এডওয়ার্ড স্নোডেন রাশিয়ার নাগরিকত্ব চাইতে পারে. সেই রকমের সম্ভাবনাও যে বাদ দেওয়া যেতে পারে না, তা নিয়ে প্রাক্তন সিআইএ কর্মীর পরামর্শদাতা আনাতোলি কুচেরেনা বুধবারে ঘোষণা করেছেন. আপাততঃ স্নোডেন সাময়িক ভাবে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য প্রার্থনা করেছে. এই প্রার্থনা দেশের আইন অনুযায়ী তিন মাসের মধ্যে বিচার করে দেখা হতে পারে. খুব সম্ভবতঃ, স্নোডেন এমনকি রাশিয়া ছেড়ে সেপ্টেম্বর মাসে ওবামার সফরের আগে চলে যেতেও পারে. এই প্রসঙ্গে যেমন ক্রেমলিন, তেমনই হোয়াইট হাউস থেকে আবারও বুঝতে দেওয়া হয়েছে: গুপ্ত সংস্থার এই প্রাক্তন কর্মীর মামলা রুশ-মার্কিন সম্পর্ককে খারাপ করতে পারে না.

সরকারি ভাবে সাময়িক আশ্রয়ের জন্য আবেদন বিবেচনা করা হয়ে থাকে পাঁচ দিন থেকে তিন মাসের মধ্যে. সম্ভবতঃ এটা সেই কারণেই করা হয়েছিল যে, পলাতকের মর্যাদা পাওয়ার চেয়ে এই ভাবে আবেদন করলে, তা সাধারণতঃ বেশী দ্রুততার সঙ্গেই দেখা হয়ে থাকে.

এডওয়ার্ড স্নোডেনের আমেরিকার পাসপোর্ট আজ কয়েক সপ্তাহ হতে চলল বাতিল হয়ে গিয়েছে. কিন্তু সাময়িক আশ্রয়ে থেকে সে নতুন কোন ডক্যুমেন্ট তৈরী করার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করতেই পারে, কারণ রাশিয়া সেই ক্ষেত্রে হবে তার সাময়িক ভাবে থাকার দেশ. আর এখানে এই মর্যাদায় সে থাকতে পারে এক মাস থেকে ছয় মাস অবধি, তার মধ্যে সময় সীমা বাড়ানো যেতেই পারে, এই বিষয়ে রাষ্ট্রীয় অভিবাসন পরিষেবার সামাজিক সভার সভাপতি ভ্লাদিমির ভোলখ ব্যাখ্যা করে বলেছেন:

“এটা সহজ কাজ নয়. এখানে সেই সমস্ত ডক্যুমেন্ট বিচার করে দেখা হবে যে, সে সত্যই তাকে অনুসরণ করার ভয় পাচ্ছে, নিজের জীবনের ভয় পাচ্ছে. সুতরাং আমি মনে করি যে, তিন মাস অবধি – এটা বাস্তব সময় সীমা. যদি প্রয়োজন পড়ে, তবে তা ছয় মাস অবধি বাড়ানো যেতে পারে. প্রসঙ্গতঃ, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে, সাধারণতঃ, এই সময়ের মধ্যেই সাময়িক আশ্রয় দেওয়া বা পলাতকের আখ্যা দেওয়ার মতো বিষয়ে বিবেচনা করা হয়ে থাকে”.

ক্রেমলিনে বুঝতে দেওয়া হয়েছে যে, এই বিবেচনার সময় সীমা নিয়ে কোন রকমের সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই: এই কাজ করছে রাষ্ট্রীয় অভিবাসন পরিষেবা, আর এখানে কোন রকমের কৃত্রিম ভাবে প্রক্রিয়া সহজ করে দেওয়ার কথা হচ্ছে না. আর তা করার কি দরকারই বা রয়েছে, কারণ হোয়াইট হাউস মঙ্গলবারেই সমর্থন করে বলেছে যে, মস্কো শহরে ওবামার সফরের উপরে স্নোডেনের ঘটনা কোনও প্রভাব ফেলবে না. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি নিজের পক্ষ থেকে ঘোষণা করেছেন যে, এই ঘটনার যাই পরিণতি হোক না কেন, মস্কো ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক এর থেকে কোন ভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত্ নয়, তিনি বলেছেন:

“আমরা মিস্টার স্নোডেনকে সাবধান করে দিয়েছি যে, তার যে কোনও রকমের কাজ, যা রাশিয়া- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর হতে পারে, তা আমাদের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়. আমি খুব একটা বুঝতে পারছি না, কেন সে এই রকমের একটা কাণ্ড করতে গেল, কিন্তু এটা তার ভাগ্য, তারা বাছা কাজ. আমাদের নিজেদের রাষ্ট্র সংক্রান্ত কাজ কারবার রয়েছে, তার মধ্যে রুশ- মার্কিন সম্পর্ক তৈরী করা নিয়েও. আমার দৃষ্টিকোণ থেকে বিশেষ পরিষেবার কাজ কারবার নিয়ে মারামারির চেয়ে আন্তর্রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ”.

মনে হতে পারে যে, এবারে সমস্ত কথাবার্তার পালা শেষ হয়েছে – দুই দেশের নেতারা তৈরী রয়েছেন, সাময়িক ভাবে হলেও সম্মিলিত লক্ষ্য সাধনের জন্য আলাদা বিষয়ে চোখ বন্ধ করে থাকতে. তা স্বত্ত্বেও, কিছু আমেরিকার কংগ্রেস সদস্য এখানেও বাড়তি পয়েন্ট রোজগার করে নিতে ছাড়েন নি, তারা সোচী অলিম্পিক বয়কট করতে আহ্বান করেছেন, যদি মস্কো স্নোডেনকে মার্কিন সরকারের হাতে তুলে দিতে রাজী না হয়. প্রসঙ্গতঃ এত কট্টরপন্থী মতকে এক বিখ্যাত রুশ আতঙ্কে ভোগা ব্যক্তিও সমালোচনা না করে পারেন নি – তিনি সেনেটর জন ম্যাকেইন, যিনি অলিম্পিক বয়কট করার সবচেয়ে নেতিবাচক পরিণামের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন, যা বিগত শতকে প্রায়ই অনুশীলন করা হয়েছিল.