আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক “আল-কায়দা” পরিকল্পনা করেছে সিরিয়ার উত্তরের এলাকা থেকে বিরোধী মুক্তি বাহিনীকে কোনঠাসা করার আর সেখানে ঐস্লামিক রাষ্ট্র সৃষ্টির ঘোষণা করার. এই বিষয়ে সিরিয়ার জঙ্গীদের প্রতিনিধি আরব “আশ-শার্ক আল-আউসাত” সংবাদপত্রকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন. সিরিয়ার মুক্তি বাহিনী নিজেদের অবস্থান ঐস্লামিকদের ছেড়ে দিতে রাজী নয়. কিন্তু একই সঙ্গে দুটি ভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ চালানোর ক্ষমতাও তাদের নেই.

সিরিয়ার মুক্তি বাহিনীর যোদ্ধারা নিজেদের অবস্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন. ঐস্লামিকদের কবলে তুরস্ক থেকে আসা অস্ত্র ও রসদের প্রবাহ পড়তে পারে, আর তারই সঙ্গে সিরিয়ার খনিজ তেল ও অন্যান্য বেআইনি ভাবে লুঠ হয়ে যাওয়া জিনিষপত্রের থেকে আয় চলে যেতে পারে “আল-কায়দার” হাতে. এই কথা উল্লেখ করে প্রাচ্য বিশারদ সের্গেই সেরিওগিচেভ বলেছেন:

“সব মিলিয়ে তুরস্কের সরকার বিশেষ করে সেই বাস্তব গোপন করেন নি যে, তারা অস্ত্র সরবরাহ করছেন. শুধু এটাকে তারা নাম দিয়েছেন সিরিয়ার স্বাধীন জনগনকে আসাদের রক্তাক্ত প্রশাসনের সঙ্গে লড়াইতে সহায়তা বলে, আর সভ্য সমাজে এটাকে বলা হয়ে থাকে অস্ত্র পাচার. অস্ত্র ছাড়া সেখানে চালু রয়েছে সাধারন চোরা কারবারও, যে সব জিনিষের চাহিদা রয়েছে যুদ্ধ বিধ্বস্ত এলাকা গুলিতে বহুল পরিমানে – যেমন ওষুধপত্র, খাবার জিনিষ. এই সবই সীমান্তের নির্দিষ্ট এলাকা দিয়ে যাচ্ছে. এই সব জায়গার উপরেই ঐস্লামিকেরা নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে. নিজেদের অধীনে সমস্ত সীমান্ত পার হয়ে আসা যাওয়া বিনিময়ে উপরেই, তারা এটা করতে পারলেই সিরিয়ার জনগনের উপরে প্রভাব ফেলার অস্ত্র হাতে পাবে”.

সিরিয়ার মুক্তি বাহিনীর প্রতিনিধির এই ধরনের সম্ভাবনা পছন্দ হচ্ছে না. অস্ত্র ও অর্থে প্রবাহ থেকে বঞ্চিত হলে, তারা বাসার আসাদের শক্তিকে প্রতিহত করার ক্ষমতা হারাবে. আর সব মিলিয়ে তাদের অস্তিত্ব রক্ষাই আশঙ্কাজনক হয়ে উঠবে. সিরিয়াতে এখন বহু সশস্ত্র গোষ্ঠী যুদ্ধ করছে, যাদের এই দেশের ভবিষ্যত নিয়ে নিজেদের দৃষ্টিকোণ রয়েছে, - এই কথা বিশেষ করে উল্লেখ রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের আরব গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ বরিস দোলগভ বলেছেন:

“প্রশাসন বিরোধী জঙ্গীদের মধ্যে বহু রকমের গোষ্ঠী রয়েছে. তথাকথিত সিরিয়া মুক্তি বাহিনী রয়েছে, যা পশ্চিম ও তুরস্ক রয়েছে ও যারা নিজেদের লক্ষ্য হিসাবে বাশার আসাদের প্রশাসনকে উত্খাত করাই ঠিক করেছে, কিন্তু ঐস্লামিক রাষ্ট্র সৃষ্টি নয়. “আল-কায়দা” দলের সঙ্গে জড়িত গোষ্ঠীও রয়েছে যেমন “ঝেভাত আন-নুসরা”. লেবাননের ঐস্লামিক শক্তির সঙ্গে জড়িত গোষ্ঠীও রয়েছে. ঐস্লামিক গোষ্ঠী গুলির লক্ষ্য – সিরিয়াতে ঐস্লামিক রাষ্ট্র সৃষ্টি করা. তাই সিরিয়ার সশস্ত্র বিরোধী পক্ষের মধ্যে মারামারি চলছে”.

কয়েকদিন আগে এই সব পরস্পর বিরোধ একেবারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে.সিরিয়ার মুক্তি বাহিনীর উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি কামাল হামামি, ঐস্লামিক কট্টরপন্থীদের কেন্দ্রীয় দপ্তরে, তাদের সঙ্গে সম্মিলিত কাজকর্ম নিয়ে আলোচনা করতে এসে, খুন হয়েছেন.

এখন সিরিয়ার মুক্তি বাহিনীর প্রতিনিধিরা ঘোষণা করছেন যে, দেশে ঐস্লামিকদের বাড়াবাড়ি হতে দেবেন না. কিন্তু বোঝাই যাচ্ছে যে, একসাথে দুটি দিকে যুদ্ধ করার মতো শক্তি তাদের নেই. নিজেদের ওপর থেকে মনোযোগ বিক্ষিপ্ত করার চেষ্টা করে, তারা বাশার আসাদের সেনা বাহিনীর মুখ্য আঘাতকে ঐস্লামিক জঙ্গীদের দিকেই পাঠাচ্ছে, - এই রকম মনে করে প্রাচ্য বিশারদ বরিস দোলগভ বলেছেন:

“সিরিয়া সরকারি বাহিনী বিগত সময়ে এক সারি সফল অপারেশন করেছে সমস্ত রকমের জঙ্গীদের বিরুদ্ধেই: সিরিয়ার মুক্তি বাহিনীর বিরুদ্ধে, “ঝেভাত আন-নুসরা” গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে. তারা সেই সব জায়গা থেকে এদের হঠিয়ে দিয়েছে, যেখানে এরা বিভিন্ন সময়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ রেখেছিল. সুতরাং আপাততঃ “আল-কায়দা” কোন একটা রাষ্ট্র তৈরী করতে চাইছে – এটা বিরোধীদের পক্ষ থেকে একটা প্রচার মূলক পদক্ষেপ”.

এরই মধ্যে নিজেদের হিসাব থেকে “আল-কায়দা” গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ ভাবে বাদ দিয়ে দেওয়া বিশ্লেষকরা অভিমত হিসাবে মানতে চান না. অন্যান্য দেশের উদাহরণ – ইরাক, আফগানিস্তান, মালি ইত্যাদি দেখিয়ে দিয়েছে যে, ঐস্লামিক চরমপন্থীরা সেই সমস্ত এলাকাতেই দ্রুত চলে আসে, যেখানে সরকার দুর্বল. সুতরাং সিরিয়াতে টিকে থাকার চেষ্টা মনে তো হয় যে, তারা করবে.