আমেরিকার সামরিক বাহিনীর লোকরা সিরিয়াতে সামরিক অনুপ্রবেশের বেশ কয়েকটি রকমফের একসাথেই করে ফেলেছে. তার কথা রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কর্তৃপক্ষদের দপ্তরের সংযুক্ত কমিটির প্রধান জেনারেল মার্টিন ডেম্পসির চিঠিতে, যা তিনি আমেরিকার পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষে পাঠিয়েছেন. ডেম্পসি ঘোষণা করেছেন যে, সমস্ত সামরিক উপায় গুলিই এর মধ্যেই দেশের রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করা হয়েছে.

এই সব উপায়ের মধ্যে – জঙ্গীদের অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করা, সরকারি বাহিনীর উপরে দূর থেকে আকাশ পথে হামলা করা, সিরিয়ার উপরে উড়ান নিষিদ্ধ এলাকা তৈরী করা, সিরিয়া তুরস্ক ও জর্ডনের সীমান্ত এলাকায় একটা বাফার জোন তৈরী করে দেওয়া. আর শেষ অবধি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীকে ব্যবহার করা, যাতে সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র দখল করা যেতে পারে.

এই সমস্ত পরিকল্পনার কথা আগেও বলা হয়েছে. আর এখন এই নিয়ে আগ্রহের মূল বিষয় হল যে, তা এবারে কেন প্রকাশ্যে বলা হল, আর তা কি ধরনের মন্তব্য সহকারে.

জেনারেল ডেম্পসির চিঠি রিপাব্লিকান পার্টির সেনেটর জন ম্যাকেইনের হুমকির উত্তর হয়েছে. সিরিয়াতে সামরিক অনুপ্রবেশ করার স্বপক্ষে এই মাথা গরম উত্সুক হুমকি দিয়েছিলেন যে, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্ব্বোচ্চ সামরিক পদে জেনারেলের বহাল হওয়াতে বাধা সৃষ্টি করবেন, যদি এই ধরনের পরিকল্পনা আসন্ন সপ্তাহগুলির মধ্যে পেশ করা না হয়. ডেম্পসি ও ম্যাকেইন বহুদিন হল একে অপরের প্রতি বিরক্ত. তাদের মধ্যে মার্কিন সেনেটে এই চিঠি প্রকাশের তিন দিন আগেই খুব কড়া ঝগড়া হয়েছিল.

আমেরিকার জেনারেলরা সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে কোন রকমের রাজনৈতিক মূল্যায়ণ খুব কম সময়েই করে থাকেন. কিন্তু এবারে ডেম্পসি তাঁর চিঠি খুবই কড়া মন্তব্য সহকারে পেশ করেছেন. “এই ধরনের কাজ করতে গিয়ে আমাদের তৈরী থাকতে হবে, তারপরে কি হতে পারে তা সম্বন্ধেও, - সাবধান করে দিয়েছেন ডেম্পসি. – খুবই কষ্টকর হবে এই ধরনের অনুপ্রবেশে বেড়ে যাওয়া আটকানো. আমরা অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও চরমপন্থীদের সক্রিয়তা বাড়িয়ে দিতে পারি অথবা রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের কারণ তৈরী করতে পারি, যা আমরা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণের অধীনে নিতে চাইছি”.

অনেক সময়ে সামরিক শক্তি প্রয়োগের ফলে আচমকা পরিস্থিতির উদ্ভব হয়, এই কথা সাংবাদিকদের কাছে ঘোষণা করে ডেম্পসি বলেছেন:

“আমি আমার দৃষ্টিভঙ্গী রাষ্ট্রপতির কাছে বলেছি. আমরা সমস্ত রকমের সম্ভাব্য কাজের রকমের কথাই উল্লেখ করেছি, তার সঙ্গে সামরিক বাহিনীর কাজকর্ম সংক্রান্ত পরিষদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও জানার ব্যবস্থা করিয়ে দিয়েছি আর বিভিন্ন রকমের কাজের ঝুঁকি সম্বন্ধেও মূল্যায়ণ করেছি. শক্তি প্রয়োগ করা হবে কি হবে না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত খুবই নির্বাচিত সরকারি লোকরাই নিয়ে থাকেন”.

আমেরিকার সামরিক বাহিনীর লোকদের হিসাব অনুযায়ী, সিরিয়াতে যে কোন ধরনের পেশ করা কাজেই খরচ হবে বছরে পঞ্চাশ কোটি ডলারের থেকে মাসে একশ কোটি ডলারের সমান, এটা জঙ্গীদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দেওয়া থেকে সরাসরি নিজেরা অনুপ্রবেশ করলে. তারই মধ্যে জানা রয়েছে যে, হোয়াইট হাউসের খুব একটা দরকার নেই এই ধরনের খরচের মধ্যে যাওয়ার, যখন এমনিতেই বাজেট ব্যয় সঙ্কোচ করা হচ্ছে সর্ব স্তরেই.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে বেশী সক্রিয়ভাবে অনুপ্রবেশে করাতে চাইছে সিরিয়ার বিরোধীরা. এই উদ্দেশ্য নিয়ে নিউইয়র্কে দুই দিন আগে সিরিয়ার মুক্তি বাহিনীর প্রধান জেনারেল সলিম ইদ্রিস এসেছে. তারই মধ্যে ২২শে জুলাই মস্কো শহরে সিরিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী কাদরি জামিলের সঙ্গে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভের আলোচনার পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও একবার বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, সিরিয়া পরিস্থিতি সামরিক উপায়ে সমাধান করা সম্ভব নয়, তিনি বলেছেন:

“আমরা সকলকেই বোঝাচ্ছি রুশ-মার্কিন বোঝাপড়া অনুযায়ী কোন রকমের প্রাথমিক শর্ত ছাড়াই সিরিয়া নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে. বড় দুঃখের কথা হল, আপাততঃ – সিরিয়ার মন্ত্রীসভা ছাড়া – বিরোধীদের একটা বড় অংশ, তার মধ্যে এই জাতীয় জোটও রয়েছে, এই বিষয়ে প্রস্তুতির কথা বলছে না”.

কে এই সিরিয়া নিয়ে সমাধানের জন্য “জেনেভা – ২” সম্মেলনে যোগ দেবে ও তা কবে হবে, এখনও সেই বিষয়ে কোন খবর নেই.

ওয়াশিংটনে পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা করেছে যে, বিরোধী পক্ষ দুই সপ্তাহ আগে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করেছে ও এখন অপেক্ষা করতে হবে, কবে তারা সম্মেলন ও আলোচনা নিয়ে মনস্থির করবে, তার জন্য.