চলতি সপ্তাহে মিশরে শান্তি পরিবেশের দেখা মেলে নি। তাবে তা সত্বেও নতুন সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে। মিশরের আসন্ন পার্লামেন্ট ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজন করবে এই মন্ত্রীপরিষদ। এসব কিছুই যেন মিশরে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারছে না। ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রপতি মুহাম্মদ মুরসির সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা চলছেই।

মিশরের বিভিন্ন শহরে রাস্তায় বিক্ষোভ-সংঘর্ষে মানুষের প্রাণহানির ঘটনার খবর প্রতিদিন আসছে। মুসলমানদের এখন পবিত্র রমজান মাস চলছে কিন্তু তারপরেও প্রতিদিন বিকেলে কয়েক হাজার মানুষ রাস্তায় এসে নিজের প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

এদের কেউ শাষনের পালাবদলে খুশি হয়ে স্লোগান দিচ্ছেন কেউ বা মুহাম্মদ মুরসিকে আবার মিশরের দায়িত্বভার দেওয়ার দাবী জানাচ্ছেন।

যখনই দুই পক্ষের বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে তখনই সেনাবাহিনী তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তবে আপাতত কোন বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে নি। একথা সত্য যে, মিশরে মুহাম্মদ মুরসির সমর্থকদের চেয়ে তার বিরোধী জনগনের সংখ্যা বেশি। এমনটি বলছেন রুশ বিজ্ঞান একাডেমির আরব গবেষণা সেন্টারের বিশেষজ্ঞ বরিস দলগোভ। রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেছেন, "মুরসির সমর্থকদের জন্য যারা পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন তাদের সমঝোতায় যাওয়া উচিত। যেহেতু মুরসির বিপক্ষে অবস্থানকারীদের সংখ্যা বেশি এবং তা এক অর্থে মিশরীয় সমাজের একটা বড় অংশ। তবেই সবাই এখন অপেক্ষা করছে মেশরে একটি নতুন সরকারের।"

সত্যিই কি সমঝোতা হওয়ার কোন সম্ভাবনা রয়েছে?। মুসলিম ব্রাদারহুডের বিক্ষোভ বন্ধ করার সম্ভাবনা খুব কম। এমনটি মনে করছেন সেন্ট পিটার্সবুর্গের আধুনিক মধ্যপ্রাচ্য গবেষণা সেন্টারের প্রধান গুমের ইসায়েভ। রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেছেন, "মুরসির সমর্থকরা দাবী করছে যে বেআইনিভাবে রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। তাদের মতে, মুরসি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা মেনেই চলেছিলেন এবং দেশকে সামরিক বিপ্লব থেকে উদ্ধার করেছিলেন। আর তাদের পক্ষে নিজেদের পরাজয় স্বীকার করা মানে নিজেদের দূর্বলতার পরিচয় দেয়া। কিন্তু মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুডকে বেশ প্রভাবশালী সংগঠন হিসেবেই মনে করা হয়।"

গত মঙ্গলবার মিশরে নতুন অন্তর্বর্তী সরকার যাত্রা শুরু করেছে। মন্ত্রীপরিষদে অর্থনীতিবীদ, প্রযুক্তিবিদ, উদারপন্থি, খ্রিষ্টান ও নারীদের জায়গা দেয়া হয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র মুসলিম ব্রাদারহুডের কোন প্রতিনিধি নেই।

অন্তর্বর্তী মন্ত্রিসভা শপথ নেয়ার পর পরই এ সরকারকে ‘অবৈধ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে মুসলিম ব্রাদারহুড। এখানে মুসলিম ব্রাদারহুড নিয়ে কথা নয়, বরং এই প্রক্রিয়ায় গনতন্ত্রে ফিরে আসা তা মিশরে বেশি সময়ে ধরে স্থায়ীত্ব পাবে না। এমনটি মনে করছেন মিশরীয় ফ্রিডম ও জাস্টিস পার্টির প্রতিনিধি মোহাম্মদ সুদান যিনি এখন মুসলিম ব্রাদারহুডে যোগ দিয়েছেন। রেডিও রাশিয়াকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, "সমাধানের অনেক পথ রয়েছে. আমাদের উচিত সংবিধানের আলোকে এগিয়ে যাওয়া, কোন সামরিক বিপ্লবের পথে নয়। আমাদের সংবিধানে জরুরিভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে গণভোট আহবান করার কথা উল্লেখ রয়েছে। সংবিধান সংশোধন করতে আমরা একটি সংসদীয় কমিটি গঠন করতে পারি। তবে এই কমিটির প্রতিটি সদস্য নির্বাচন করতে হলে মিশরের প্রতিটি জনগন, ইসলামিক ও উদারপন্থি পার্টির সমর্থন পেতে হবে। আর সেনাবাহিনী এখন বিশেষ কিছু ব্যক্তিকে বেছে নিচ্ছে। সাধারণ নাগরিকদের বাদ দিয়ে এরা নতুন সংবিধান গঠন করতে চাচ্ছে।"

আগামী বছরের শুরুতে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে তাই হয়তো মিশরে সমাধান বয়ে আনতে পারে। আর ওই নির্বাচন যদি নির্দিষ্ট আইনমালা মেনেই অনুষ্ঠিত হয় তাহলে কেউ আর সরকারকে অবৈধ বলে দাবী করবে না। তাই মুসলিম ব্রাদারহুড যারা মিশরীয় সমাজের একটা বড় অংশ বলে দাবী করছে তাদেরকে বাধ্য হয়েই নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ নিতে হবে।