ভারত সিদ্ধান্ত নিয়েছে এক নতুন আঘাত হানার উপযুক্ত পার্বত্য বাহিনী তৈরী করার, যাতে ৫০ হাজার সৈন্য থাকবে. এই বাহিনীকে রাখা হতে চলেছে চিনের সঙ্গে বিরোধ হওয়া সীমান্ত এলাকাতেই. সেখানেই সামরিক পরিবহনের উপযুক্ত সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস বিমান গুলির ঘাঁটি গড়া হতে চলেছে. এই ধরনের সিদ্ধান্ত বুধবারে ভারতের মন্ত্রীসভার নিরাপত্তা পরিষদ নিয়েছে. বেজিংয়ে খুব সম্ভবতঃ, এই পদক্ষেপকে দেখা হবে এক অমিত্রসুলভ পদক্ষেপ হিসাবেই.

বাড়তি সেনা বাহিনীকে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, আসাম, জম্মু ও কাশ্মীরে বহাল করা হবে. বোঝাই যাচ্ছে যে, এই সিদ্ধান্ত নয়াদিল্লীতে এক দিনে সহমত নিয়ে নেওয়া হয় নি. তা স্পষ্টই গত সাত বছরের মধ্যে প্রথমবার ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এ. কে. অ্যান্টনির চিন সফরের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গেই সুরের অমিল হয়েছে. জুলাই মাসের শুরুতে দুই পক্ষই চুক্তি করেছে যে, সীমান্ত এলাকায় ভরসা বৃদ্ধির ব্যবস্থায় উন্নতি করা হবে, সব রকম ভাবেই সেখানে উত্তেজনা কমানো হবে. এমনকি ঠিক করা হয়েছে পাঁচ বছর ধরে বিরতির পরে যৌথভাবে সামরিক মহড়া দেওয়া হবে. ঘোষণা করা হয়েছে, তার সময় ও স্থান নিয়ে – এই বছরের অক্টোবর মাসে, চিনের দক্ষিণে কুনমিন শহরের কাছে.

এবারে এই পরিকল্পনা শূণ্যে ঝুলে থাকতে পারে, যদি বেজিং শহরে নয়াদিল্লীর পক্ষ থেকে সীমান্তবর্তী এলাকায় সামরিক সক্রিয়তা বৃদ্ধির বিষয়ে বাড়তি আবেগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়, তাহলে. এখানে একেবারে স্পষ্টই এশিয়ার দুই বৃহত্ রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের প্যারাডক্স দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, এই রকম মনে করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“এই প্যারাডক্স সেই মর্মে যে, রাজনৈতিক ভাবে উচ্চ মহলে এই সম্পর্ককে মৈত্রীসুলভ চরিত্র দিয়েই ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে ও এমনকি তা মৈত্রী ঘোষণা দিয়েও বর্ণনা করা হয়ে থাকে. দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের সাফল্য দিয়েও এই সহযোগিতার ইচ্ছাকে মজবুত করা হচ্ছে, যা ক্রমাগতই বৃদ্ধি পাচ্ছে. ২০১১ সালে চিন ভারতের মুখ্য পররাষ্ট্র বাণিজ্যিক সহকর্মী দেশ হয়েছে. অন্য দিকে ১৯৬২ সালের যুদ্ধের স্মৃতি এখনও মুছে যায় নি ও এই সম্পর্ককেই বিষাক্ত করে. বিশেষ করে ভারতে, যেখানে দেশের সমাজের অধিকাংশই সেই যুদ্ধে পরাজয় ও নিজেদের এলাকার কিছুটা হারানোর সঙ্গে মন থেকে একমত হতে পারে নি”.

এই বেদনা দায়ক ক্ষত মে মাসে নয়াদিল্লী শহরে চিনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সফরের সময়েও রক্তাক্ত হয়েছিল. তাঁর প্রথম বিদেশ সফর এই মর্মে চিন বিরোধী ধর্ণা বিষন্ন করেছিল, যা বিরোধীরাই আয়োজন করেছিলেন. মিছিলে আসা লোকরা অংশতঃ, ১৯৬২ সালের বিরোধকে এই বছরের বসন্তে সীমান্ত এলাকার ঘটনার সঙ্গেই তুলনা করেছিল. জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের লাদাখ এলাকায় ১৫ই এপ্রিল, বাস্তব নিয়ন্ত্রণ রেখার ভিতরে প্রায় উনিশ কিলোমিটার চলে এসেছিল চিনের বাহিনী ও তারা সেখানে তাঁবু গেড়ে বসেছিল. সশস্ত্র ভারতীয় সেনাদের থেকে মাত্র একশ মিটার দূরেই তারা দাঁড়িয়েছিল, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিয়ে. ভারতীয় সৈন্যরা সেখানে সিয়াচেন এলাকার হিমবাহ প্রহরারত বাহিনীকে রসদ যোগানোর জন্য তৈরী বিমানবন্দর রক্ষা করছিল. এই হিমবাহ ভারত, পাকিস্তান ও চিনের সীমান্তের সন্ধিস্থলে হিমালয়ের উপরে রয়েছে আর তা নয়া দিল্লী ও ইসলামাবাদের মধ্যে এলাকা সংক্রান্ত বিবাদের কারণ হয়ে রয়েছে.

সেই সময়ে সম্ভব হয়েছিল এই ঘটনাকে সামরিক সংঘর্ষে পরিণত হতে না দেওয়া. দুই পক্ষই নিজেদের সামরিক বাহিনীর অংশকে হিমালয়ে বাস্তব ভাবে নিয়ন্ত্রণের রেখা থেকে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল. কিন্তু নতুন করে খোলাখুলি একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় নি.

তা সে যাই হোক না কেন, বাড়তি করে ভারতীয় সেনা বাহিনীর এক বড় অংশকে সীমান্তবর্তী এলাকায় রাখা ও বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যে, দেখাই যাচ্ছে যে, কোন রকমের ভরসা নয়াদিল্লী, ইসলামাবাদ ও বেজিংয়ের মধ্যে বৃদ্ধি করবে না.