ভারতের আদালত মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ছ’জন স্থানীয় লোককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে, তাদের দ্বারা সুইজারল্যান্ডের এর মহিলাকে ধর্ষণ প্রমাণিত হয়েছে বলে. আদালতের রায় এক শোরগোল তোলা আন্তর্জাতিক স্ক্যান্ডালে একটা ইতি করেছে ও বিদেশীদের উপরে নতুন করে আক্রমণের চেষ্টার বিষয়ে একটা বাধা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে. ধর্ষণ নিয়ে বহু সংখ্যক স্ক্যান্ডাল বিদেশীদের জন্য ভারতকে একটা “আর নিরাপদ নয়” এমন ছবি তুলে ধরেছে, যা সম্ভাব্য ছুটি কাটানোর জায়গার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য ভারতকে তুলে ধরেছে.

এখানে লক্ষ্য করে দেখার মতো হয়েছে যে, ভারতের আদালত ধর্ষকদের খুবই কড়া সাজা দিয়েছে – তা অনেকটাই বেশী কড়া, বিশ্বের অন্য অনেক দেশের চেয়ে, যেখানে স্থানীয় আদালত এই ধরনের অপরাধের দিকে খুবই লিবারেল ভাবে দেখে থাকে, যদি না বলা হয় যে, একেবারেই নিজের মতো করে: যেন, যারা ধর্ষিতা হয়েছেন, তাঁরাই অনেক ক্ষেত্রে নিজেরাই অপরাধী.

এই রকমের যে কোন ধরনের ঘটনাকেই আটকানোর চেষ্টা ব্যাখ্যা করা যেতেই পারে – তা শুধু ভারতের এক সহনশীল রাষ্ট্রের ইমেজই নষ্ট করে না, যা বিশ্বের জন্য উন্মুক্ত আর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তির দিকেই এগিয়ে চলেছে, যার অন্যতম হল – মানবাধিকারকে সম্মান. ধর্ষণ – এটা ভারতের দীর্ঘস্থায়ী ও খুবই উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার বিরুদ্ধে এক গুরুতর বিপদ, যা দেশের প্রশাসন নিয়েছে দেশের পর্যটন শিল্পকে অর্থনীতির একটি বিকাশশীল ক্ষেত্রে পরিবর্তনের জন্য, আর যা শুরু করেছিল সেই ২০০০- এর দশকের প্রথম দিক থেকে, দুই শতকের সন্ধিক্ষণে, এক স্লোগান নিয়ে: “সহস্রাব্দের বছরে ভারত আবিষ্কার করুন” বলে.

ধর্ষিতা সুইজারল্যান্ডের মহিলা ও তাঁর স্বামী সেই সব পর্যটকদের মধ্যেই ছিলেন, যাঁদের উপরে ভারত সরকার বাজী ধরেছিল. সুইজারল্যান্ডের লোকরা সাইকেলে করে আগ্রা যাচ্ছিলেন, তাজমহল দেখবেন বলে. সেই সমস্ত পর্যটকরা, যাঁরা এই ক্ষতিগ্রস্ত সুইজারল্যান্ডের নাগরিকদের মতই ভারতে গিয়ে থাকেন একই ধরনের লক্ষ্য নিয়ে, যাঁদের বলা হয়ে থাকে প্রত্নতাত্ত্বিক ও ইনটেলেকচ্যুয়াল পর্যটনেরই ভক্ত, যাঁরা নিজেদের অবসরের প্রতি মোটেও স্রেফ প্রমোদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন না, বরং দেখে থাকেন একটা অন্য ধরনের সভ্যতাকে ও সংস্কৃতিকে গভীর ভাবে জানার প্রয়াস হিসাবেই. কিন্তু এই ধরনের পর্যটনে পর্যটকদের অনেক বেশী স্বনির্ভর হওয়ার প্রয়োজন পড়ে দেশ জুড়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য, আর তাতে অনেক অসাধারণ ও প্রায়ই চরম পরিস্থিতির সূচনা হতেই পারে. এখান থেকেই নানারকমের – ঝুঁকি ও নিরাপত্তার অভাব.

বিদেশী মহিলা পর্যটকদের উপরে আক্রমণের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার ফলে পর্যটন শিল্প ক্ষেত্রের বছরে এক হাজার সাতশো কোটি ডলারের কারবারে একটা ইতি টানতে হতে পারে. তাই ভারতের সরকার এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নিয়েছে. গত সপ্তাহে, দেশের সরকার এক প্রচার অভিযানের ঘোষণা করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে “আমি মহিলাদের সম্মান করি”, যা করা হচ্ছে বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমের তরফ থেকে করা খুবই শক্তিশালী অপপ্রচারকে সংযত করার জন্য. জানানো হয়েছে যে, পর্যটন শিল্পের কর্মীরা, তাঁদের মধ্যে ভারতীয় রাজ্য গুলির পর্যটন মন্ত্রীরাও রয়েছেন ও এমনকি রাষ্ট্রীয় মন্ত্রীসভার পর্যটন মন্ত্রী কে চিরঞ্জিভী নিজেও এবার থেকে এই “আমি মহিলাদের সম্মান করি!” লেখা ব্যাজ পরে থাকবেন. হিন্দী ও ইংরাজীর মতো রাষ্ট্রভাষা ছাড়া এই ধরনের ব্যাজ বাজারে আনা হয়েছে আরও বেশ কয়েকটি ভাষাতেও, তার মধ্যে চিনা, কোরিয়া, জাপানী ও রুশী ভাষাও রয়েছে.

আমাদের কাজ- দেখানো যে, বেশীর ভাগ ভারতীয়রাই বিদেশী মহিলাদের প্রতি অপরাধের কড়া সমালোচনা করেন ও আমরা প্রমাণ করতে চাই যে, ভারতে মহিলাদের সম্মান করা হয়, - ঘোষণা করেছেন পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মচারী. এই প্রসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, সারা বিশ্ব জুড়ে ধর্ষণের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারত মোটেও শীর্ষে নেই, রয়েছে শুধু ৬২তম স্থানে.

কিন্তু এই পরিসংখ্যান কাউকে তো মনে হয় না যে, শান্ত করবে. কারণ অন্য একটা পরিসংখ্যানও রয়েছে. লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস সংবাদপত্রে জানানো হয়েছে যে, এই বছরের শুরু থেকে ভারতে, গ্রেট ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে আসা – অর্থাত্ তিনটি প্রধান ইংরাজী ভাষায় কথা বলা দেশের থেকে আসা মহিলা পর্যটকদের সংখ্যা কম গিয়েছে শতকরা ৩৫ ভাগ, যে সমস্ত মহিলারা কয়েকমাস আগে ভারতে যাওয়ার জন্য ট্যুর বুক করেছিলেন, তাঁরাও বেশী করেই এই “আশ্চর্যের দেশে” যাওয়া বাদ দিয়ে তার বদলে বেছে নিচ্ছেন কম বিপজ্জনক এশিয়াতেই অন্য পথ – যেমন, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মায়ানমার.

0তাঁদের বোঝা সহজ, কারণ পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারতে প্রতি ২২ মিনিটে একটি করে নতুন ধর্ষণ হচ্ছে. আর নিজের জন্য “ভয়ঙ্কর ভারত” খুঁজে পেতে কেউই নিশ্চয় চাইবেন না...