রাশিয়ার সারাতভ শহরের মুসলমান মহিলা সংগঠন “ঝর্ণা” পঞ্চম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান পালন করছে. “ঝর্ণা” সংস্থার সক্রিয় কর্মীদের প্রথম জয়ন্তী উপলক্ষে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার মুফতি সভার উপসভাপতি রুশান আব্বিয়াসভ.

তিনি রাশিয়ার মুফতি সভার তরফ থেকে এক সাম্মানিক অভিজ্ঞান পত্র এই সংস্থার প্রধান নেত্রী খাদিজা বিবারসভা-কে সামাজিক ও দাতব্য প্রকল্পের রূপায়ণ করার জন্য উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতী হিসাবে অর্পণ করেছেন. এই প্রসঙ্গে আব্বিয়াসভ বলেছেন:

“আমি নিজের চোখে দেখেছি, কিভাবে “রমজান মাস, স্বাগতম!” নামের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে. “ঝর্ণা” সংস্থার মেয়েরা বহু রকমের কাজকর্মে অংশ নিয়ে থাকেন, যা এই শহরের ও এলাকার প্রশাসন করছে. যেমন, যখন সারাতভের লোকদের শহরের উদ্যান পরিস্কার করার জন্য ডাকা হয়েছিল, তখন এই মুসলমান মেয়েরাই ছিলেন প্রথম সারিতে. আমি মনে করি যে, এই ধরনের সক্রিয় সামাজিক অবস্থান খুবই সঠিক”.

সারাতভ – ভলগা নদীর তীরে এক বৃহত্তম শহর, তাতে প্রায় স লক্ষ মানুষ থাকেন. তাঁরা ডজন খানেক নানা প্রজাতির ও ধর্ম বিশ্বাসের মানুষ, এখানে বসতি গড়ে উঠেছে সপ্তদশ শতকের আগে থেকেই ও রাশিয়ার দক্ষিণে এটা ছিল এক বৃহত্ বাণিজ্য কেন্দ্র.

আধুনিক সারাতভে দুটি মসজিদ কাজ করছে, তাতে তাতার, চিচেন, কাজাখ, আজারবাইজান প্রজাতির লোকরা একসাথেই নামাজ পড়েন. কিন্তু রমজান মাসের প্রথম দিনটিতে একটি মসজিদের ছবি সমেত সুন্দর বাক্স করে সমস্ত সারাতভ শহরের লোকদেরই মিষ্টি ও খেজুর দেওয়া হয়েছিল, আর তা নিতে পেরেছিলেন ধর্ম, বর্ণ ও বিশ্বাস নির্বিশেষে সমস্ত মানুষই, এই কাজ করেছিল এই “ঝর্ণা” সংস্থার মেয়েরাই. এই ঘটনার কথা উল্লেখ করে সংস্থার নেত্রী খাদিজা বিবারসভা বলেছেন:

“আমরা দাতব্য কাজকর্মে অংশ নিয়ে থাকি, ধর্মীয় শিক্ষার কাজেও নিই. আমাদের অভিভাবকত্বে চারটি শিশু নিবাস রয়েছে, যেখানে আমাদের জন্য বাচ্চারা একেবারে অধীর ভাবে অপেক্ষা করে থাকে. এরা সেই রকমের শিশু, যাদের সেরিব্রাল প্যারালাইসিস রোগ আছে, তাদের কথাবার্তা, চোখের দৃষ্টি, শোনার ক্ষমতা সব বিষয়েই স্বাভাবিক শিশুদের চেয়ে কম ক্ষমতা. তারই সঙ্গে আমরা মহিলাদের পরিবার সংক্রান্ত প্রশ্নে পরামর্শ দিয়ে থাকি, বাচ্চাদের জন্য লেকচার দেওয়ার বন্দোবস্ত করি. পবিত্র রমজান মাসের দিন গুলিতে, প্রত্যেক ছুটির দিনই আমরা বাচ্চাদের সঙ্গে দেখা করে কাটাচ্ছি. প্রথম দিনে আমরা তাদের পবিত্র মাসের অর্থ কি বলেছি, দ্বিতীয় দিনে বলেছি ইফতার সম্বন্ধে বলেছি ও তাদের নিজের হাতে প্লেট গ্লাস বানাতে দিয়েছি. এর জন্য আমরা একবারের ব্যবহারের জন্য প্লেট, গ্লাস কিনে তাদের দিয়েছি রঙ দিয়ে সাজানোর জন্য. তারা যা পেরেছে, সেই ভাবেই রঙ করেছে. আর এই কেনা প্লেট, গ্লাস হয়ে উঠেছে একেবারেই অনন্য. মাসের শেষে ইদ-উল-ফিতরে, আমরা বাচ্চাদের সঙ্গে উত্সবের গ্রিটিংস কার্ড বানাবো, যা তারা নিজেরা নিজেদের মা, দিদিমা, বন্ধুদের দেবে”.

