২৩শে জুলাই বিশ্ব তিমি ও ডলফিন দিবস পালিত হচ্ছে, এই দিন প্রায় পঁচিশ বছরেরও বেশী আগে নির্দিষ্ট করা হয়েছিল, যখন থেকে তিমি শিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে. কয়েক শতক ধরে তিমি মাছ নিষ্ঠুর ভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল. তাদের মারা হত, প্রধানতঃ খুবই মূল্যবান চর্বির জন্য, যা জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করা হত. এমনকি এখনও, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিছু দেশ তিমি মাছের শিকার চালিয়েই যাচ্ছে. প্রথম সারিতে রয়েছে জাপান. সরকারি ভাবে সূর্যোদয়ের দেশে বলা হচ্ছে যে, এই সব জীবকে ধরা হচ্ছে বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্যই. কিন্তু পরিনামে রেস্তোরাঁর মেন্যুতে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে তিমি মাছের মাংসের খাবার.

আপাততঃ প্রাণীদের যাঁরা রক্ষা করতে চাইছেন, তাঁরা আরও একটি নিষেধাজ্ঞা দিবসের বার্ষিকী পালন করছেন, যাতে গণ হারে তিমি মাছ ধরা বারণ হয়েছে, আর একই সময়ে তিমি মাছ যারা শিকার করতে চাইছে, তারা রাষ্ট্রসঙ্ঘের আন্তর্জাতিক আদালতে নিজেদের এই শিকার করার অধিকার পুনঃ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে. কয়েকদিন আগে গাগ শহরের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে জাপানের কুমেরু অঞ্চলে তিমি মাছ শিল্প হিসাবে শিকার করা নিয়ে শুনানী শেষ হয়েছে. জাপানের বিরুদ্ধে আজ থেকে তিন বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার সরকার আদালতে অভিযোগ এনেছে. তারা দাবী করেছে যে, ১৯৮৬ সালের কনভেনশন টোকিও ভঙ্গ করেছে, এই কথা স্বীকার করানোর. অস্ট্রেলিয়ার প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী কনভেনশন নেওয়ার পর থেকে অর্থাত্ কুড়ি বছরেরও বেশী আগে থেকেই জাপানের তিমি শিকারিরা দশ হাজারেরও বেশী তিমি মাছ মেরেছে, যা তারা গোপন করতে চেয়েছে বৈজ্ঞানিক গবেষণার নামে. এই বিষয়ে বিশ্ব বন্য তহবিলের সামুদ্রিক প্রকল্পের কোঅর্ডিনেটর কনস্তানতিন জ্গুরোভস্কি মন্তব্য করে বলেছেন:

“তিমি মাছ নিয়ে গবেষণা তাদের হত্যা না করেই করা সম্ভব. অবশ্যই, বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই এটা স্রেফ জাপানের ঐতিহ্যের প্রতি একটা বলিদান. তারা অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে যে, তাদের রেস্তোরাঁয় তিমি মাছের মাংস পাওয়া যায়. এই ঐতিহ্য অনুসরণ করেই, জাপানের লোকরা জেদ ধরে তিমি মেরে চলেছে. তাও মেনে নেওয়া যেতে পারত, যদি এটা অনেক সংখ্যায় ছোট ডোরাকাটা তিমি মাছ হত, কিন্তু আসলে যা হচ্ছে, তা হল খুবই বিরল প্রকৃতির তিমিই মারা হচ্ছে – আর এটাকে একেবারেই হতে দেওয়া যায় না”.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের আন্তর্জাতিক আদালত, নিজেদের সিদ্ধান্ত এই বছরের শেষের আগেই দিতে বাধ্য. আজ বেশীর ভাগ দেশেই তিমি মাছ শিকার করা বারণ, তার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াও রয়েছে. গত শতকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত দেশ ছিল এই সামুদ্রিক তৃণভোজী প্রাণীর সবচেয়ে বড় শিকার করা দেশ. কিন্তু এখন তিমি মাছ শিকার করার অধিকার রয়েছে রাশিয়ার উত্তরের খুবই কম সংখ্যক উপজাতির, যাদের এই ধরনের প্রচণ্ড ঠাণ্ডা জায়গায় বেঁচে থাকাই এই রকমের তিমি মাছ ধরে খাওয়ার উপরে নির্ভর করে. ১৯৮৬ সালের কনভেনশন নিজের ফলও নিয়ে এসেছে. যদিও এখনও কয়েক রকমের তিমি মাছ সম্পূর্ণ ভাবে শেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তবুও অন্যান্য রকমের তিমির সংখ্যা ধীরে হলেও আবার করে বাড়ছে, এই কথা উল্লেখ করে বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ সংগঠনের সামুদ্রিক তৃণভোজী প্রাণী সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ গিওর্গি শিদুল্কো বলেছেন:

“বিগত বছর গুলিতে কম্যান্ডোর দ্বীপের কাছে আবার করে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে জাপানী মসৃণ তিমি মাছ গুলিকে. অথবা ইংরাজী ভাষায় এদের বলা হয়ে থাকে “রাইট হোয়েল” বা “সঠিক” তিমি. আর তারা “সঠিক” এই কারণে যে, তাদের হত্যা করা হলে এই তিমি মাছ অন্য বহু রকমের তিমি মাছ গুলির মত ডুবে যেত না. তাই এই গুলিই ছিল তিমি শিকারিদের সবচেয়ে মুখ্য লক্ষ্য. আর তাদেরই প্রাথমিক ভাবে মারা হয়েছে. এই বছর পনেরো আগেও মনে করা হত যে, জাপানী মসৃণ তিমি মাছ আর প্রকৃতিতেই নেই বলে”.

বিশেষজ্ঞের কথামতো, বিগত বছর গুলিতে বিজ্ঞানীদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে এমনকি এই ধরনের বিরল প্রজাতির তিমি মাছও কয়েকটি দেখতে পাওয়ার. তবে তারা মহাসমুদ্রে সংখ্যায় কত, তা এখনও বলা কঠিন. প্রসঙ্গতঃ, হতেই পারে যে, এটা খুব শীঘ্রই জানতে পারা যাবে. ঠিক এই দিন গুলিতেই প্রশান্ত মহাসাগরে বিজ্ঞানীরা “তিমি মাছের মাথা গোনার” কাজ করছেন.