রাশিয়ার সমাজবিদেরা একটা প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ করেছেন, বিষয় ছিল রাষ্ট্রের কোন খাতে প্রাথমিক ভাবে অর্থ ব্যয় করা উচিত্. তাতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ২২৫টি জনপদে প্রাপ্তবয়স্ক উত্তরদাতারা অংশ নিয়েছেন. বড় করে দেখানো নটি মুখ্য বাজেট ব্যয় বরাদ্দের শ্রেনী বিভাগের মধ্যে মাত্র তিনটিকেই নাগরিকরা বেছে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন.

দেখা গেল যে, রাশিয়ার অর্থনৈতিক ভাবে সক্রিয় লোকদের মধ্যে অর্ধেকের বেশী নিজেদের মুখ্য রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের মধ্যে মনে করেন শিক্ষা খাতে খরচের কথা. তাঁদের মতে, শিক্ষা হওয়া উচিত্ সম্পূর্ণ ভাবে বিনামূল্য ও সহজলভ্য বিষয়. দ্বিতীয় স্থানে এই প্রশ্নোত্তরে অংশগ্রহণকারীর রেখেছেন স্বাস্থ্য সংরক্ষণ ও ক্রীড়াকে. – রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে এই খাতে নির্বাচন দিয়েছেন শতকরা ৪৮ ভাগ উত্তরদাতা. সামাজিক নীতিতে বিনিয়োগ – অর্থাত্ পেনশন ও অন্যান্য ভাতা হিসাবে খরচের জন্য রায় দিয়েছেন শতকরা তিরিশ ভাগ রুশ লোক. আর সামরিক ব্যয় বরাদ্দ ও শৃঙ্খলা রক্ষা খাতে খরচের পক্ষে প্রাথমিক প্রয়োজনীয়তা হিসাবে রায় দিয়েছেন শুধু প্রতি পঞ্চম উত্তরদাতা. এটা এমনকি দেশের ঘরবাড়ী সংক্রান্ত বিষয়ে সংস্কারের বিষয়ে যাঁরা রায় দিয়েছেন, তাঁদের চেয়েও কম সংখ্যায়.

বাস্তবে রাশিয়ার করদাতাদের অর্থ প্রশাসন অন্য ভাবেই ব্যয় করে থাকে. ২০১৩ সালের বাজেটে প্রশাসন প্রাথমিক ভাবে ব্যয় করছে সামাজিক নীতির খাতে, তার মধ্যে পেনশন ও ভাতাও রয়েছে. দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে - জাতীয় প্রতিরক্ষা বিষয়ে ব্যয়, তৃতীয় স্থানে রয়েছে – জাতীয় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে ব্যয়.

শিক্ষা খাতে ও স্বাস্থ্য সংরক্ষণের জন্য রাশিয়াতে সব মিলিয়ে জাতীয় গড় উত্পাদনের প্রায় শতকরা সাত শতাংশ ব্যয় করা হচ্ছে. এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, বেশীর ভাগ ইউরোপীয় সঙ্ঘের দেশ এমনকি স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহের অনেক দেশের থেকেই কম. এমনকি তা হচ্ছে, যখন স্বাস্থ্য ও শিক্ষা -আমাদের দেশের শিশুদের উপরেই বিনিয়োগ ও জাতির ভবিষ্যতের প্রশ্ন, এই রকম মনে করে স্ট্র্যাটেজিক বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ইগর নিকোলায়েভ বলেছেন:

“বাজেট বরাদ্দ বিষয়ে যে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মত পার্থক্য রয়েছে, যা নিয়ে আজ জনগন বলছেন, তা ব্যাখ্যা করা যেতেই পারে. মানুষ স্বাভাবিক ভাবেই প্রাথমিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকেই আনবেন. যেহেতু – এটা ভবিষ্যতের প্রশ্ন. এটা তা, যা মানুষকে প্রাথমিক ভাবে চিন্তিত করে. এটা সেই বিষয়, যার সঙ্গে তাঁরা প্রত্যহই মুখোমুখি হচ্ছেন আর সেই বিষয়, যা তাঁদের মতে, মোটেও সন্তোষজনক অবস্থায় নেই”.

বোঝাই যাচ্ছে দেশের নেতৃত্ব অন্য রকম ভাবে গুরুত্ব ভেবে থাকেন. তাঁদের চিন্তিত করে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রশ্ন, বিশ্বের মঞ্চে মর্যাদার প্রশ্ন, নিজেদের রক্ষা নিজেদের করার ক্ষমতার প্রশ্ন. এখান থেকেই প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা রক্ষার ও অর্থনীতির মজবুত হওয়ার জন্য বিপুল পরিমানে অর্থ ব্যয়ের বিষয় আসে.

কিন্তু যদি আগে চিকিত্সা ক্ষেত্রে অভাবের বিষয়ে জনতার অসন্তোষ থাকতে পারতো, কিন্তু তা কোন রকমের গুরুতর পরিণামে পরিণত হতে পারতো না, তবে বর্তমানে বিশ্বের প্রবণতাই সেই রকমের যে, সামাজিক অসন্তোষকে আর উপেক্ষা করা যাচ্ছে না. তা খুব সহজেই গণ বিক্ষোভে পরিণত হচ্ছে. বাস্তবে বর্তমানের জীবনই প্রশাসকে বাধ্য করেছে বেশী করে জনগনের মতামত শুনতে ও নিজেদের নীতি সংশোধন করতে. আর যদি প্রশাসনের কাছে সমাজের প্রাথমিক প্রয়োজনের জন্য যথেষ্ট অর্থ না থাকে, তবে তাদের উচিত্ হবে সমাজের চাহিদা পূরণের ক্ষেত্র গুলিতে, এমন একটা পরিস্থিতি তৈরী করে দিতে ব্যক্তিগত ভাবে বিনিয়োগকারীদের প্রতি, যাতে তাঁরা সেখানে বিনিয়োগের জন্য উত্সাহী হতে পারেন.