“ঝর্ণা” সংস্থার মূল চক্র – দশজন মুসলিম মেয়ে. নানারকমের অনুষ্ঠানে এদের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবকরা যোগ দেয় – মূলতঃ সারাতভ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ও অন্যান্য উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রী ও ছাত্ররা.

গত বছরে “ঝর্ণা” সংস্থার সক্রিয় কর্মীরা কুয়েইত গিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক “আল- ভসতীয়া” সংস্থার সেমিনারে যোগ দিতে, এই নিয়ে খাদিজা বলেছেন:

“আমরা লেকচার শুনেছি বাচ্চাদের কি করে শিক্ষা দিতে হয়, নিকা ও সম্বন্ধ করা নিয়েও, যা আজকের দিনে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়. এখন প্রায়ই পরিবার তৈরী হয় ইন্টারনেটে আলাপের পরেই, এতে করে যুবক-যুবতীরা একে অপরের পরিবারের সম্বন্ধে আগে থেকে না জানাতে, প্রায়ই তাদের পরিবার বেশী দিন টেকে না, তাই এখন সম্বন্ধ করার প্রশ্নের গুরুত্ব বাড়ছে”.

বড়দের জন্য লেকচারের সারি তৈরী করা হয়েছে “ইসলামে শিশুরা” নাম দিয়ে, এই কাজ ছাড়া “রক্তদান শিবিরের” আয়োজনও করা হয়েছে. স্কুলের ছেলেমেয়েদের জন্য “রাস্তায় চলাফেরা করার নিয়ম” নামের শিক্ষাও দেওয়া হচ্ছে, তাই বলা যেতে পারে যে, এই “ঝর্ণা” নামের সংস্থা সব সময়েই কাজের মধ্যে রয়েছে. শহরের প্রশাসন এক দাতব্য ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার জন্য “নির্মল হৃদয় ও সমব্যাথীত্ব” নামের সাম্মানিক পত্র অর্পণ করেছে এই সংস্থাকে.

খাদিজা যে উদ্যোগ নিয়ে এখন কাজ করছেন, তার নাম “একবিংশ শতকে মুসলমান মহিলারা”, এক সারা রাশিয়া জোড়া সম্মেলন, যা সেপ্টেম্বরে আয়োজন করার কথা রয়েছে, এই নিয়ে তিনি বলেছেন:

“আমার মতে বর্তমানের মুসলমান মহিলারা অসম্ভব সক্রিয়, সব দিক থেকেই আধুনিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ ও পরিপূর্ণ ভাবে নতুন দিনের জন্য উদ্যোগী মানুষ. অবশ্যই, তাঁরা ধর্মের সমস্ত নিয়মই মানেন, আর নিজের কাজ দিয়েই প্রমাণ করে দেন, কিভাবে বাঁচা দরকার”.

সারাতভের মুসলিম মেয়েরা নিজেদের সংস্থাকে শুধুশুধুই “ঝর্ণা” নাম দেন নি: তাঁরা ঝর্ণার স্বচ্ছতা ও পরিস্কার বিষয়কে নিজেদের ইচ্ছার রূপ হিসাবেই দেখেছেন, যা একই রকমের স্পষ্ট ও দেখার মতো. তাদের এটা করা সম্ভব হয়েছে.