ভারতে কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত্কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য ন্যূনতম ক্ষমতায় চালু করা হয়েছে. পারমানবিক বিদ্যুত্কেন্দ্র চালু করার একটা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এটা. এ্যাটমিক এনার্জি রেগুলেটরি অথরিটি বা সংক্ষেপে এইআরএ'র কাছে ইউনিট কিরকম কাজ করছে, সেই তথ্যাবলী পাঠানো হবে. তারপর এইআরএ'র ছাড়পত্র পেলে ইউনিটটিকে ৫০% শক্তি দিয়ে চালু করা হবে এবং তারপরে ধাপেধাপে তাকে চূড়ান্ত ক্ষমতায় শিফট করা হবে.

     প্রথম ইউনিটটি চালু হওয়ার আট মাস বাদে দ্বিতীয় ইউনিটটি ন্যূনতম শক্তিতে চালু করা যেতে পারে.

     মস্কোয় কার্নেগী তহবিলের বিশেষজ্ঞ পেওতর তপীচকোভের মতে, অতঃপর যদি দক্ষিণ ভারতে বিদ্যুত্ ঘাটতির সমস্যা পুরোপুরি অতিক্রম করা নাও যায়, তবুও সেই সমস্যা যথেষ্ট পরিমাণে লাঘব করা সম্ভব হবে. -

     কুদানকুলামে পারমানবিক বিদ্যুত্কেন্দ্রে প্রথম ইউনিটটি চালু করা এই ক্ষেত্রে ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্কের উন্নতির ও এই প্রকল্পটির সাফল্যের সাক্ষ্য দিচ্ছে. বোঝাই যাচ্ছে, যে যখন বিদ্যুত্কেন্দ্রটি পুরোমাত্রায় কাজ করতে শুরু করবে, তখন শুধু তামিলনাড়ুই নয়, পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলির বিদ্যুত্ ঘাটতিরও বহুলাংশে সমাধা হবে. 

     শুরুতে ২০১১ সালেই কুদানকুলামে প্রথম ইউনিটটি চালু করার পরিকল্পনা ছিল. কিন্তু তাতে বাধা দিয়েছিল পরিবেশ সচেতক সংস্থাগুলি. পারমানবিক বিদ্যুত্কেন্দ্র সংলগ্ন বসতিকেন্দ্রগুলি থেকে অগুন্তি মানুষকে তখন জড়ো করা হয়েছিল পারমানবিক বিদ্যুত্কেন্দ্রটি চালু করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবীতে. পেওতর তপীচকোভ বলছেন, যে আন্দোলন আরও জোরদার হয়েছিল জাপানের ফুকুসিমায় ভয়ঙ্কর পারমানবিক দুর্ঘটনার পরে. -

     কুদানকুলাম সংলগ্ন বাসিন্দাদের আশঙ্কা বহুবার রুশীপক্ষ থেকে এবং ভারতীয় ইঞ্জিনীয়ারদের তরফ থেকে নস্যাত্ করার চেষ্টা হয়েছে, এই যুক্তি দেখিয়ে, যে কুদামকুলাম ফুকুসিমার তুলনায় সমুদ্রস্তর থেকে অনেক উপরে অবস্থিত এবং সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে একেবারে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি.

    একাধিক পরিদর্শন প্রমাণ করেছে, যে কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত্কেন্দ্র 'ফুকুসিমাপরবর্তী' উত্থাপিত নিরাপত্তার সমস্ত চাহিদা পূরণ করে.

    গত জুন মাসে পারমানবিক বিদ্যুতকেন্দ্রটি চালু করার কথা ছিল. কিন্তু এর বিরোধীদের আবেদনক্রমে ভারতের সুপ্রীম কোর্ট তত্সম্বন্ধীয় রুজু করা মামলার বিচার করছিল. চালু করার স্বপক্ষে সুপ্রীম কোর্টের রায় দেওয়ার অন্যতম কারণ ছিল ভারতীয় আইনরক্ষীদের দ্বারা করা এক বিশেষ তদন্ত, যা প্রমাণ করেছে, যে ঐ আন্দোলনের সংগঠনের পেছনে ছিল বিদেশী পয়সা. তখন পরিষ্কার হয়ে যায়, যে ঐ আন্দোলন ছিল রাজনৈতিক অভিসন্ধিপ্রসূত. অনেক বিদেশী রাষ্ট্রই যে পেতে চায় ভারতে পারমানবিক বিদ্যুত্কেন্দ্র নির্মাণ করার বরাত.