তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী তৈপ এরদোগান ইজিপ্টের আইন সঙ্গত প্রতিনিধি মুহাম্মেদ আল-বরাদেই-কে স্বীকার করতে চান নি, যাঁকে কয়েকদিন আগে এই দেশের উপরাষ্ট্রপতি পদে বহাল করা হয়েছে. এরদোগান ঘোষণা করেছেন যে, তিনি আগের মতই ইজিপ্টের রাষ্ট্রপতি হিসাবে মুহাম্মেদ মুর্সিকে মানেন, যিনি ২০১২ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন.

তুরস্কের মন্ত্রীসভার প্রধান রেঝেপ এরদোগান ইজিপ্টের উপরাষ্ট্রপতি মুহাম্মেদ আল-বরাদেই-এর সঙ্গে এমনকি টেলিফোনে কথা বলার সম্ভাবনাকেও বাতিল করে দিয়েছেন. যেহেতু, তিনি বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, আল-বরাদেই-কে এই ক্ষমতার পদে বহাল করা হয়েছে, দেশে সামরিক অভ্যুত্থান করে. এই বিষয় নিয়ে নতুন উদ্ভূত রাষ্ট্র নিয়ে আন্তর্জাতিক ইনস্টিটিউটের নিকটপ্রাচ্য কেন্দ্রের ডিরেক্টর স্তানিস্লাভ তারাসভ বলেছেন:

“তুরস্ক-ইজিপ্ট জোটের পতন হয়েছে, যার উপরে আঙ্কারা বাজী ধরেছিল. ব্যাপার হল যে, তুরস্কে ক্ষমতাসীন ঐস্লামিক দল ন্যায় ও উন্নয়ন ইজিপ্টের “মুসলমান ভাইদের” দলের সঙ্গে কৌশলগত জোট গঠন করেছিল. আর যখন সেখানে রাষ্ট্রপতি হিসাবে মুর্সি জয়লাভ করেছিলেন, তখন তারা নিশ্চিত হয়েছিলেন যে, এবারে তাঁরা এই এলাকায় প্রাধান্যের জায়গা পেয়ে যাবেন. এখন এই জোটের পতন হয়েছে, পারস্য উপসাগরের রাষ্ট্রগুলি এবারে আলাদা হয়ে গিয়েছে, আর তুরস্ক এবারে পররাষ্ট্র রাজনীতিতে একঘরে হয়ে পড়েছে”.

তুরস্ক পররাষ্ট্র ও আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক ভুল চাল দিয়েছে. আর তাদের এবারে এই এলাকায় অবস্থান যথেষ্ট দুর্বল হয়ে পড়েছে, এই রকম মনে করে স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ও বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সের্গেই দেমিদেঙ্কো বলেছেন:

“ইজিপ্টের আভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে এখন অন্যান্য আন্তর্জাতিক শক্তিরা প্রভাব ফেলেছে. প্রাথমিক ভূমিকায় এসেছে সৌদী আরব, যারা ইজিপ্টে কাতার রাষ্ট্রকে হারিয়ে দিয়েছে, আর পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলি, যারা সৌদী রাজনীতির বাইরের দিকের এলাকাতেই রয়েছে, এরা সংযুক্ত আরব আমীরশাহী ও কুয়েইত. শেষ অবধি তুরস্ক কোথাও যাবে না আর নতুন ইজিপ্টের নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করতে রাজী হয়ে যাবে”.

আর ইজিপ্টও এখন আর আগের মত নেই, যা ছিল দুই বছর আগে. আঞ্চলিক নেতার ভূমিকা নিয়ে মুখ্য দাবীদারের জায়গা থেকে তারা এখন আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়ার দেশে পরিণত হয়েছে. বাইরে থেকে আন্তর্জাতিক সাহায্য না পেলে ইজিপ্ট আশ্বাস দেওয়া সংশোধন করতে পারবে না. সৌদী আরব, সংযুক্ত আরব আমীরশাহী ও কুয়েইত ইতিমধ্যেই নিজেদের পক্ষ থেকে ইজিপ্টের সাময়িক প্রশাসনকে এক হাজার দুশো কোটি ডলারের সাহায্য দেওয়া আশ্বাস দিয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও কায়রোকে আর্থিক সাহায্য বন্ধ করার কথা ভাবছে না. যদি ইজিপ্টকে তাদের সমস্যার সঙ্গে একলা রেখে দেওয়া হয়, তবে এটা সমগ্র এলাকার উপরেই একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, এই কথা উল্লেখ করে সের্গেই দেমিদেঙ্কো বলেছেন:

“আট কোটি পঞ্চাশ লক্ষ মানুষের ইজিপ্টে পরিস্থিতি, অবশ্যই, খুবই গুরুতর ভাবে আরব বিশ্বে প্রভাব ফেলবে, যা তার দেশের চারপাশের পরিস্থিতিতেই একটা অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরী করতে সক্ষম. কারণ পাশেই ইজরায়েল, আর যদি ইজিপ্টে চরমপন্থী মানসিকতা আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে, তবে এটা অবশ্যই ইজরায়েলকেও স্পর্শ করবে. সিনাই উপদ্বীপ এলাকায় পরিস্থিতি হবে জটিল. ইজিপ্ট থেকে ঐস্লামিকেরা তখন বিভিন্ন দেশে যেতে শুরু করবে”.

দেশে পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা সংক্রান্ত প্রশ্নে নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরীর দায়িত্ব এখন পড়েছে নবগঠিত মন্ত্রীসভার উপরেই. তা তৈরী করা হয়েছে মূলতঃ অর্থনীতিবিদ ও প্রযুক্তিবিদদের দিয়ে. মুর্সির মন্ত্রীসভা থেকে সেখানে রয়ে গিয়েছেন তিনজন – স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রধান, পর্যটন মন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আবদেল ফাত্তাহা আল-সিসি, যিনি এই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছেন. ঐস্লামিকেরা নতুন মন্ত্রীসভাতে প্রবেশ করে নি, আর এটা তাদের ভিত্তি দিয়েছে নতুন মন্ত্রীসভাকে অস্বীকারের ঘোষণার.