা ব্যবহার করে. এই বছরের গ্রীষ্মকালে শুরু হওয়া নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য হয়েছে ইরানে সেই সমস্ত জিনিষ ও পরিষেবা দেওয়া নিয়েও, যা ইরানের গাড়ী নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে জড়িত.

নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কোন সন্দেহই নেই যে, এই গুলি ইরানের অর্থনীতির উপরে খুবই অনুভব করার মতো আঘাত করবে. মে মাসেই খনিজ তেল উত্পাদনের পরিমাণ কমে গিয়েছিল দিনে ২, ৫ থেকে ২, ৬ মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত. এটা ১৯৮৯ সালের পর থেকে ইরানে সবচেয়ে কম উত্পাদনের হার. প্রায় দুভাগ কমে গিয়েছে খনিজ তেলের রপ্তানী. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপ পররাষ্ট্র সচিব ভেন্ডি শেরম্যান ঘোষণা করেছেন যে, আন্তর্জাতিক ভাবে নেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যেক মাসে ইরানকে তিনশো থেকে পাঁচশো কোটি ডলার বঞ্চিত করছে. ইরানের আর্থ-বিনিয়োগ মন্ত্রী শামসেদ্দীন হোসেইন স্বীকার করেছেন যে, দেশের অর্থনীতিতে এই নিষেধাজ্ঞা নতুন চাপের ঢেউ সৃষ্টি করেছে. দেশের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি রোহানির অর্থনৈতিক পরামর্শদাতা - মোহম্মদ নোবাহত কয়েকদিন আগে ঘোষণা করেছেন যে, দেশের বর্তমান বাজেট খুবই বেশী রকমের আশাবাদী. প্রশাসনের পক্ষে দেশের বাজেটে পরিকল্পনা থাকা শতকরা ৫৬ ভাগ আয় করা সম্ভবপর হয় নি এই আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকেই, যা ২১শে মার্চ থেকে ২০শে জুন ছিল. তাই নতুন সরকারের উচিত্ হবে বর্তমানের বাজেটকেই আবার করে দেখার.

এই প্রসঙ্গে রাজনীতিবিদ ও প্রাচ্য বিশারদ এলেনা দুনায়েভা বলেছেন:

“বিশেষজ্ঞদের সমাজে একটা মত রয়েছে যে, ইরানের অর্থনীতিতে এই সঙ্কটের পরিস্থিতিই, যা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার জন্যেই অনেকটা হয়েছে, তা বাধ্য করেছে দেশের সর্ব্বোচ্চ কর্ণধার আয়াতোল্লা খোমেনেই ও তাঁর পারিষদদের বুঝতে যে, দেশের আভ্যন্তরীণ ও বিশেষত পররাষ্ট্র নীতিতে সংশোধন করার প্রয়োজন রয়েছে, তার মধ্যে পারমাণবিক সমস্যাও পড়ে. এটা সবচেয়ে লিবারেল প্রার্থী হাসান রোহানির নির্বাচনে বিজয়কে শান্ত ভাবে নেওয়া দেখেই বোঝা গিয়েছে”.

তাঁর উপরে বাজী ধরা হয়েছে তেহরানে, তাঁর উপরে আশা করা হয়েছে সারা বিশ্বেই, বিশেষ করে পারমাণবিক সমস্যা নিয়ে সমঝোতায় আসার বিষয়ে. বোঝাই যাচ্ছে যে, তাঁর রাষ্ট্রপতি পদে শপথ নেওয়ার পরের দিনই কিছু বদলে যাবে না. নতুন রাষ্ট্রপতির প্রয়োজন পড়বে সময়ের, যাতে নিজের দল তৈরী করা সম্ভব হয়, নিজের একটা নীতি তৈরী করা যায়. এই সবই হবে রাজনৈতিক ভাবে তাঁর বিরুদ্ধবাদীদের সঙ্গে খুবই কঠিন লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে, যাঁরা ইরানের ব্যুরোক্র্যাটিক সিঁড়িতেও উঁচু ধাপ গুলি দখল করে বসে রয়েছেন ও আহমাদিনিজাদের মতো জাতীয়তাবাদী কট্টরপন্থী ঐস্লামিক নীতি ছেড়ে দিতে চান না.

আর যদি ইরানের বিরোধী পক্ষরা সত্যই তেহরানের অবস্থানে বাস্তবিক পরিবর্তন দেখতে চান, তবে রাষ্ট্রপতি রোহানিকে সময় দিতেই হবে. আর তাঁকে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ভয় দেখালে চলবে না, বরং সাহায্য করতে হবে সকলের জন্য গ্রহণযোগ্য এবং খুব একটা চমক লাগানো না হলেও ফলপ্রসূ সমাধানের পথ খুঁজে বের করার, যা এই পারমাণবিক সমস্যাকে সমাধান করতে পারে. আস্তে ধীরে ও একের পর এক পা ফেলেই, যা রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভের স্টেপ বাই স্টেপ প্ল্যানে বলা হয়েছে আগেই.

এই প্রসঙ্গে নতুন নিষেধাজ্ঞা এই সময়েই তৈরী করা একেবারেই ঠিক হবে না. আর তার উপরে একেবারেই অবাস্তব হবে রিপাব্লিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্র্যামের কংগ্রেসে প্রস্তাব পেশ করা যে, ইরানে সামরিক কাজ কারবার শুরু করা দরকার বলে, যদি তেহরান নিজেদের পারমাণবিক প্রশ্নের বিষয়ে অবস্থান হেমন্ত কালের মধ্যে না বদলায়, তাহলে.

মনে হচ্ছে যে, এটা হোয়াইট হাউসেও বোঝা হয়েছে. রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা খুবই ন্যায্য ভাবে মনে করেছেন যে, ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা নেওয়া এখন ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক সমস্যা সমাধান নিয়ে আলোচনার পথেই অন্তরায় হতে পারে. আর সুযোগ এখন রয়েছে. কিন্তু তা যুক্ত রয়েছে খুবই শ্রমসাধ্য ও নিয়মিত ভাবে ইরানের পক্ষের সঙ্গে কাজ করার ভিতরেই, কোন রকমের আইনের প্রকল্প দিয়ে তাদের নাকের ডগায় হাত পা না নেড়ে, যাতে লেখা রয়েছে নতুন নিষেধাজ্ঞা অথবা সামরিক আঘাত হানার বিষয়ে.