আজভ সাগরের উপকূলে এইস্ক শহরে রাশিয়ার বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজের বিমান ওঠানামা করা নিয়ে পরীক্ষা মূলক উড়ান শুরু হয়েছে, এই কমপ্লেক্সের নাম রুশী ভাষায় “নিত্কা” – বিমানের পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণের জন্য ভূমিপৃষ্ঠের কমপ্লেক্স. এই কমপ্লেক্স, রাশিয়াতে তৈরী করা হয়েছে ক্রিমিয়াতে থাকা একই রকমের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ধরনেই, যা সোভিয়েত দেশ ভেঙে যাওয়ার পরে ইউক্রেনের সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছিল, আর আধুনিক এই কমপ্লেক্স এবারে গ্যারান্টি দেবে দীর্ঘস্থায়ী ভাবে রাশিয়ার নৌবহরের বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নের.

এইস্ক শহরে এই কমপ্লেক্স তৈরী করার খবর প্রথম পাওয়া গিয়েছিল ২০১১ সালে.

এইস্ক শহরে নিত্কা তৈরী করা প্রমাণ করে দেয় যে, অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে রাশিয়ার সামরিক কর্তৃপক্ষ নৌবহরের বিমান বাহিনীর প্রয়োজনীয়তাকে বুঝতে পারেন ও আগে জমা হওয়া ক্ষমতাকে ধরে রাখার বিষয়েও যত্ন নিচ্ছেন. অংশতঃ, এটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবস্থা করে দেয় যে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তৈরী রয়েছে বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজ তৈরী করার বিষয়ে – আগামী দশকে পরিষেবা দেওয়ার ক্ষমতা ফুরিয়ে যেতে বসা একমাত্র বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজ “অ্যাডমিরাল কুজনেত্সভের” জন্যে এই ধরনের জায়গা তৈরী করা নিশ্চয়ই বাড়াবাড়ি হয়ে যেত.

নিত্কা কি করতে পারে?

এই কমপ্লেক্স তৈরী করা এখনও শেষ হয় নি, আর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা, যার মধ্যে উড়ান শেষ করার ব্লক রয়েছে, তাও এখনও জুড়ে দেওয়া হয় নি. ২০১৫ সালের মধ্যে, যখন এই কমপ্লেক্স সম্পূর্ণ ভাবে ব্যবহারের জন্য দিয়ে দেওয়া হবে, তখন এটা শতকরা একশ ভাগ বিমানবাহী জাহাজের ডেকের উপরের যন্ত্রপাতির মতো কাজ করবে, যার ফলে জাহাজ থেকে ওঠানামার জন্য পাইলটদের প্রশিক্ষণ দেওয়া যাবে. বর্তমানে এই ধরনের কমপ্লেক্স রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, আর একই ধরনের তৈরী করা হচ্ছে চিন ও ভারতে.

জাহাজে ওঠানামায় সক্ষম পাইলট প্রশিক্ষণ ছাড়া এইস্ক শহরে পরিকল্পনা করা হয়েছে সামুদ্রিক হেলিকপ্টার চালকদের প্রস্তুতির ব্যবস্থাও করা হবে – নৌবাহিনীর কর্তৃপক্ষ পরিকল্পনা করেছেন এখানে সমুদ্রে হেলিকপ্টারের ভাসমান প্ল্যাটফর্ম তৈরী করার, যেখানে ঢেউয়ের মধ্যে হেলিকপ্টার নামানোর অভ্যাস করা যাবে.

ভবিষ্যতে নিত্কা সেই রকম ভাবেই যন্ত্র দিয়ে ব্যবস্থা করা যাবে, যে ধরনের বিমানবাহী জাহাজ তৈরীর পরিকল্পনা নেওয়া হবে, সেই রকমের. ইউক্রেনের কমপ্লেক্সের মতই, তা ক্যাটাপুল্ট করার ট্র্যাক পেতে পারে হয় বাষ্প চালিত, নয়তো তড়িত্ চুম্বক চালিত ক্যাটাপুল্ট ব্যবস্থা সমেত. নিত্কা কমপ্লেক্সে দেখতে না পাওয়ার অবস্থায় বিমান নামানোর ব্যবস্থা থাকবে, যাতে খারাপ আবহাওয়া বা রাতে বিমান নামানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, এই ধরনের ব্যবস্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যেই ব্যবহার করা হচ্ছে আর রাশিয়াতেও তা তৈরী করা হচ্ছে.

সুতরাং, এই কমপ্লেক্সের উন্নতির খবর দিয়ে রাশিয়ার নৌবহরের বিমান ব্যবস্থা উন্নয়ন সম্বন্ধেও অনেক কিছু বলা যেতে পারবে, আর নিত্কা সম্ভবতঃ একটি জনপ্রিয় তথ্য কেন্দ্রে পরিণত হবে.

ক্রিমিয়ার কমপ্লেক্সের ভবিষ্যত

ইউক্রেন বহুদিন ধরেই আশা করেছে, অন্যান্য দেশের পক্ষ থেকে দীর্ঘস্থায়ী ভাবে তাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ব্যবহার নিয়ে চুক্তি হওয়া নিয়ে, যারা সোভিয়েত দেশে তৈরী হওয়া বিমানবাহী জাহাজ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অর্থাত্ ভারত ও চিনের পক্ষ থেকে. এই আশা সফল হয় নি. চিন বর্তমানে বিমানবাহী জাহাজে বিমান উড়ান প্রশিক্ষণের জন্য দুটি কমপ্লেক্স তৈরী করছে: একটি উখানি নামের জায়গায়, বিমান বহরের প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিশারদ তৈরী করার জন্য ও অন্য আরেকটি পীত সাগরে হুলুদাও দ্বীপে – যেখানে পাইলটদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে. চিনের জে – ১৫ ধরনের যুদ্ধবিমান, যা সোভিয়েত দেশের সু- ৩৩ ধরনের বিমানের ভিত্তিতে তৈরী করা হয়েছে, তা ইতিমধ্যেই নতুন বিমানবন্দর থেকে উড়ান করে দেখেছে, আর তাই তারা আর ইউক্রেনের কমপ্লেক্সের প্রয়োজন দেখছে না. দ্বিতীয় আশা ছিল ভারতকে নিয়ে, কিন্তু ২০১২ সালের শীতে খবর এসেছে এই দেশেও নিজেদের নৌবহরের বিমানের পাইলটদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলা হতে চলেছে, আর তাতে সহায়তা করছেন রাশিয়ার নেভস্কি প্রজেক্ট কনস্ট্রাকশন ব্যুরো – যারা রাশিয়ায় নিজেদের বিমানবাহী জাহাজ ও তার জন্য উপযুক্ত যন্ত্রপাতির নির্মাণের কাজ করে থাকেন.

ভারতীয় জায়গাটি নির্মাণের ফলে ক্রিমিয়ার কমপ্লেক্স মূল্যহীণ হয়ে পড়েছে: সেই সমস্ত দেশ, যারা বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজ সোভিয়েত দেশের ধরনের ব্যবহার করে থাকে, তারা এবারে নিজেদের পরিকাঠামো পেয়ে যাচ্ছে পাইলটদের ও কুশলীদের প্রশিক্ষণের জন্য. আর অন্য কোনও দেশে তৈরী হওয়া জাহাজের ডেক থেকে ওঠানামা করার উপযুক্ত বিমানের পাইলটদের জন্য এই ধরনের কমপ্লেক্স, যা ক্রিমিয়াতে রয়েছে, তা অর্থহীণ.