বাংলাদেশ সরকার পশ্চিমে থাকা ঐস্লামিকদের নেতাদের বহিষ্কার ও দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে দাবী করবে, যারা নিজেদের জন্মভূমিতে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে অভিযুক্ত. দেশের প্রধান অভিশংসকের ঘোষণা প্রমাণ করে দেয় যে, “ইতিহাসের আদালত” বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দলের প্রধান ধারণায় পরিণত হয়েছে, যা নিয়ে ২০১৪ সালে দল নির্বাচনে নামতে চলেছে, এই রকম মনে করে সমীক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“ঢাকা শহরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে তৈরী আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের কাজকর্ম এখন এক নতুন স্তরে উন্নীত হচ্ছে. বাংলাদেশের সরকার ঘোষণা করেছে যে, তারা এবারে পশ্চিমে রয়ে যাওয়া ঐস্লামিক সামরিক গোষ্ঠী “আল- বদরের” নেতাদের, যেমন চৌধুরী মৈনুদ্দীন, আশরাফউজ্জামান খান এদের বহিষ্কার দাবী করবে. তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হল যে, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছিল”.

প্রধান অভিশংসক মাহবুবে আলম যেমন ঘোষণা করেছেন যে, বাংলাদেশের সরকার সমস্ত রকমের শক্তিই প্রয়োগ করবে, যাতে গ্রেট ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার যুদ্ধাপরাধী হিসাবে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের বিচারের জন্য মৈনুদ্দীন চৌধুরী ও আশরাফউজ্জামান খানকে বাংলাদেশে বহিষ্কার করে ফিরিয়ে দেয়. যদি লন্ডন ও ওয়াশিংটন এই বিষয়ে দাবী প্রত্যাখ্যান করে, তবুও এদের অনুপস্থিতিতেই ঢাকা শহরে এদের বিচার করা হবে.

প্রাক্তন সাংবাদিক মৈনুদ্দীন চৌধুরী, যে এখন লন্ডনে সম্পূর্ণ ভাবে সসম্মানে জীবন কাটাচ্ছে আর গ্রেট ব্রিটেনের মুসলিম সমাজের এক নেতা বলেও স্বীকৃত, সে অভিযোগের বয়ান অনুযায়ী “মৃত্যু বাহিনীর” তত্ত্বগত নেতার কাজ করেছিল, যারা সেই বুদ্ধিজীবীদের হত্যার নিশান করেছিল, যাদের মতামত ছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ও যারা চেয়েছিল “স্বতন্ত্র বাংলাদেশ” গঠন করতে. আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের থাকা আশরাফউজ্জামান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে, সে মানুষ অপহরণ করে, তাদের উপরে অত্যাচার করেছিল আর হত্যা করেছিল, এই প্রসঙ্গে সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“ঢাকায় এই ট্রাইব্যুনালের কাজকর্ম এবারে খুবই দ্রুত হচ্ছে. গত সপ্তাহে খুবই কড়া রায় দেওয়া হয়েছে একই সঙ্গে দুজন ঐস্লামিককে, যারা দেশের বাইরে পালাতে চায় নি. এরা “জামাত-ই-ইসলাম” দলের সাধারন সম্পাদক আলি হাসান মোহম্মদ মুজাহেদ – এই দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা, যাকে সাতটি ধারা অনুযায়ী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, তার মধ্যে গণহত্যা, হত্যা, চক্রান্ত, অপহরণ ও অত্যাচার রয়েছে আর তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে. তার আগে ৯০ বছরের জন্য কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ৯১ বছরের গোলাম আজমকে, যে “জামাত-ই-ইসলাম” দলের গত তিরিশ বছরের বেশী সময় ধরে নেতা ছিল”.

ঢাকা শহরের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের স্পষ্টই দেখতে পাওয়ার মতো কাজকর্মের সক্রিয়তা বলে দিচ্ছে যে, “ইতিহাসের আদালত” দেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলের মুখ্য ধারণায় পরিণত হচ্ছে, যা নিয়ে তারা আগামী ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যাবে. অর্থনৈতিক ভাবে জটিল পরিস্থিতি, বেকারত্বের খুবই বেশী রকমের মাত্রা ও অন্যান্য কারণ গুলি খুবই দ্রুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্ত্রীসভার জনপ্রিয়তা কমিয়ে দিয়েছে. এই পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রয়োজন হয়েছে নতুন শক্তিশালী এক ধারণার, যা তাদের নির্বাচকদের ভরসা ফিরিয়ে এনে আবার করে সরকারে থাকতে ব্যবস্থা করে দেবে. এই ধরনের ধারণা হতে পারে “ইতিহাসের আদালত”. কারণ ১৯৭১ সালের যুদ্ধের ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা স্রেফ অসংখ্য.

দেখাই যাচ্ছে যে, ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে সম্ভব হয়েছে এই ভাবে নিজেদের পক্ষে সমর্থক বৃদ্ধি করার. কিন্তু নির্বাচনে জয়ের জন্য যথেষ্ট পরিমানে ভোট পাওয়া সম্ভব হবে কি না – তা কিন্তু এখনও একটা বড় প্রশ্ন. হতে পারে যে, তা হবে না.

এই “ইতিহাসের আদালতের” বিষয় – এটা একটা দুদিকেই তীক্ষ্ণ তরোয়াল, যা ঐস্লামিকরাও ব্যবহার করতে পারে. তারা এখনই এটা করছে. তারা আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালকে বলেছে “প্রহসন” ও তাদেরই বিচার করতে বলছে, যারা “১৯৭১ সালে ঐস্লামিক রাষ্ট্র পাকিস্তানের পতন” ঘটিয়েছিল. ঢাকা শহরে ট্রাইব্যুনালের কড়া রায়ের বিরোধীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ফল দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর রিপোর্ট অনুযায়ী এমন, যে, তা এবারে আইন সঙ্গত রাজনৈতিক লড়াইয়ের বাইরে বেরিয়ে পড়তে পারে.

এখনই ঐস্লামিকেরা হয়তো বড় মাপের বিরোধে যাওয়ার ঝুঁকি নিতে চাইবে না, যা গৃহযুদ্ধে পরিণত হতে পারে. “জামাত-ই-ইসলাম” দল বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় বিরোধী জোটে রয়েছে – প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিএনপি দলের জোটে. তাদের একসাথে আওয়ামী লীগের পতন ঘটানোর মত যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে, যদি তারা রাজনৈতিক যৌবনের উপযুক্ত “ঔষধি” খুঁজে না পায়. এই রকমের একটা ঘটনা পরম্পরা হতে থাকলে ঐস্লামিকেরা ২০১৪ সালে ক্ষমতা আসতে পারে সম্পূর্ণ আইন সম্মত ভাবেই, যেন এর আগে “মুসলমান ভাইদের” দল ইজিপ্টে করেছে. তবে তার পরিণতি কি সকলেই দেখতে পেয়েছে.