ভারতে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার কাদাকিন রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ঘোষণা করেছেন যে, রাশিয়া নাগারে রোয়েরিখদের জমি জায়গা জবর দখলের ও তার বাণিজ্যিক কারণে ব্যবহার করার নতুন চেষ্টা হতেই দেবে না. তিনি রোয়েরিখ আন্তর্জাতিক স্মৃতি ট্রাস্টের স্রষ্টা ও আমৃত্যু অভিভাবক. ১৯৯২ সালে বিখ্যাত রুশ শিল্পী, দার্শনিক, প্রাচ্য বিশারদ পরিবার, যাঁরা ভারতে স্থায়ী ভাবে বসবাস করেছিলেন, তাঁদের বংশের শেষ উত্তরাধিকারী স্ভিয়াতোস্লাভ রোয়েরিখের উইল অনুযায়ী তৈরী করা রোয়েরিখ আন্তর্জাতিক স্মৃতি ট্রাস্ট নাগারে তাঁদের এই বাড়ীটিতে জাদুঘর স্থাপন করে একটি নিয়মিত ভাবে যাওয়ার উপযুক্ত আত্মিক ও সাংস্কৃতিক তীর্থস্থানে পরিণত করেছে.

রাষ্ট্রদূত মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, - রাশিয়া গত বছরে এই জায়গা দখল করে সেখানে বাণিজ্যিক ভাবে প্রমোদ উদ্যান করার চেষ্টায় বাধা দিয়েছিল. তা স্বত্ত্বেও আলেকজান্ডার কাদাকিন স্বীকার করেছেন যে, ট্রাস্টের সদস্যদের মধ্যেই নির্দিষ্ট রকমের বিরোধ রয়েছে, তিনি বলেছেন:

“রোয়েরিখদের উত্তরাধিকার ও তাঁদের দর্শন – এটা বিশ্ব মানবের সম্পত্তি, তা শুধু কুলু এলাকারই নয়, এমনকি যে রাজ্যে এই জায়গা সেই হিমাচল প্রদেশ, ভারত বা রাশিয়ারও একার সম্পত্তি নয়, এটা সমগ্র মানব জাতির. এই ধরনের সংজ্ঞাবহ জাদুঘর স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিচালনা করা যেতে পারে না, যা এখন করা হচ্ছে, বরং তা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে চলে আসা উচিত্. রোয়েরিখরা যেগুলি স্থির করে দিয়েছিলেন, সেই এলেনা রোয়েরিখের নামে আর্ট কলেজ, অন্যান্য শিক্ষামূলক প্রকল্প গুলির কাজ, যা কয়েক বছর আগে ভবন তৈরী দিয়ে শুরু করা হয়েছিল, তা এখন কাজ বন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে. যদিও এই সব কাজের জন্য ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী কম বাজেট বরাদ্দ ধরে দেন নি. সেই গুলি তৈরী করা, আন্তর্জাতিক রোয়েরিখ স্মৃতি কেন্দ্রে রাশিয়ার অংশগ্রহণ, এই সবেরই বিরোধীতা করেছে হিমাচল প্রদেশের প্রশাসন ও তাদের চারপাশের লোকেরা. বর্তমানের মুখ্যমন্ত্রী বীরভদ্র সিংহের নির্বাচনের পরে, যিনি এই ট্রাস্টের একবারে সৃষ্টির সময় থেকে রয়েছেন, একটা আশার সৃষ্টি হয়েছে যে, নাগারে রোয়েরিখদের বাসভবন ও জাদুঘর উপযুক্ত ভাবে উন্নতি করবে”.

রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার কাদাকিন উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়া রোয়েরিখ পরিবারের সৃষ্ট উত্তরাধিকার রক্ষার বিষয়ে খুবই বড় গুরুত্ব দিয়ে থাকে.

তিনি কয়েকদিন আগে ইতার-তাস সংস্থার সাংবাদিকের কাছে ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রী শ্রীমতী চন্দ্রেশ কুমারী কাতোচ যে মন্তব্য করেছেন, তাঁর বিষয়ে বলেছেন.

মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, রোয়েরিখ পরিবারে উত্তরাধিকার সুরক্ষার জন্য শক্তি প্রয়োগ করা দরকার. ভারতের “ডেকান হেরাল্ড” সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী কর্নাটক রাজ্যের মন্ত্রীসভা বাঙ্গালোরের কাছে টাটাগুনি এলাকায় রোয়েরিখদের জমি জায়গাকে জঞ্জালের ভ্যাট হিসাবে ব্যবহার করার জন্য আনা এক পাশবিক প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেছে ও ঠিক করেছে যে, এই এলাকার পুনরুদ্ধারের জন্য যথেষ্ট পরিমানে অর্থ বরাদ্দ করবে. এই প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত কাদাকিন বলেছেন:

“এই খবর ও ঘোষণা সেই সমস্ত মানুষদের হৃদয়ে হর্ষের সঞ্চার করে, যাঁরা জীবনের বহু বছর রোয়েরিখদের ঐতিহ্য রক্ষার জন্য ব্যয় করেছেন. কিন্তু রাশিয়াকে সেই বাস্তব ঘটনা মোটেও সন্তুষ্ট করে নি যে, কেন্দ্রীয় সরকার হিমালয়ে রোয়েরিখদের জমি জায়গার বিষয়ে যথেষ্ট মনোযোগ দিচ্ছেন না. আজ আড়াই বছরের বেশী হতে চলল, যখন ট্রাস্টের পৃষ্ঠপোষকদের নিয়ে কোন সভা ডাকা হয় নি. কিন্তু তার সদস্যদের মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় রয়েছে, আরও আছে ভারতের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ সভা, ইন্দিরা গান্ধীর নামাঙ্কিত আর্ট সেন্টার, অ্যাকাডেমী অফ ফাইন আর্টস ইত্যাদি. এখনও এই ভবন ও উদ্যানের কোনও ভারতীয় কিউরেটর রাখা হয় নি. আমরা রোয়েরিখদের জমি জায়গার উপরে দখল চাইছি না, কিন্তু আমাদেরও অধিকার রয়েছে তা সংরক্ষণ করার কাজে. আর আমরা এই ট্রাস্টের থেকে রুশ লোকদের ঠেলে বের করে দেওয়া হতে দেবো না”.

রোয়েরিখদের আন্তর্জাতিক স্মৃতি ট্রাস্ট মস্কো শহরে হিমালয়ে রোয়েরিখদের জাদুঘর ও উদ্যান উন্নয়নের পরিকল্পনা তৈরী করে ভারতীয় সহকর্মীদের কাছে পাঠিয়েছে. এই পরিকল্পনাতে হিমালয় নিয়ে গবেষণা কেন্দ্র উরুস্বতী আবার করে চালু করার কথা বলা হয়েছে, তাতে স্কুল তৈরী, আর্ট গ্যালারি তৈরীর কথাও রয়েছে. রাশিয়ার পক্ষ থেকে ভারত- রাশিয়া আন্তর্প্রশাসনিক পর্ষদে রোয়েরিখদের ঐতিহ্য নিয়েও কথা বলা হবে ঠিক রয়েছে. অক্টোবরে মস্কো শহরে এই পর্ষদের অধিবেশন হবে.