আগামী সপ্তাহে রাষ্ট্রসঙ্ঘ থেকে বিশেষ পরিষদ সিরিয়াতে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ নিয়ে তদন্ত করতে পৌঁছবে. এর আগে রাশিয়া রাষ্ট্রসঙ্ঘের কাছে সিরিয়ার জঙ্গীদের পক্ষ থেকে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অকাট্য প্রমাণ হাজির করেছে এক বিশদ রিপোর্ট দিয়ে.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞরা দামাস্কাসের কাছ থেকে দাবী করেছিলেন সমস্ত জায়গায় যেতে দেওয়ার জন্য যেখানে এই বিরোধের পক্ষরা একে অপরের প্রতি নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে. সিরিয়ার প্রশাসন, যারা এই ধরনের তথ্য গোপন করার বিষয়ে সব চেয়ে কম আগ্রহী, তারা এই প্রস্তাব সোত্সাহে মেনে নিয়েছে. এই পরিষদের প্রধান আকে সেলস্ট্রম ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত প্রতিনিধি অ্যাঞ্জেলা কেন ঠিক করেছেন সিরিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের নেতৃত্ব ও স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করার.

গত সপ্তাহে রাশিয়া রাষ্ট্রসঙ্ঘকে ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনকে পরীক্ষার ফলাফল দিয়েছে, যা একেবারে সরাসরি প্রমাণ করে দিয়েছে যে, ১৯শে মার্চ আলেপ্পো শহরের উপকণ্ঠে জঙ্গীরা বিষাক্ত জারিন গ্যাস ব্যবহার করেছিল, যার ফলে ৩০ জন নিহত হয়েছেন. রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ঘোষণা করেছেন যে, এই মৃত্যুবাহী গোলা তৈরী করা হয়েছিল ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে একেবারে হাতে করে আর সেটা হয়েছিল জঙ্গী অধিকৃত এলাকাতেই, যারা নিজেদের বলে সিরিয়ার মুক্তি বাহিনী. প্রসঙ্গতঃ, ওয়াশিংটনে এই যুক্তিকে মনে করা হয়েছে যথেষ্ট নয় বলে. পররাষ্ট্র দপ্তরের সভাপতি জেন প্সাকি ঘোষণা করেছেন যে, ওয়াশিংটনে এই ধরনের সম্ভাবনাকে বিশ্বাস করা হয় না, যদিও তার প্রমাণ দেওয়া হয়েছে. এই সমস্যাকে ঘিরে রাজনৈতিক যুদ্ধের মধ্যেই সিরিয়াতে লড়াই চলছে, যাতে সাধারণ অস্ত্রশস্ত্রই ব্যবহার হচ্ছে, আর সেই গুলির উপরে আজ অনেক কিছুই নির্ভর করছে, বলে মনে করে বিশেষজ্ঞ লিওনিদ ইসায়েভ বলেছেন

এই মুহূর্তে দেশের লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছে সরকারি ফৌজ, আর সেই সমস্ত দেশ, যারা জঙ্গীদের সহায়তা দিচ্ছিল, তাদের মধ্যেও এখন মতবিরোধ দেখা দিয়েছে: কেউ মনে করেছে যে, বিরোধী সিরিয়ার মুক্তি বাহিনীদের সাহায্য চালিয়ে যাওয়া দরকার, কেউ আবার এই বিষয়ে আগ্রহী নয়.

তা স্বত্ত্বেও, সিরিয়ার বাইরে আসাদের প্রশাসনের পতন চাওয়া লোকদের প্রভাব অনেতক বেসী. শুধু গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই জঙ্গীরা অনেক পরিমানে অস্ত্র পেয়েছে, তার মধ্যে ভারী অস্ত্রও রয়েছে. এই বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পররাষ্ট্র সচিব জন কেরি ১৭ই জুলাই আম্মান রাষ্ট্রে সফরের সময়ে বলেছেন. এখানে কথা হচ্ছে সেই সমস্ত দেশ থেকে সরবরাহ করা নিয়ে, যারা “সিরিয়ার মিত্র জোট” তৈরী করেছে. প্রসঙ্গতঃ, তিনি উল্লেখ করেছেন যে, জঙ্গীদের কাছে অস্ত্র ও রসদ আসে অন্য উত্স থেকেও. বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, এখানে কথা হচ্ছে কিছু পশ্চিমের দেশের পক্ষ থেকেও, যাদের কথা খুব একটা বলা হয় না. এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ওবামার পক্ষ থেকে এই ধরনের উদ্যোগ মার্কিন কংগ্রেস আটকে দিয়েছে. কিন্তু সামরিক বাহিনীর লোকরা সঙ্গে সঙ্গেই তাড়াহুড়ো করে নিশ্চিত করেছে যে, তারা অন্যান্য সম্ভাব্য পথ ধরার চেষ্টা করছে. ব্রিটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী উইলিয়াম হেগ, নিজের পক্ষ থেকে পার্লামেন্টের সদস্যদের নিশ্চিন্ত করেছেন যে, সিরিয়ার জঙ্গীদের অস্ত্র সরবরাহ করা হবে, শুধু তাদের পক্ষ থেকে সম্মতি পেলেই. প্রসঙ্গতঃ, প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন এর আগে ঘোষণা করেছেন যে, সিরিয়াতে অনুপ্রবেশ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র অধিকার নিজের উপরেই তিনি রেখেছেন. সুতরাং পশ্চিমের মুখ্য ক্রীড়নকরা মোটেও এই সমস্যাকে রাজনৈতিক-কূটনৈতিক প্রিজমের মধ্য দিয়ে দেখছেন না, যদিও মাঝে মধ্যেই শান্তিপূর্ণ ভাবে নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ঘোষণা করছেন. প্রসঙ্গতঃ সিরিয়া নিয়ে কনফারেনস, যা সারাক্ষণই খালি পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা শান্তি প্রয়াসে কোন সিদ্ধান্ত মূলক কারণ হবে বলে তো মনে হয় না, এই কথা উল্লেখ করে প্রফেসর গিওর্গি কোসাচ বলেছেন:

“আজকের দিনে এই সঙ্কট থেকে বের হয়ে যাওয়ার পথ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আহ্বানের মধ্যেই আর নেই, কারণ এই প্রস্তাব এখন নষ্ট হয়ে গিয়েছে. কিন্তু অন্যদিক থেকে পথ খুঁজে বের করতে হবে, যা দুই পক্ষকেই সব কিছু করতে সুযোগ দেবে, যা তাদের উপরে নির্ভর করে. তাদের উপরে বিভিন্ন দেশ দিয়েই “চাপ” সৃষ্টি করতে হবে, যার মধ্যে রাশিয়াও রয়েছে, যাতে মানবিক সঙ্কট কম করা যায়”.

মস্কো সিরিয়াতে বেআইনি অস্ত্র সরবরাহের তদন্তের পক্ষে প্রস্তাব করেছে. দেশের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রসঙ্ঘে স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন বলেছেন যে, “বিগত সময়ে সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীর কাছে বেআইনি ভাবে অস্ত্র পাচারের প্রচুর খবর রয়েছে”. বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে, তাতে প্রত্যেক দিনের সঙ্গেই সিরিয়া রাষ্ট্রে মানবিক বিপর্যয় খালি গভীরতরই হচ্ছে, যুদ্ধে মারা যাচ্ছেন বহু সহস্র নিরীহ সিরিয়ার জনগন, আর উদ্বাস্তু সংখ্যা এখন প্রায় ২০ লক্ষ লোক ছুঁয়েছে.