বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনা মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সোমবার ট্রাইব্যুনাল তাঁকে ৯০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক বিচার হিসেবে পরিনত হয়েছে যা দেশটিতে নতুন করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এমনটি মনে করছেন আমাদের পর্যবেক্ষক সের্গেই তেমিন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদাহরণ সেক্ষেত্রে তুলে ধরা যেতে পারে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা এবং এরপরে শান্তিময় পরিবেশ বজায় রাখা অনেকটা কষ্টসাধ্য কাজ এবং অনেক অর্থে এর সামাধান সম্ভব নয়।

সের্গেই তেমিন বলছেন, "১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন অন্যতম ভূমিকা পালন করেছিলেন ৯১ বছর বয়সী গোলাম আযম। গতকাল ট্রাইব্যুনাল যখন তাঁর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করে তখন হুইল চেয়ারে বসে তা শুনছিলেন গোলাম আযম। রায় ঘোষণার পর তাঁর মুখের অবয়বের কোন পরিবর্তিন ঘটেনি। তাঁর বিরুদ্ধে প্রমানিত অভিযোগ পাঁচটি হলো ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা, উসকানি, সংশ্লিষ্টতা এবং হত্যা ও নির্যাতন।"

শুধুমাত্র তাঁর বয়স বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনাল তাঁকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তিন দশকেরও বেশি সময় জামায়াতে ইসলামীর আমির হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীকে জীবনের বাকি দিনগুলো কারাঘরে কাঁটাতে হবে।

বাংলাদেশ সরকার ও স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী সংগঠন গোলাম আযমের কর্মকান্ডকে বিভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। কারো জন্য গোলাম আযম হচ্ছে রক্তময় আঙ্গুল কিংবা দক্ষিণ এশিয়ার হিটলার। অন্যদের জন্য তিনি হচ্ছেন মহান বীর যিনি কিনা যে কোন মূল্যে দেশকে বিভক্ত হওয়া থেকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে সের্গেই তেমিন বলেছন, "যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া একদিকে আজকের বাংলাদেশ সরকার এর জন্য মর্যাদা পাওয়ার দাবী রাখে। অন্যদিকে বিরোধী জোট যারা বরাবরই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে রাজনৈতিক উদ্দ্যেশ্য বলে জানিয়ে আসছে সরকার তাদের কথায় বিচারকার্য বন্ধ করেনি।"

আদালতের নিয়ম হচ্ছে বিজয়ীকে নির্ধারন করা। আর বিচারের পরবর্তি ঘটনা হচ্ছে গনআন্দোলন। কয়েক হাজার মানুষ যখন রাস্তায় বিক্ষোভ করে এবং পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। আবারও রক্তপাত। পুরানো সংকটে নতুন প্রাণহানি ঘটে। গতকাল রায় ঘোষণার পর পরই পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে দেশে ৫ জন নিহত হয়েছে।

সামগ্রিক দিক দিয়ে বাংলাদেশর পরিস্থিতি স্বার্বজনীন বিশ্ব গতিমুখী এগিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া তা নতুন মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের পথ তৈরী করে দেয়। আর অনেক দেশেই তা বিপরীত চিত্রপট নিয়ে এসেছে। এরপরে শান্তিময় পরিবেশ বজায় রাখা অনেকটা কষ্টসাধ্য হয়ে পরে। পিছনে ফেলে আসা রক্তাক্ত অধ্যায় যেন শেষ হতে চায় না।

এর প্রমাণ মিলিছে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পরই।