প্রবাদপ্রতীম সমরজাহাজ 'অরোরা' তার ১১০-তম জয়ন্তী পালন করছে মেরামতির প্রতীক্ষায়. রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর আদেশবলে সে আবার দেশের সামরিক নৌবাহিনীর হেফাজতে এসেছে ও ১ নম্বর সমর জাহাজের সম্মান পেয়েছে. সেই সুদূর ১৯০৩ সালে 'অরোরা'কে অর্পণ করা হয়েছিল রুশী সামরিক নৌবাহিনীর কাছে. সোভিয়েত ইতিহাস লিপিকারদের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯১৭ সালে 'অরোরা'র অগ্রভাগের কামানটি নাকি গোলাশূন্য ফাঁকা তোপ দেগে সশস্ত্র অক্টোবর বিপ্লবের সূচনার নির্ঘোষ পাঠিয়েছিল.

       এই স্মরণীয় দিনটির সম্মানে দর্শকদের অবলোকনের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে জাহাজটির সেই সব নিষিদ্ধ জায়গা,  যেখানে আগে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল. আর জয়ন্তী উদযাপকের আসল পুরস্কারটিই পাওয়া বাকি রয়েছে -  'সেভেরনায়া ভের্ফ' কোম্পানী তাদের প্রস্তাবিত প্রজেক্টের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই পিটার্সবার্গের নদীতীর থেকে অরোরার নোঙর খুলে আধুনিকীকরণ করতে নিয়ে যাবে. অনুমান করা হচ্ছে. যে জাহাজটির আধুনিকীকরণের খাতে তিন কোটি ডলারেরও বেশি খরচা হবে. পিটার্সবার্গের গভর্নরের উপদেষ্টা এবং সামুদ্রিক ডাইভিং ক্লাবের সভ্য ইগর কুদ্রিন বলছেন, যে আসন্ন শরত্কালেই জাহাজটির নোঙর খুলে মেরামতির কারখানায় নিয়ে যাওয়া হবে. -

       ইগর কুদ্রিন বলছেন -  কারখানা এবং সেভেরনোয়ে কনস্ট্রাকশন- ডিজাইনিং ব্যুরো হিসাব করে দেখছে, যাতে নোঙর করা অবস্থায় জাহাজটির সব সিস্টেম কাজ করেঃ অগ্নিপ্রতিরোধ, জলনিষ্কাশন ব্যবস্থা ইত্যাদি.

       মেরামতির পাশাপাশি জাহাজটির ঐতিহাসিক প্রতিরূপও ফিরিয়ে আনা হবে. সেকালের বেডস্যুটগুলি ও অন্যান্য জায়গা এমনভাবে প্রতিভাত করা হবে, যাতে দর্শকদের জন্য আগ্রহোদ্দীপক দ্রষ্টব্য আরও বাড়ে. 'অরোরা'কে কাজে লাগানো হবে না, তবে তার দেখভাল করার জন্য ৪ জন অফিসার, ৪ জন মিস্ত্রী ও ১৯ জন অসামরিক পেশাদার কর্মীকে নিয়োগ করা হবে. নতুন রিক্রুটদের কাজের জন্য 'অরোরা'য় ডাকা হবে না - বলছেন ইগর কুদ্রিন. -

       'অরোরা'য় শুধু তাদেরই কাজ করা উচিত্, যারা সামরিক নৌবাহিনীর জন্য অনুগতপ্রাণ. দেখে যেরকম মনে হয়, ডিউটিটা কিন্তু মোটেও সহজ নয়. কারণ এই জাহাজটি সবার লক্ষ্যবস্তু, সবসময় সে মানুষের আলোচনার বিষয়.

       'অরোরা' যুদ্ধে দীক্ষা নিয়েছিল রুশ-জাপান যুদ্ধের সময় সেই ১৯০৩-০৪ সালে. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জাহাজটি বাল্টিক সাগরের যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করেছিল. 'অরোরা'কে প্রবাদে পরিণত করেছিল কিছু সোভিয়েত ইতিহাসের লিপিকার, যারা লিখেছিল, যে কামান থেকে ফাঁকা তোপ দেগে নাকি অরোরার নাবিকরা অভ্যুত্থান শুরু করার সঙ্কেত দিয়েছিল. আদপে সেরকম কিছুই ঘটেনি. জারের প্রাসাদ দখল করা হয়েঠিল বিনা প্রতিরোধে. আসলে এটা একটা বানানো বা সাজানো কাহিনী.