সিরিয়ার জনগন নিজেদের দেশের পরিস্থিতির দায়িত্বভার বহন করে. সিরিয়ার প্রশ্ন সমাধানে আন্তর্জাতিক আইনের নিয়মাবলী কোন রকমের ছাড় না দিয়েই পালন করা উচিত্. এই বিষয়ে “রেডিও রাশিয়াকে” দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাত্কারে ঘোষণা করেছেন সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মুখ্য সচিব দিমিত্রি মেজেন্তসেভ.

মেজেন্তসেভের মতে রাশিয়া এবং চিন সিরিয়া নিয়ে যে অবস্থান নিয়েছে, তা কোনও রকমের বাড়তি যুক্তি দেখানোর দরকার বোধ করে না. তিনি নিজের পক্ষ থেকে আস্থা প্রকাশ করেছেন যে, যে কোন ধরনের বিরোধই প্রাথমিক ভাবে সমাধান হওয়া দরকার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ভাবে. বেশ কিছু দেশের পক্ষ থেকে তথাকথিত সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে অস্ত্র দিয়ে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে. দেখা যাচ্ছে সিরিয়ার আইন সঙ্গত প্রশাসনের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ের জন্য এক ধরনের আর্থিক ভাবে পুষ্ট করার নীতি নেওয়া হয়েছে. প্রশ্ন হল যে, এই কাজকর্ম রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদের সঙ্গে কতদূর মানিয়ে করা হচ্ছে, তিনি আরও বলেছেন:

“কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকার পরিস্থিতি সম্বন্ধে বলতে গিয়ে বলা যেতে পারে যে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা সমস্ত পক্ষের সঙ্গে সহমতে এসে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে করা পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার পরেই এক ঘোষণা করেছে আর তাতে একেবারেই কোন রকমের সমঝোতা না দেখিয়ে বলা হয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের অবস্থানকে সমর্থন করার কথা ও রুশ প্রজাতন্ত্রের পক্ষ থেকে এই ধরনের কাজ চলতে দেওয়া যায় না বলে অবস্থান”.

আফগানিস্তানের সমস্যা নিরসনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে “রেডিও রাশিয়ার” প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মেজেন্তসেভ বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, আফগানিস্তানের সমস্যা নিরসনের জন্য ব্যবস্থা শুধু রাষ্ট্রসঙ্ঘের উদ্যোগে ও তার অগ্রণীর ভূমিকা নিয়েই করা যেতে পারে. গত বছর থেকে আফগানিস্তান সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার পর্যবেক্ষক দেশ হয়েছে. এটা মেজেন্তসেভের মতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এক লক্ষণ, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে অন্যান্য দেশের তরফ থেকে উদ্বেগের প্রমাণ. আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে সংস্থায় এই মর্যাদা পাওয়াও তাদের উপরে নির্দিষ্ট দায়িত্ব অর্পণ করে, যা অন্যান্য রাষ্ট্রের সামনে তাদের রয়েছে.

ভারত, ইরান, পাকিস্তান, মঙ্গোলিয়া পর্যবেক্ষক দেশ হিসাবে কিছু কম কাজ করে নি. মুখ্য সচিবের মতে, তাঁর সচিবালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল – এই সংস্থার কাজকর্মে পর্যবেক্ষক দেশ গুলির ভূমিকাকে আরও গভীর করে তোলার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া.

মেজেন্তসেভ উল্লেখ করেছেন যে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার গত বারো বছরের অস্তিত্বের মধ্যে পর্যবেক্ষক দেশগুলির যে নির্দিষ্ট দল হয়েছে ও একই সঙ্গে আলোচনা সঙ্গী হিসাবে দেশের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে – এটা এই সংস্থারই প্রভাবের এক গুরুত্বপূর্ণ সূচক, এর ক্ষমতার প্রতীক ও তার প্রভাব যেমন এই এলাকায়, তেমনই আন্তর্জাতিক মঞ্চেও দেখতে পাওয়া গিয়েছে.

সেপ্টেম্বরে মাসে হতে যাওয়া শীর্ষ সম্মেলনে আলোচনার তালিকায় – দীর্ঘস্থায়ী মৈত্রী, সহযোগিতা ও সুপ্রতিবেশী সুলভ সমঝোতার বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা শেষ অবধি ঠিক করা. তারই সঙ্গে তৈরী হচ্ছে এক চুক্তি, যা মালবহনকারী গাড়ী যাতায়াতের সুবিধা করে দেবে. তাছাড়া, চুক্তির বয়ান তৈরী হচ্ছে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উচ্চ প্রযুক্তি বিষয়ে সহযোগিতা নিয়েও.

মেজেন্তসেভ উল্লেখ করেছেন যে, এই সংস্থার একটি কাজ – তথাকথিত তিনটি মূল অন্যায়ের শক্তির: চরমপন্থা, সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদের মোকাবিলা করার জন্য শক্তি এক করা. তাছাড়া, এটা সীমান্ত পার হয়ে আসা সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে ও বেআইনি মাদক পাচারের সঙ্গেও লড়াই করা. সদ্যই কাজাখস্থানের এলাকায় সম্মিলিত বাহিনীর প্রশিক্ষণ হয়ে গিয়েছে, আর আগামী বছরে সামরিক মহড়ার কথা রয়েছে চিন প্রজাতন্ত্রে.

দিমিত্রি মেজেন্তসেভ তাঁর সাক্ষাত্কারের শেষে বলেছেন যে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা – এক বিশাল পরিবার, কিন্তু তার বয়স মাত্র ১২ বছর. এই সংস্থা সেই রকম ভাবে কাজ করতে শিখে নিতে বাধ্য, যাতে এই সংস্থার মুখ্য নীতি – জাতীয় স্বার্থ রক্ষা – সমস্ত সংস্থার সামগ্রিক স্বার্থের সঙ্গেই মিলিত হতে পারে.